
ট্রেনে যাতায়াতের খরচ কমাতে অনেকেই টিকিট কাটার সময় খাবার না নেওয়ার অপশন বেছে নিচ্ছেন। IRCTC-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৫-৩০ শতাংশ যাত্রী প্রি-পেইড ক্যাটারিং থেকে অপ্ট আউট করছেন। অর্থাৎ, টিকিট বুক করার সময় খাবারের জন্য অতিরিক্ত টাকা না দিয়ে নিজের খাবার নিয়ে যাওয়াকেই অনেকে বেশি সুবিধাজনক মনে করছেন। অনেক যাত্রী আবার মনে করছেন, দীর্ঘ যাত্রায় নির্দিষ্ট সময়ের খাবারের বদলে নিজের পছন্দমতো স্ন্যাকস বা হালকা খাবার সঙ্গে রাখলে খরচও কমে এবং আরামও বাড়ে।
কিন্তু খাবার না নিলে ঠিক কত টাকা বাঁচে? এর উত্তর ট্রেন, শ্রেণি এবং কোন কোন খাবার নেওয়া হচ্ছে তার উপর নির্ভর করে। IRCTC-এর সরকারি মেনু ও ট্যারিফ অনুযায়ী, রাজধনী, শতাব্দী ও দূরন্তর 2AC, 3AC এবং CC-তে প্রি-পেইড ব্রেকফাস্টের দাম ১০৫ টাকা। লাঞ্চ বা ডিনারের দাম ১৮৫ টাকা। অর্থাৎ, যাত্রায় একটি ব্রেকফাস্ট ও একটি লাঞ্চ বা ডিনার না নিলে খাবারের জন্য মোট ২৯০ টাকা পর্যন্ত কম খরচ হতে পারে। দীর্ঘ যাত্রায় একাধিক মিল বাদ দিলে এই সাশ্রয় আরও বাড়তে পারে।
1AC ও Executive Class-এর ক্ষেত্রে এই খরচ আরও বেশি। সেখানে ব্রেকফাস্ট ১৪০ টাকা এবং লাঞ্চ বা ডিনারের জন্য ২৪৫ টাকা নির্ধারিত। ফলে একটি ব্রেকফাস্ট এবং একটি লাঞ্চ বা ডিনার বাদ দিলে ৩৮৫ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে। অনেক নিয়মিত যাত্রী এই কারণেই আগেভাগে খাবার না নিয়ে নিজের খাবার সঙ্গে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। টিকিট বুক করার সময় খাবার না নেওয়া আর পরে ট্রেনে খাবার চাওয়া- দুটির খরচ এক নয়। ২০২২ সালের রেলওয়ে বোর্ডের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রি-পেইড খাবার না নেওয়া যাত্রী পরে ট্রেনে খাবার চাইলে অনবোর্ড চার্জ প্রযোজ্য হয়। যেমন 2AC/3AC/CC-তে ব্রেকফাস্টের অনবোর্ড চার্জ ১৫৫ টাকা এবং লাঞ্চ/ডিনারের জন্য ২৩৫ টাকা। অর্থাৎ আগে থেকে খাবার না নেওয়ার পর ট্রেনেই খাবার চাইলে প্রি-পেইড দামের তুলনায় বেশি দিতে হতে পারে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যাত্রীদের ভালোভাবে পরিকল্পনা করা জরুরি।
অন্যদিকে, IRCTC-এর e-Catering পরিষেবার মাধ্যমে যাত্রীরা বিভিন্ন স্টেশনে পছন্দের খাবার অর্ডার করতে পারেন। ফলে নিজের খাবার নিয়ে যাওয়া বা e-Catering থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার কেনা- দুই পথই যাত্রীদের হাতে থাকছে। এই পরিষেবায় অনেক সময় স্থানীয় জনপ্রিয় রেস্টুরেন্টের খাবারও পাওয়া যায়, যা যাত্রাকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তোলে।
তাই ট্রেনে ওঠার আগে খাবারের প্রয়োজন কতটা, কতগুলি মিল খাবেন এবং নিজের খাবার নিয়ে যেতে পারবেন কি না- এই তিনটি বিষয় হিসাব করে নিলে যাত্রার মোট খরচ বেশ কিছুটা কমানো সম্ভব। পাশাপাশি আরাম, স্বাস্থ্য এবং সময়ের দিকটিও বিবেচনা করলে সিদ্ধান্ত আরও কার্যকর হয়।