
তীব্র গরমে একটানা এসি চালালে ঘরে রাখুন এক বালতি জল। কেন এমন পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?
গরমের দাপটে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির গণ্ডি পেরোতেই অনেকেই দিনের বেশিরভাগ সময় এসির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘক্ষণ একটানা এসি চালানোর ফলে ঘরের বাতাস অত্যন্ত শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। আর সেই কারণেই ঘরে এক বালতি জল রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এসি ঘরের আর্দ্রতা বা হিউমিডিটি কমিয়ে দেয়। ফলে বাতাস শুষ্ক হয়ে যায় এবং অনেকের ত্বক, চোখ ও গলায় অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘ সময় এমন পরিবেশে থাকলে ত্বক রুক্ষ হয়ে যাওয়া, নাক ও গলা শুকিয়ে যাওয়া কিংবা হালকা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ঘরের এক কোণে একটি বালতি বা বড় পাত্রে জল রেখে দিলে সেই জল ধীরে ধীরে বাষ্পীভূত হয়ে বাতাসে আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। ফলে ঘরের পরিবেশ তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক থাকে এবং শুষ্কতার সমস্যা কিছুটা কমে। এর প্রভাবে ত্বক শুষ্ক হওয়া, গলা শুকিয়ে যাওয়া, চোখে জ্বালা বা নাকের ভিতরে অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের আরও দাবি, এই পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ খরচ বাড়ে না এবং অতিরিক্ত কোনও যন্ত্রের প্রয়োজনও হয় না। যাঁদের ঘরে হিউমিডিফায়ার নেই, তাঁদের জন্য এটি একটি সহজ ও সাশ্রয়ী উপায় হতে পারে। এক বালতি জল ঘরের মধ্যে রাখলে ধীরে ধীরে সেই জল থেকে বাষ্পীভবনের মাধ্যমে কিছুটা আর্দ্রতা বাতাসে মিশে যায়। এতে ঘরের আর্দ্রতার ভারসাম্য কিছুটা বজায় থাকে এবং শুষ্কতার সমস্যা কমতে পারে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, এসি চলার ফলে ঘরের বাতাস অনেক সময় ভারী ও অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। জল রাখা হলে পরিবেশ কিছুটা স্বাভাবিক অনুভূত হয়।
তবে চিকিৎসকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, শুধুমাত্র এক বালতি জল রাখলেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। পর্যাপ্ত জল পান করা, এসির তাপমাত্রা ২৪-২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা এবং নিয়মিত ঘরের বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
গরমের এই মরশুমে তাই এসির ঠান্ডা উপভোগ করার পাশাপাশি শরীরের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখার দিকেও নজর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।