
LIC ও EPFO-র দাবিহীন কোটি কোটি টাকা পড়ে আছে। সেই টাকা কী হবে? তা জানিয়ে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। লোকসভায় লিখিত জবাবে কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী জানান, সেই সব টাকা অন্য কোনও খাতে খরচের কোনও পরিকল্পনা তাঁদের নেই। লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন (LIC)-এর দাবিহীন অর্থ এবং এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO)-এর নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টের টাকা বর্তমান নিয়ম অনুযায়ীই পরিচালিত হবে। সরকার কোনওভাবেই সেই অর্থে হাত দেবে না।
দাবিহীন LIC-র টাকার কী হয়?
সরকার জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত LIC-র কাছে মোট ৭,৩১৮.৫০ কোটি টাকা দাবিহীন অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে ৫,৫৬৪.৫৫ কোটি টাকা পলিসিধারী ও তাঁদের মনোনীত ব্যক্তিদের প্রাপ্য। বাকি থাকা ১,৭৫৩.৯৫ কোটি টাকা ওই অর্থের উপর জমা হওয়া সুদ বা আয়।
IRDAI-এর ১৯ জুন, ২০২৪-এর মাস্টার সার্কুলার অনুযায়ী, কোনও বিমার টাকা ১০ বছরের বেশি সময় দাবিহীন থাকলে তা Senior Citizen Welfare Fund-এ স্থানান্তরিত করা হয়। সরকার জানিয়েছে, এবারও সেই ব্যবস্থায় কোনও পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেই।
EPFO-র ক্ষেত্রে কী নিয়ম?
সরকার জানিয়েছে, EPFO-র ক্ষেত্রে আনক্লেমড অ্যাকাউন্ট বলে কিছু নেই। এর পরিবর্তে রয়েছে Inoperative Account বা নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্ট। দীর্ঘদিন কোনও জমা না পড়লেও সেই অ্যাকাউন্টের টাকা সংশ্লিষ্ট সদস্যেরই থাকে।
২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত EPFO-র নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টে মোট ৯,৩৩০.৫৬ কোটি টাকা রয়েছে। সরকার জানিয়েছে, এই টাকা সরকারের সম্পত্তি নয়। সদস্য বা তাঁদের মনোনীত ব্যক্তি দাবি না করা পর্যন্ত ওই অর্থ তাঁদেরই থাকবে।
পলিসিধারীদের খুঁজে বের করতে কী করছে LIC?
সরকার জানিয়েছে, দাবিহীন অর্থ ফেরাতে LIC একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে।
যেমন, অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে দাবিহীন অর্থ খোঁজার ব্যবস্থা রয়েছে। চিঠি, SMS, স্থানীয় এজেন্ট বা ক্রেডিট ব্যুরোর মাধ্যমে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এবং বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপনও দেওয়া হচ্ছে।
EPFO-র নতুন উদ্যোগ
EPFO আধার-যাচাইকৃত নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য একটি পাইলট প্রকল্প শুরু করেছে। ১,০০০ টাকা পর্যন্ত ব্যালান্স থাকা আধার-ভেরিফায়েড নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টের অর্থ সরাসরি আধার-লিঙ্কড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। সেজন্য নতুন করে দাবি বা অতিরিক্ত নথি জমা দিতে হবে না। ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় যাচাইয়ের পর বেশি টাকার অ্যাকাউন্টেও এই ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থাৎ সরকারের এই ঘোষণার ফলে স্পষ্ট, LIC-র দাবিহীন টাকা বা EPFO-র নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টের অর্থ অন্য কোনও সরকারি কাজে ব্যবহার করা হবে না। বরং পলিসিধারী, EPF সদস্য এবং তাঁদের মনোনীত ব্যক্তিদের সেই টাকা ফেরত দেওয়ার ওপরই জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে ১৬,৬০০ কোটিরও বেশি টাকা দাবিহীন বিমার অর্থ বা নিষ্ক্রিয় EPF অ্যাকাউন্টে পড়ে রয়েছে। তাই পুরনো LIC পলিসি এবং EPF অ্যাকাউন্ট নিয়মিত পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় দাবি জানানোই বুদ্ধিমানের কাজ।