
বহু করদাতা মনে করেন, ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিলেই তাঁদের কর সংক্রান্ত সমস্ত দায়িত্ব শেষ। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি তেমন নয়। নির্ধারিত সময়ের পরে রিটার্ন জমা দেওয়া, আয়ের ভুল তথ্য দেওয়া বা আয় গোপন করার মতো ক্ষেত্রে আয়কর আইনে জরিমানা, সুদ এবং অতিরিক্ত ফি-র বিধান রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে এই জরিমানার পরিমাণ ভুলভাবে দেখানো আয়ের উপর প্রযোজ্য করের ২০০ শতাংশ পর্যন্তও হতে পারে।
দেরিতে ITR জমা দিলে কত জরিমানা?
আয়কর আইনের ধারা 234F অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের পরে ITR জমা দিলে সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত লেট ফি দিতে হতে পারে। তবে যাঁদের মোট বার্ষিক আয় ৫ লক্ষ টাকার বেশি নয়, তাঁদের ক্ষেত্রে এই লেট ফি সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা।
আয় কম দেখালে বা ভুল তথ্য দিলে কী হবে?
আয়কর আইনের সেকশন 270A-এর আওতায় যদি কোনও করদাতা প্রকৃত আয়ের তুলনায় কম আয় দেখান, তাহলে ওই অতিরিক্ত আয়ের উপর প্রযোজ্য করের ৫০ শতাংশ জরিমানা দিতে হতে পারে। অন্যদিকে, যদি আয়কর দফতর মনে করে ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য গোপন করা হয়েছে, ভুয়ো তথ্য দেওয়া হয়েছে বা ভুলভাবে করছাড় দাবি করা হয়েছে, তাহলে জরিমানা বেড়ে প্রযোজ্য করের ২০০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
এছাড়াও, সেকশন ২২১(১) অনুযায়ী, সময়মতো কর না দিলে বকেয়া করের সমপরিমাণ পর্যন্ত জরিমানা ধার্য করতে পারেন অ্যাসেসিং অফিসার। সেকশন 234E অনুযায়ী, TDS বা TCS স্টেটমেন্ট দাখিলে দেরি হলে প্রতিদিন ২০০ টাকা হারে ফি দিতে হবে। তবে মোট ফি TDS/TCS-এর পরিমাণের বেশি হবে না।
কী করলে জরিমানা এড়ানো যাবে?
আয়কর দফতরের পরামর্শ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ITR জমা দেওয়া, সমস্ত আয়ের উৎস সঠিকভাবে উল্লেখ করা, সময়মতো কর পরিশোধ করা এবং প্রয়োজনীয় হিসাবপত্র ও অডিট সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চললে অপ্রয়োজনীয় জরিমানা, নোটিস ও আইনি জটিলতা এড়ানো সম্ভব।