
How to Reduce Electricity Bill in Summer: গরম পড়লেই বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ে। ফ্যান, এসি, ফ্রিজ; সব মিলিয়ে মাসের শেষে ইলেকট্রিক বিল দেখে চমকে ওঠেন অনেকেই। কিন্তু একটু সচেতন হলেই এই খরচ অনেকটাই কমানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সহজ অভ্যাস বদলালেই বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা যায়, তাও আবার কোনও বাড়তি খরচ ছাড়াই।
প্রথমেই নজর দিতে হবে এসি ব্যবহারের দিকে। অনেকেই মনে করেন, তাপমাত্রা যত কম রাখা হবে, তত বেশি ঠান্ডা পাওয়া যাবে। কিন্তু বাস্তবে ২৪-২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এসি চালালেই ঘর যথেষ্ট ঠান্ডা থাকে এবং বিদ্যুৎ খরচও কম হয়। ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি ব্যবহার করলে আরও সাশ্রয় সম্ভব, কারণ এই প্রযুক্তি কম্প্রেসরের গতি নিয়ন্ত্রণ করে বিদ্যুতের ব্যবহার কমিয়ে দেয়।
ফ্যানের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। নতুন প্রযুক্তির বিএলডিসি (BLDC) ফ্যান সাধারণ ফ্যানের তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ খরচ করে। দিনে দীর্ঘ সময় ফ্যান চালালে এই পরিবর্তন বিলের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বাড়ির আলোতেও বড় সাশ্রয়ের সুযোগ রয়েছে। এলইডি বাল্ব ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ খরচ অনেকটাই কমে যায়। প্রচলিত ইনক্যান্ডেসেন্ট বা সিএফএল বাল্বের তুলনায় এলইডি কম বিদ্যুৎ খরচ করে এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়।
ফ্রিজ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। বারবার দরজা খোলা-বন্ধ করলে ভিতরের ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে যায়, ফলে কম্প্রেসরকে বেশি কাজ করতে হয়। এর ফলে বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়। তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে ফ্রিজ খোলা এড়ানো উচিত।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল স্ট্যান্ডবাই পাওয়ার। অনেক ইলেকট্রনিক যন্ত্র বন্ধ থাকলেও প্লাগ ইন অবস্থায় কিছু বিদ্যুৎ খরচ করে। টিভি, চার্জার, মাইক্রোওয়েভ; এই সব যন্ত্র ব্যবহার না করলে সুইচ বন্ধ করে রাখা উচিত।
প্রযুক্তিগত ভাবে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের মূল ধারণা হল ‘এনার্জি এফিশিয়েন্সি’। অর্থাৎ, কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে একই কাজ করা। আজকাল অনেক যন্ত্রে ‘স্টার রেটিং’ দেওয়া থাকে, যা দেখে বোঝা যায় কোন যন্ত্র কতটা এনার্জি-এফিশিয়েন্ট। বেশি স্টার রেটিং মানে কম বিদ্যুৎ খরচ।
প্রাকৃতিক উপায়েও বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা যায়। দিনের বেলায় জানালা খুলে প্রাকৃতিক আলো ও হাওয়া ব্যবহার করলে ফ্যান বা লাইট কম ব্যবহার করতে হয়। ঘরে হালকা রঙের পর্দা বা দেয়াল ব্যবহার করলে তাপ কম ধরে।
সব মিলিয়ে, গরমকালে ইলেকট্রিক বিল কমানো কঠিন নয়। শুধু কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললেই খরচ কমে আসবে। সচেতন ব্যবহারই পারে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে এবং একই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষাতেও সাহায্য করতে।