
ভারতের ফিন্যান্স সিস্টেমে ব্যাঙ্ক আমানত, শেয়ার, বিমা এবং পেনশন ফান্ডের মতো ক্ষেত্রগুলিতে আনক্লেইমড অ্যামাউন্ট বেড়েই চলেছে। বর্তমানে এই অর্থের কোনও দাবিদার নেই। তবে, কীভাবে এই অর্থ পাওয়া যাবে এবং কী পদক্ষেপ নিতে হবে, সে সম্পর্কে অনেকেরই সঠিক ধারণা নেই।
এই অর্থ সরকারের কাছে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত আছে, যা শুধু আবেদনকারীদের জন্য অপেক্ষা করছে। আপনিও এই অর্থ দাবি করতে পারেন। আপনি যোগ্য হলে, এটি গ্রহণ করতে পারবেন। দাবি করার জন্য বৈধ কাগজপত্র প্রয়োজন। সহজ কথায়, যদি আপনার পরিবারের কোনও সদস্য পিএফ, ব্যাঙ্ক, শেয়ার বাজার, বিমা এবং অন্যান্য আর্থিক অ্যাকাউন্টে টাকা রেখে থাকেন, যা এখনও দাবি করা হয়নি, তাহলে আপনি সেই টাকা দাবি করার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন এবং বৈধ কাগজপত্র দেখিয়ে টাকা তুলে নিতে পারেন।
প্রক্রিয়াটি কীভাবে করতে হবে?
প্রথম ধাপ হলো আপনার টাকা কোথায় আছে তা খুঁজে বের করা। এমন কোনও একক প্ল্যাটফর্ম নেই যা সব ধরনের দাবিহীন অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে, তাই আপনাকে একাধিক ডেটাবেস পরীক্ষা করতে হবে। ব্যাঙ্ক ডিপোজিট দিয়ে শুরু করুন, তারপর শেয়ার ও ডিভিডেন্ড দেখুন, এবং এরপর ইপিএফ ও ইন্স্যুরেন্সের দিকে নজর দিন।
ব্যাঙ্ক ডিপোজিটের ক্ষেত্রে, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের উদগম (UDGAM) পোর্টাল আপনাকে নাম, প্যান (PAN) বা জন্ম তারিখের মতো সাধারণ তথ্য ব্যবহার করে একাধিক ব্যাঙ্কে দাবিহীন ফান্ড খোঁজার সুযোগ দেয়। যদি কোনও মিল খুঁজে পাওয়া যায়, তাহলে ব্যাঙ্ক এবং শাখার বিবরণ লিখে রাখুন। শেয়ার এবং ডিভিডেন্ডের জন্য, আইইপিএফ (IEPF) ওয়েবসাইটটি দেখুন, যেখানে কোম্পানিগুলো একটি নির্দিষ্ট সময় ধরে নিষ্ক্রিয় থাকার পর ট্রান্সফার হওয়া দাবিহীন অ্যামাউন্টের বিবরণ আপলোড করে থাকে।
অবশিষ্ট পিএফ অ্যামাউন্ট
আপনার পিএফ ব্যালেন্স চেক করতে, আপনার ইউএএন (UAN) ব্যবহার করে ইপিএফও (EPFO) পোর্টালে লগ ইন করুন। ইনকর্পোরেটেড অ্যাকাউন্টগুলোও অনলাইনে দেখা এবং দাবি করা যায়। ইন্স্যুরেন্সের জন্য, ইন্স্যুরেন্স প্রদানকারীর ওয়েবসাইটে যান অথবা দাবিহীন পলিসিগুলো খুঁজে দেখতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দেওয়া সেন্ট্রালাইজড অনুসন্ধান সুবিধাটি ব্যবহার করুন।
এরপর কী করতে হবে?
দাবিহীন অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করার পর, পরবর্তী পদক্ষেপ হলো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে একটি দাবি দাখিল করা। ব্যাঙ্ক ডিপোজিটের ক্ষেত্রে, আপনাকে অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত ব্যাঙ্ক শাখায় যেতে হবে। আপনাকে একটি পরিচয়পত্র, ঠিকানার প্রমাণপত্র এবং অ্যাকাউন্ট-সম্পর্কিত কাগজপত্র জমা দিতে হবে। যদি অ্যাকাউন্টধারী মারা গিয়ে থাকেন, তাহলে ডেথ সার্টিফিকেট বা উত্তরাধিকার সার্টিফিকেটের মতো আইনি নথিপত্রের প্রয়োজন হবে।
আনক্লেইমড পিএফ-এর টাকা তোলার জন্য, সমস্ত প্রয়োজনীয় কেওয়াইসি (KYC) শর্ত পূরণ করার পর সরাসরি ইপিএফও (EPFO) পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে একটি ইপিএফ (EPF) আবেদন করা যেতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, আবেদন প্রক্রিয়ার সময় আধার, প্যান এবং ব্যাঙ্কের বিবরণ লিঙ্ক করা বাধ্যতামূলক। ক্ষেত্রবিশেষে, বিমা ক্লেমের জন্য পলিসির বিবরণ, পরিচয়পত্র এবং নমিনি ব্যক্তি বা আইনি উত্তরাধিকারীর যাচাইকরণের প্রয়োজন হয়।
বেশিরভাগ মানুষ কোথায় আটকে যায়?
সবচেয়ে বড় বাধা হলো কাগজপত্র। অনেক অ্যাকাউন্টই অপ্রমাণিত থেকে যায় কারণ তাদের কেওয়াইসি (KYC) তথ্য পুরনো হয়ে যায়, ঠিকানা পরিবর্তিত হয়, অথবা অ্যাকাউন্টধারী মারা যান এবং তাদের নমিনেশন সঠিকভাবে করা হয় না। এই ধরনের ক্ষেত্রে, প্রতিষ্ঠানগুলো আইনি উত্তরাধিকারীর সার্টিফিকেট বা বন্ডের মতো নথিপত্র চেয়ে থাকে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থাকা সত্ত্বেও, প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি সহজ নয়। সম্পদ শনাক্ত করা কেবল প্রথম ধাপ। যাচাইকরণ, নথিভুক্তকরণ এবং অনুমোদনে এখনও সময় লাগে এবং বারবার পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হয়।
এখন আপনার কী করা উচিত
প্রথমে UDGAM পোর্টালের মাধ্যমে একে একে সমস্ত বিভাগ যাচাই করুন, প্রথমে ব্যাঙ্ক ডিপোজিট এবং তারপর শেয়ার, ইপিএফ ও ইন্স্যুরেন্স দেখুন। নিশ্চিত করুন যে আপনার সমস্ত অ্যাকাউন্টে কেওয়াইসি (KYC) তথ্য আপডেট করা আছে এবং নমিনেশনগুলি রেজিস্ট্রেড হয়েছে। পরিবারের ক্ষেত্রে, আর্থিক সম্পদের একটি সমন্বিত হিসাব রাখা এই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।