
আয়কর রিটার্ন (ITR) সময়মতো জমা দেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দিলে শেষ মুহূর্তের চাপ, প্রযুক্তিগত সমস্যা এবং বিলম্বজনিত জরিমানার ঝুঁকি এড়ানো যায়। নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলে আয়কর আইনের ধারা 234F অনুযায়ী দেরিতে রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য জরিমানা দিতে হতে পারে। আর এই ফি করদাতার আয় এবং তিনি কতটা দেরি করেছেন, তার উপর নির্ভর করেই নির্ধারিত হয়। যদি কোনও ব্যক্তির মোট বার্ষিক আয় ৫ লক্ষ টাকার কম হয়, তাহলে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিতে হতে পারে। অন্যদিকে, আয় ৫ লক্ষ টাকার বেশি হলে এই জরিমানা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
জরিমানার পাশাপাশি বকেয়া করের উপর অতিরিক্ত সুদও প্রযোজ্য হতে পারে। আয়কর আইনের ধারা 234A অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের পর রিটার্ন জমা দেওয়া পর্যন্ত বকেয়া করের উপর সুদ গণনা করা হয়। এছাড়াও সময়মতো আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে ব্যবসায়িক ক্ষতি বা মূলধনী ক্ষতি আগামী অর্থবর্ষে বহন করার সুযোগ হারাতে পারেন করদাতারা।
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য বেতনভোগী ব্যক্তির ITR-1 ও ITR-2 জমা করার শেষ তারিখ ৩১ জুলাই ২০২৬। যাঁদের ক্ষেত্রে কর নিরীক্ষা প্রয়োজন নেই এবং ITR-3 বা ITR-4 ফাইল করেন, তাঁদের সময়সীমা ৩১ অগাস্ট ২০২৬ পর্যন্ত। কর নিরীক্ষার আওতায় থাকা করদাতাদের জন্য শেষ তারিখ ৩১ অক্টোবর এবং ট্রান্সফার প্রাইসিং সংক্রান্ত করদাতাদের জন্য ৩০ নভেম্বর ২০২৬। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা না করলেও ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বিলম্বিত রিটার্ন বা বিলেটেড রিটার্ন দাখিল করা সম্ভব। এছাড়া সংশোধিত রিটার্ন সাধারণত ৩১ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত জমা দেওয়া যায়।
অনেকের ধারণা, যাঁদের কর দিতে হয় না, তাঁদের আয়কর রিটার্ন জমা করতে দেরি হলে কোনও জরিমানা দিতে হয় না। কিন্তু যাঁদের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক, তাঁরা নির্ধারিত সময়সীমা মিস করলে করের পরিমাণ শূন্য হলেও লেট ফি দিতে হতে পারে। তবে যাঁদের আয় করমুক্ত সীমার নীচে, তাঁদের জন্য আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। পুরনো কর ব্যবস্থায় এই সীমা ২.৫ লক্ষ টাকা এবং নতুন কর ব্যবস্থায় ৪ লক্ষ টাকা।