
প্যান কার্ড বানানোর জন্য এখন আর টাকা খরচ করার প্রয়োজন নেই। এমনকী দিনের পর দিন অপেক্ষাও করতে হবে না। বরং আপনি তৎক্ষণাৎ বানিয়ে ফেলতে পারেন প্যান কার্ড। ভাবছেন কী বলছি? তাহলে শুনুন, দেশের ইনকাম ট্যাক্স বিভাগ ইনস্ট্যান্ট ই-প্যান কার্ড বানানোর সুবিধা এনেছে। এর মাধ্যমে ঘরে বসেই দ্রুত প্য়ান নম্বর পেয়ে যাবেন। সেটা ব্যবহার করতে পারবেন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলতে বা ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন ফাইল করতে।
মাথায় রাখতে হবে, আগে প্যান কার্ড বানাতে অনেকটা সময় লাগত। আবেদন করার পর অনেক দিন বসে থাকতে হতো। তারপর বাড়ি আসত ফিজিক্যাল কার্ড। কিন্তু এখন আর অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। এখন ডিজিটালি প্যান কার্ড খুব সহজেই পাওয়া যাবে। একদম ইনস্ট্যান্ট পাবেন ই-কার্ড। আর এই কার্ড বানাতে কোনও টাকা লাগবে না।
কারা বানাতে পারেন ইনস্ট্যান্ট ই-প্যান?
যাঁরা এতদিন প্যান কার্ড করেননি ও যাঁদের কাছে প্যান নম্বর নেই, তাঁরা এই কার্ড বানাতে পারবেন। এছাড়া আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ১৮ বছরের বেশি। আরও একটা জরুরি শর্ত রয়েছে, এক্ষেত্রে আধার নম্বরের সঙ্গে মোবাইল নম্বরের লিঙ্ক থাকতে হবে। কারণ, ই-প্যানের জন্য অ্যাপ্লাই করার সময় আধারের সঙ্গে লিঙ্ক থাকা মোবাইল নম্বরে ওটিপি আসবে। সেটা দেওয়ার পরই হবে হবে ই-কার্ড।
কী কী ডকুমেন্ট প্রয়োজন হবে?
ইনস্ট্যান্ট ই-প্যান কার্ড বানানোর জন্য কয়েকটি ডকুমেন্ট প্রয়োজন, যেমন ধরুন-
১. বৈধ আধার কার্ড
২. আধারের সঙ্গে লিঙ্ক করা মোবাইল নম্বর
৩. ডিজিলকারের অ্যাক্সেস
৪. জন্ম তারিখের প্রমাণপত্র
এক্ষেত্রে ডেট অব বার্থ নিশ্চিত করার জন্য মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড বা বার্থ সার্টিফিকেট লাগবে। এছাড়া ডিজিলকারের অ্যাক্সেস প্রয়োজন হতে পারে কেওয়াইসি করার জন্য।
কীভাবে ঘরে বসেই বানাবেন ইনস্ট্যান্ট ই-প্যান কার্ড?
১. সবার প্রথমে ইনকাম ট্যাক্সের ই-ফাইলিং পোর্টালে যান
২. হোমপেজে পেয়ে যাবেন কুইক লিঙ্ক, সেখানে ইনস্ট্যান্ট ই-প্যান বিকল্প বেছে নিন
৩. এরপর গেট নিউ ই-প্যান কার্ডে ক্লিক করুন
৪. এবার নিজের ১২ অঙ্কের আধার নম্বর দিতে হবে
৫. তারপর ডিক্লিয়ারেশন বক্সে টিক করে কন্টিনিউ করুন
৬. এই সময় আপনার আধারের সঙ্গে যুক্ত মোবাইলে একটা ওটিপি আসবে
৭. সেই ওটিপি দিন
ডিজিলকারে কী হবে?
ওটিপি ভেরিফিকেশনের পর সিস্টেম আপনাকে ডিজিলকারে নিয়ে যাবে। এখান থেকে জন্মের তারিখ এবং কেওয়াইসি ভেরিফাই হবে।
আবেদন সাবমিট করার আগে অবশ্যই একবার চেক করুন
সব প্রসেস শেষ করার পর আবার একবার সব তথ্য যাচাই করুন। নিজের নাম, জন্মের তারিখ এবং ফটো দেখতে পাবেন। সেগুলি চেক করে নিন। সব কিছু ঠিক থাকলে সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন। আবেদন সাবমিট হওয়ার পর পেয়ে যাবেন অ্যাকনলেজমেন্ট নম্বর। এটা রেখে দিন।
এতে কী টাকা লাগবে?
ইনস্ট্যান্ট ই-প্যান কার্ড বানাতে কোনও টাকা লাগবে না। ঘরে বসেই এটা করে ফেলা যাবে।
ই-প্যান আর ফিজিক্যাল প্যান এক জিনিস?
একবারেই এক জিনিস। তাই এই নিয়ে চিন্তা করবেন না।