
পায়েস থেকে জলভরা সন্দেশ। গুড় ভালবাসেন না, এমন বাঙালি নেই। ভারতের সব রান্নাঘরেই সম্বৎসর থাকে গুড়। শীতের পিঠেপুলি থেকে মিষ্টি, সবেতেই এর অবাধ উপস্থিতি। তবে এই গুড়ের মধ্যেও ইদানীং থাবা বসাচ্ছে ভেজাল জিনিস। দেখতে আকর্ষণীয় করা বা ওজন বাড়ানোর তাগিদে গুড়ে মেশানো হচ্ছে রাসায়নিক। কীভাবে আসল-নকলে ফারাক করবেন, তার উপায় জানিয়ে দিল দেশের খাদ্য নিয়ামক সংস্থা এফএসএসএআই (FSSAI)।
গুড়ে বেকিং সোডার মতো ভেজাল মেশানো রয়েছে কি না, তা সহজে চেনার জন্য পরীক্ষার কথা জানিয়েছে এফএসএসএআই' (FSSAI)। সাধারণ মানুষ বাড়িতে বসেই ভেজাল গুড় চিনে নিতে পারবেন। এই পরীক্ষার জন্য প্রয়োজন সামান্য গুড় এবং হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl)।
বাড়িতে কীভাবে পরীক্ষা করবেন? (How to check jaggery for baking soda)
একটি ছোট কাচের পাত্রে চার ভাগের এক চামচ গুড় নিন। এর মধ্যে প্রায় ৩ মিলিমিটার হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড যোগ করুন। অ্যাসিড মেশানোর পর মিশ্রণটি থেকে বুদ্বুদ বা ফেনা উঠতে শুরু করলে বুঝবেন সেই গুড়ে বেকিং সোডা বা সোডিয়াম বাইকার্বোনেট মেশানো রয়েছে। আর বুদ্বুদ না উঠলে বেকিং সোডা নেই গুড়ে।
এর নেপথ্যে রয়েছে বিজ্ঞানের সাধারণ নিয়ম। সোডিয়াম বাইকার্বোনেট এবং হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের বিক্রিয়ায় কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়, যা বুদ্বুদ আকারে বাইরে বেরিয়ে আসে।
কেন গুড়ে বেকিং সোডা মেশানো হয়? (Why is baking soda added to jaggery?)
কম খরচে গুড়ের ওজন বাড়াতে নানা ক্ষতিকারক জিনিস মেশানো হয়। বেকিং সোডাও একটি অন্যতম ভেজাল উপাদান। দেখতে চকচকে হলেই যে গুড়ের গুণমান ভাল, এমনটা ধরে নেওয়া কিন্তু একেবারেই ভুল।
এই পরীক্ষার সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। ঘরে বসে করা এই পরীক্ষা গুড়ের প্রাথমিক গুণমান আঁচ করতে সাহায্য করলেও গুড়টি শতভাগ খাঁটি কি না তা নিশ্চিত করতে পারে না। গুড়ের নিখুঁত বিশ্লেষণ ও সমস্ত ধরনের ভেজাল চিহ্নিত করতে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার বিকল্প নেই। তাই ঘরোয়া পরীক্ষা সন্দেহ দূর করতে পারলেও, ল্যাব পরীক্ষার সমতুল্য নয়। খাবার সামগ্রীতে ভেজাল রয়েছে বলে সন্দেহ হলে গ্রাহকেরা খাদ্য সুরক্ষা অধিকারিকদের কাছে অভিযোগ জানাতে পারেন।
গুড় কেনার সময় প্রস্তুতকারক সংস্থার প্যাকেট দেখে নিন। প্যাকেটের গায়ে এফএসএসএআইয়ের লাইসেন্স নম্বর দেখে নিন। বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড থেকে গুড় কেনাই ভেজালের ঝুঁকি কমানোর সেরা উপায়।