
টিকিট ছাড়া এবং নির্ধারিত শ্রেণি ছাড়া অন্য কোচে ভ্রমণকারী যাত্রীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় রেল কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রেল প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, টিকিট ছাড়া ভ্রমণ করা বা ট্রেনের নিয়ম লঙ্ঘন করা এখন যাত্রীদের পকেটের ওপর বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।
পাবলিক ট্রাস্ট অ্যাক্ট, ২০২৬-এর অধীনে রেল আইনে উল্লেখযোগ্য সংশোধনী আনা হয়েছে, যার ফলে সর্বনিম্ন জরিমানা দ্বিগুণ হয়েছে। এই নতুন ব্যবস্থাটি ২০২৬ সালের ২০জুন থেকে দেশব্যাপী কার্যকর হচ্ছে। এই পদক্ষেপের প্রধান কারণ হলো টিকিটবিহীন ভ্রমণ রোধ করা এবং যাত্রীদের বৈধ টিকিট নিয়ে ভ্রমণ করতে উৎসাহিত করা।
আইনে বড় পরিবর্তন
এই কঠোর ব্যবস্থাটি ১৯৮৯ সালের রেলওয়ে আইনের ১৩৭ এবং ১৩৮ ধারার সংশোধনের উপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত, এই ধারাগুলো লঙ্ঘনকারী যাত্রীদের ন্যূনতম ২৫০ টাকা জরিমানা করা হতো, কিন্তু সংশোধিত 'পাবলিক ট্রাস্ট (সংশোধনী বিধান) আইন, ২০২৬' কার্যকর হওয়ার ফলে এই জরিমানা বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে। এই নিয়মটি শুধু জেলা পর্যায়ের স্টেশনগুলোতেই নয়, বরং সারা দেশের সমস্ত রেল স্টেশন এবং দূরপাল্লার ট্রেনগুলোতেও প্রযোজ্য হবে।
সম্পূর্ণ বিষয়টি জানুন
নতুন হার ২০ জুন, ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে
কোন যাত্রীরা প্রভাবিত হবেন?
রেল কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, বৈধ টিকিট ছাড়া, হাই-ক্লাস পাস ছাড়া, বা নির্ধারিত দূরত্বের বাইরে ভ্রমণকারী যাত্রীদের এখন থেকে কমপক্ষে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হবে। তবে, রেল প্রশাসন এও স্পষ্ট করেছে যে শুধুমাত্র সর্বনিম্ন জরিমানার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে, সর্বোচ্চ জরিমানার বিধানে কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি। সেইসঙ্গে, শাস্তিমূলক বিধানগুলি আরও কঠোর করা হলে যাত্রীরা নিয়ম মেনে চলার ক্ষেত্রে আরও তৎপর হবেন।
রাজস্ব ক্ষতি রোধের প্রস্তুতি
টিকিটবিহীন ভ্রমণের কারণে ভারতীয় রেল প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এই কারণেই সরকার এবং রেল প্রশাসন এই প্রথাটি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জরিমানার পরিমাণ বৃদ্ধি রাজস্ব ক্ষতি কমাতে এবং রেলের আর্থিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।
রেলযাত্রীদের জন্য জরুরি
রেল কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের জন্য একটি বিশেষ অ্যাডভাইজারি জারি করেছে, যেখানে তাদের সর্বদা বৈধ টিকিট নিয়ে ভ্রমণ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। যাত্রীদের সহযোগিতা সকলের জন্য নিরাপদ, সহজ এবং আইনসম্মত যাত্রা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। প্রশাসন স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছে, এই নিয়মগুলি লঙ্ঘনের আর্থিক পরিণতি আগের চেয়ে অনেক বেশি হবে। ২০ জুন, ২০২৬-এর পর কোনও ছাড় দেওয়া হবে না এবং সংশোধিত ভাড়ার ভিত্তিতে জরিমানা আরোপ করা হবে।
কোন কোন ক্ষেত্রে শাস্তি আরোপ করা হবে?
নিয়ম ভাঙলে কী হবে?
রেল কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, জরিমানা পরিশোধ না করা হলে আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে এবং শুধু তাই নয়, নিয়ম লঙ্ঘনকারীর ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডও হতে পারে। রেল কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের টিকিট ছাড়া ভ্রমণ না করার জন্য অনুরোধ করেছে। রেলের নিয়মকানুন মেনে চলুন, যাতে আপনাকে জরিমানা করা না হয়।