
টাকা উপার্জন করা সহজ, কিন্তু তা সঞ্চয় করা এবং সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করে তা বৃদ্ধি করাই আসল। নতুন চাকরিতে যোগদানকারীদের জন্য কীভাবে বিনিয়োগ করবেন তা জানা জরুরি। চলুন জেনে নেওয়া যাক, আপনার বেতন যদি ১০,০০০ টাকা হয় তবে কীভাবে বিনিয়োগ শুরু করবেন।
১০,০০০ টাকা বেতনে বিনিয়োগ শুরু করা
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কোনও পেশাদার মাসে ১০,০০০ টাকা আয় করেন, তাহলে তার প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত 'এমার্জেন্সি ফান্ড'।
প্রথমে একটি এমার্জেন্সি ফান্ড তৈরি করুন
যাঁরা বছরে ১০,০০০ টাকা আয় করেন, তাঁদের এমার্জেন্সি ফান্ডকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। এমন ব্যক্তির এমার্জেন্সি ফান্ডের জন্য প্রতি মাসে অন্তত ৫০০ টাকা আলাদা করে রাখা উচিত। পারিবারিক সমস্যা বা হঠাৎ চাকরি হারানোর সময়ে এই তহবিলটি কাজে আসতে পারে।
এর পরে, SIP-তে বিনিয়োগ করুন
জরুরি তহবিল তৈরির পর দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত SIP। মাত্র ৫০০ টাকা দিয়েও একটি SIP শুরু করা যেতে পারে। নিয়মিত অল্প পরিমাণে বিনিয়োগ করার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে উপকারী প্রমাণিত হতে পারে।
আপনার আয় বাড়লে টার্ম ইন্স্যুরেন্স করান
ইন্স্যুরেন্স প্রয়োজনীয়, কিন্তু জরুরি তহবিল এবং এসআইপি-র পরে এর অগ্রাধিকার আসে। তাই, আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি ছোট টার্ম ইন্স্যুরেন্স পলিসি কেনা যেতে পারে। এরপর বাকি টাকাটা বাড়ির খরচ, ইএমআই, ভাড়া এবং অন্যান্য প্রয়োজনে ব্যবহার করা উচিত।
এমার্জেন্সি ফান্ড কত হওয়া উচিত?
এক্ষেত্রে ৩-৬-৯ ফর্মুলাটি আপনার কাজে আসতে পারে।
তিন মাসের খরচের সমপরিমাণ অর্থ আলাদা করে রাখুন
যদি কোনও ব্যক্তি অবিবাহিত হন, তাঁর উপর কোনও নির্ভরশীল না থাকে এবং তিনি পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব বহন না করেন, তবে তাঁর তিন মাসের খরচের সমপরিমাণ একটি এমার্জেন্সি ফান্ড রাখা উচিত।
দায়িত্ব থাকলে ৬ মাসের খরচের সমপরিমাণ অর্থ রাখুন
যদি কেউ ইএমআই (EMI) পরিশোধ করেন বা পরিবার ও অন্যদের প্রতি দায়িত্ব থাকে, তবে তাদের অন্তত ৬ মাসের খরচের সমপরিমাণ একটি জরুরি তহবিল রাখা উচিত।
যাদের আয় অনিয়মিত, তাদের জন্য ৯ থেকে ১২ মাসের তহবিল
যদি কেউ ব্যবসা করেন, ফ্রিল্যান্সিং করেন বা তার আয় অনিয়মিত হয়, তবে তার ৯ থেকে ১২ মাসের খরচের সমপরিমাণ একটি জরুরি তহবিল রাখা উচিত। এর কারণ হলো, তাদের আয় প্রতি মাসে একই থাকে না।
আপনার জরুরি তহবিল সর্বদা সহজে উত্তোলনযোগ্য স্থানে রাখুন
জরুরি তহবিল সবসময় এমন একটি জায়গায় রাখা উচিত যেখান থেকে প্রয়োজনে তা তাৎক্ষণিকভাবে তোলা যায়, যেমন সেভিংস অ্যাকাউন্ট বা লিকুইড মিউচুয়াল ফান্ড। এর ফলে প্রয়োজনের সময় সহজেই তহবিল পাওয়া যায় এবং ক্ষতির ঝুঁকি কমে। জরুরি তহবিল সবসময় এমন জায়গায় রাখা উচিত যেখান থেকে তা দ্রুত তুলে নেওয়া যায়।
দরকারি তথ্য
বিনিয়োগ শুরু করার জন্য আপনাকে বড় অঙ্কের বেতনের অপেক্ষা করতে হবে না। মাত্র ১০,০০০ টাকার বেতন থেকেও আপনি ৫০০ টাকার একটি জরুরি ফান্ড এবং একটি এসআইপি (SIP)-এর মাধ্যমে আপনার ভবিষ্যতের ভিত্তি তৈরি করতে পারেন। সুতরাং, আপনার জীবনযাত্রা এবং দায়িত্বের উপর ভিত্তি করে কেবল '৩-৬-৯' সূত্রটি অনুসরণ করলেই তা আপনাকে আর্থিকভাবে সুরক্ষিত করতে সাহায্য করতে পারে।