
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিয়ে সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বুধবার আমেরিকা ও ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও তা সাময়িক। আদৌ এই যুদ্ধবিরতি টিকবে কিনা, তা নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছে। ফলে ভারত এখন ঝুঁকছে বিকল্প অপশনগুলির দিকে। ইরান এবং রাশিয়ার তেলের পাশাপাশি অন্যান্য একাধিক দেশ থেকে জ্বালানি কিনতে চাইছে নয়াদিল্লি। এই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন হল ভেনেজুয়েলা। এই দেশ থেকেও প্রচুর তেল আসছে ভারতে।
কমোডিটি অ্যানালিটিক্স ফার্ম কেকলারের দাবি, ভেনেজুয়েলা থেকে ১০ থেকে ১২ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ভারতে আসতে চলেছে। চলতি মাসেই এই পরিমাণ তেল ভারতের বন্দরে এসে উপস্থিত হবে। এই প্রথম ভারত ভেনেজুয়েলা থেকে এত পরিমাণ অশোধিত তেল কিনছে।
ভেনেজুয়েলার তেলের দাম কী কম?
বিশেষজ্ঞরা বলেন, ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল বা WTI ক্রুড অয়েলের তুলনায় ঐতিহ্যগত ভাবেই ভেনেজুয়েলার তেলের দাম সাধারণত ১০ থেকে ২০ ডলার প্রতি ব্যারেলে কম হয়। এর থেকে অনেকেই মনে করেন, এই তেল কেনার অর্থ ভারতে সরাসরি পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কমে যাবে।
কিন্তু আদতে বিষয়টি মোটেই তেমন নয়। কারণ, ভেনেজুয়েলার তেল অত্যন্ত অপরিষ্কার। এই তেল পরিশুদ্ধ করতে খরচ হয় বেশি। ফলে ঘুরে ফিরে দাম পৌঁছায় সেই একই জায়গায়। ফলে ভেনেজুয়েলার তেল কিনলেই ভারতে জ্বালানি যে সস্তা হবে, এমন আশা করা ভুল হবে।
হরমুজ খুললে দাম স্থিতিশীল হবে
ভারত জ্বালানির ক্ষেত্রে প্রায় পুরোপুরি আমদানির উপর নির্ভরশীল। এই আমদানির বেশিরভাগ অংশ আসে হরমুজ প্রণালী হয়ে। কিন্তু যুদ্ধের জেরে হরমুজ বন্ধ থাকায় দেশে দেখা যায় জ্বালানির সঙ্কট। চড়চড় করে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধির শঙ্কা দেখা যায়। যদিও কেন্দ্র সরকার দাম বৃদ্ধি করেনি।
এবার যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হলে দেশে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে শঙ্কা কমবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে জ্বালানির দাম কমার সম্ভাবনা এখন নেই বলেই মনে করা হচ্ছে।