
Future Household Expenses: আজ যে সংসার মাসে ২৫ হাজার টাকায় কোনওমতে চলছে, আগামী দশ বছরে সেই একই সংসার চালাতে অনেক বেশি টাকার দরকার হবে। এটুকু সবাই মোটামুটি জানেন। কিন্তু ঠিক কতটা বেশি লাগতে পারে? মুদ্রাস্ফীতির স্বাভাবিক নিয়মেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়তে থাকে। তাই ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন থেকেই পরিকল্পনা করা জরুরি বলেই মত অর্থনীতিবিদদের।বর্তমানে একটি ছোট বা মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক খরচ যদি ২৫ হাজার টাকা হয়, তবে সেই খরচের বড় অংশই যায় খাবার, বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, চিকিৎসা, পড়াশোনা ও যাতায়াতের মতো প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রতিটি ক্ষেত্রেই খরচ বাড়ে। বিশেষ করে শিক্ষা ও চিকিৎসার খরচ দ্রুত বাড়ে। এটাই দীর্ঘদিনের ট্রেন্ড। খরচ সাধারণত কমে না।
এবার আসল হিসাবটা বোঝা যাক। একেবারে সহজভাবে। যদি ধরা হয়, আগামী ১০ বছরে গড় মুদ্রাস্ফীতির হার বছরে প্রায় ৬ শতাংশ থাকে, তাহলে আজকের ২৫ হাজার টাকার মাসিক খরচ বেড়ে দাঁড়াতে পারে প্রায় ৪৫ হাজার টাকার কাছাকাছি। অর্থাৎ একই জীবনযাত্রা বজায় রাখতে প্রায় ৭৫-৮০ শতাংশ বেশি খরচ লাগবে। মুদ্রাস্ফীতি যদি আরও বাড়ে, তাহলে এই অঙ্ক আরও বেড়ে যেতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মুদ্রাস্ফীতি ধীরে ধীরে টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। অর্থাৎ আজ ২৫ হাজার টাকায় যা কেনা যায়, কয়েক বছর পরে সেই একই জিনিস কিনতে অনেক বেশি টাকা লাগবে। তাই শুধু বর্তমান আয়ের উপর নির্ভর করলে ভবিষ্যতে আর্থিক চাপ বাড়তে পারে।
এই পরিস্থিতিতে কী করা উচিত? আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত সঞ্চয়ের পাশাপাশি বিনিয়োগ করা খুবই জরুরি। এমন জায়গায় টাকা রাখা দরকার, যেখানে রিটার্ন মুদ্রাস্ফীতির চেয়ে বেশি হতে পারে। যেমন—দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, মিউচুয়াল ফান্ড, পিপিএফ বা অন্যান্য সঞ্চয় প্রকল্প।
একই সঙ্গে পরিবারের বাজেট তৈরির সময় আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ আলাদা করে সঞ্চয়ের জন্য রাখা উচিত। জরুরি তহবিল তৈরি করাও খুব দরকার। কারণ হঠাৎ অসুখ, চাকরি চলে যাওয়া বা অন্য কোনও সমস্যায় এই ফান্ড বড় সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো এবং ধীরে ধীরে সঞ্চয়ের পরিমাণ বাড়ানো খুব গুরুত্বপূর্ণ। ছোট ছোট সঞ্চয়ও ভবিষ্যতে বড় সহায়তা করতে পারে।
সব মিলিয়ে একটা বিষয় স্পষ্ট। সময়ের সঙ্গে খরচ বাড়বেই। তাই আজ ২৫ হাজার টাকায় যে সংসার চলছে, ১০ বছর পরে সেই একই সংসার চালাতে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা লাগতে পারে। এখন থেকেই যদি পরিকল্পনা না করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে সমস্যায় পড়তে হতে পারে।