
অনেক সময়ই মানুষ ভাবেন যে বিনিয়োগের জন্য প্রচুর টাকার দরকার। যে কারণে অনেকেই বিনিয়োগ করা থেকে এড়িয়ে চলেন। তবে মিউচুয়াল ফান্ড এসআইপি এই ধারণাকে বদলে দিয়েছে। আপনি এক্ষেত্রে মাত্র ১০০০ টাকা দিয়ে বিনিয়োগ শুরু করতে পারেন। SIP-র একটি ভাল দিক হল, আপনি যদি নিয়মিত বিনিয়োগ করেন, তাহলে চক্রবৃদ্ধি সুদের শক্তি আপনাকে একটি বড় অঙ্কের সম্পদ গড়ে তুলতে সহায়তা করতে পারে।
SIP-তে চক্রবৃদ্ধি সুদ কীভাবে কাজ করে
এসআইপি-র সবচেয়ে বড় শক্তি হলো চক্রবৃদ্ধি সুদ। সহজ কথায়, চক্রবৃদ্ধি মানে হলো সুদের উপর সুদ অর্জন করা। যখন আপনি প্রতি মাসে বিনিয়োগ করেন, তখন আপনার টাকা থেকে আয় হয়। এই আয় থেকে আবার আয় তৈরি হয়। এই প্রক্রিয়াটি সময়ের সাথে সাথে আপনার বিনিয়োগকে দ্রুতগতিতে বাড়তে সাহায্য করে। যদি আপনার লক্ষ্য ৫ লাখের ফান্ড তৈরির হয়, তাহলে আপনি ১০০০ টাকা করে বিনিয়োগ করতে পারেন। তাহলে বিভিন্ন রিটার্নের উপর নির্ভর করে লক্ষ্যে পৌঁছাতে কত সময় লাগতে পারে, তা জেনে নিন।
১০ শতাংশ লাভ পেতে কত সময় লাগবে
যদি আপনার এসআইপি থেকে বার্ষিক ১০% রিটার্ন আসে, তাহলে প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা বিনিয়োগ করে ৫ লক্ষ টাকার একটি ফান্ড তৈরি করতে প্রায় ১৬ বছর ৬ মাস সময় লাগবে। এই সময় আপনার মোট বিনিয়োগের পরিমাণ হবে প্রায় ১.৯৮ লক্ষ টাকা। বাকি টাকা চক্রবৃদ্ধি সুদ এবং বিনিয়োগ থেকে আসবে। এই রিটার্ন সাধারণত ব্যালেন্সড এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ ফান্ডে দীর্ঘমেয়াদে পাওয়া যায়।
১২ শতাংশ রিটার্নে দ্রুত ৫ লক্ষ টাকা
যদি আপনার বিনিয়োগ থেকে বার্ষিক ১২% রিটার্ন আসে, তাহলে প্রায় ১৫ বছরে ৫ লক্ষ টাকার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। এই ক্ষেত্রে, আপনার মোট বিনিয়োগের পরিমাণ হবে প্রায় ১.৮০ লক্ষ টাকা। দীর্ঘমেয়াদী ইক্যুইটি মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য ১.২ শতাংশ রিটার্নকে একটি আদর্শ অনুমান হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
১৫ শতাংশ রিটার্ন পেলে সময় কমবে
যদি বাজার ভাল থাকে এবং আপনি বার্ষিক ১৫% রিটার্ন পান, তাহলে ১,০০০ টাকার একটি এসআইপি (SIP) প্রায় ১৩ বছর ৩ মাসে ৫ লক্ষ টাকার একটি ফান্ড তৈরি করতে পারে। এই সময়ে আপনার মোট বিনিয়োগ হবে প্রায় ১.৫৯ লক্ষ টাকা। এই রিটার্ন পেতে বিনিয়োগকারীদের বাজারের ওঠানামার সম্মুখীন হতে হতে পারে এবং এর জন্য দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। এর অর্থ হল এতে ঝুঁকি থাকবে।