
Monthly Income Plan 2026: হঠাৎ করে হাতে একলপ্তে ৫ লাখ টাকা চলে এলে তা দিয়ে ভবিষ্যৎ সুরক্ষার পাশাপাশি প্রতি মাসে একটা নিশ্চিত আয়ের পথ তৈরি করা সত্যিই এক চমৎকার পরিকল্পনা। সাধারণ গণিতের হিসেব অনুযায়ী প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা তুলতে গেলে বছরে ৬০ হাজার টাকা আয়ের প্রয়োজন হয় যা মূল পুঁজির ওপর ঠিক ১২ শতাংশ বার্ষিক রিটার্ন দাবি করে।
বর্তমানে বাজারে প্রচলিত বন্ড, পি২পি বা মিউচুয়াল ফান্ডের মতো বিভিন্ন বিনিয়োগের মাধ্যমে সামান্য বা হালকা ঝুঁকি নিয়েই এই লক্ষ্য পূরণ করা অনায়াসে সম্ভব। সুরক্ষিত উপায়ে প্রতি মাসে এই টাকা রোজগার করার জন্য ৩টি সেরা এবং আধুনিক বিনিয়োগের পথ খোলা রয়েছে সাধারণ মানুষের কাছে।
প্রথম পথটি হলো অত্যন্ত জনপ্রিয় মিউচুয়াল ফান্ডের এসডব্লিউপি বা সিস্টেমেটিক উইথড্রয়াল প্ল্যান। এই পদ্ধতিতে ৫ লাখ টাকা একটি ভালো কনজারভেটিভ হাইব্রিড ফান্ড বা ইকুইটি সেভিংস ফান্ডে ল্যাম্পসাম বিনিয়োগ করে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা প্রতি মাসে তোলার নিয়ম চালু করে দেওয়া যায়। এই ফান্ডগুলি সাধারণত গ্রাহকের বিনিয়োগের বড় অংশ নিরাপদ ডেট বা বন্ডে রাখে এবং সামান্য অংশ শেয়ার বাজারে খাটায় যার ফলে ঝুঁকির পরিমাণ এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে যায়। যদি এই ফান্ডটি দীর্ঘমেয়াদে ১০ থেকে ১২ শতাংশ রিটার্ন দিতে পারে তবে মূল ৫ লাখ টাকা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রেখে প্রতি মাসের একটি নির্দিষ্ট তারিখে মিউচুয়াল ফান্ড কোম্পানি সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৫ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেবে।
দ্বিতীয় পদ্ধতিটি হলো উইন্ট ওয়েলথ বা জিরাফের মতো আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সিকিউরড কর্পোরেট বন্ড বা কভার্ড বন্ডে বিনিয়োগ করা। মাঝারি ঝুঁকির এই প্ল্যাটফর্মগুলিতে অনায়াসে ১০ থেকে ১১.৫ শতাংশ পর্যন্ত নির্দিষ্ট সুদের হার পাওয়া যায়। বিনিয়োগ করার সময় শুধুমাত্র মান্থলি পে-আউট বন্ড বেছে নিলেই প্রতি মাসে সুদের টাকা অ্যাকাউন্টে চলে আসে। উদাহরণ হিসেবে ১০.৫ শতাংশ রিটার্ন পাওয়া গেলে প্রতি মাসে প্রায় ৪ হাজার ৩৭৫ টাকা নিশ্চিতভাবে পকেটে আসবে এবং বাকি সামান্য টাকা মূল পুঁজি থেকে ভাঙতে হলেও এই বন্ডগুলি বিনিয়োগকারীর নিজস্ব ডিম্যাট অ্যাকাউন্টে থাকায় অত্যন্ত সুরক্ষিত থাকে।
তৃতীয়ত যদি এই টাকাটি পরিবারের কোনো প্রবীণ সদস্য বা প্রবীণ বাবা-মায়ের নামে রাখা সম্ভব হয় তবে সরকারি স্কিমের চেয়ে নিরাপদ আর কিছুই হতে পারে না। পোস্ট অফিস মান্থলি ইনকাম স্কিম বা পিওএমআইএস-এ ২০২৬ সালের বর্তমান রেট অনুযায়ী প্রায় ৭.৪ শতাংশের কাছাকাছি নিশ্চিত রিটার্ন পাওয়া যাচ্ছে। এই সরকারি প্রকল্পে কোনো ঝুঁকি ছাড়াই ৫ লাখ টাকা জমা রাখলে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকার বেশি নিশ্চিত আয় সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে আসবে। সুতরাং বুদ্ধি খাটিয়ে সঠিক জায়গায় সঠিক পরিকল্পনা করে টাকা বিনিয়োগ করতে পারলে প্রতি মাসের খরচের একটি বড় অংশ অনায়াসে উঠে আসতে পারে।
(এটি সাধারণ আলোচনার জন্য লেখা কপি। আজতক বাংলা কোনও ইনভেস্টমেন্টের পরামর্শ দেয় না। কোনও লগ্নি করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন)