
LIC Jeevan Umang: অবসরের পরেও যদি নিয়মিত টাকা হাতে আসে? খুব বেশি নয়, যদি ওষুধপত্রের টাকাটুকুও... ব্যাপারটা দারুণ হবে, তাই না? আসলে রিটায়ারমেন্টের পর সামান্য কিছু টাকাও যদি হাতে আসে, তা হলে আর্থিক চিন্তা অনেকটাই কমে। সেই কারণেই অবসর পরিকল্পনার জন্য অনেকে জীবন বিমা এবং লং টার্ম বিভিন্ন সেভিংস স্কিমে বিনিয়োগ করে থাকেন। LIC-এর এমনই একটি জনপ্রিয় পলিসি হল LIC Jeevan Umang। নির্দিষ্ট শর্তে এই পলিসিতে দীর্ঘ সময় ধরে বার্ষিক ইনকাম পেতে পারেন। তবে কত টাকা দিতে হবে, কত দিন প্রিমিয়াম দিতে হবে এবং কত টাকা পাওয়া যাবে; তা নির্ভর করে পলিসির কভার, বয়স এবং নির্বাচিত প্রিমিয়াম পেমেন্ট টার্মের উপর।
এই প্রতিবেদনে তেমনই একটি ফর্মুলা জানতে পারবেন। ৩০ বছর বয়সেই শুরু করতে পারেন। ১০ লক্ষ টাকার বেসিক সাম অ্যাশিওর্ড। আর তাতে ৩০ বছরের প্রিমিয়াম পেমেন্ট টার্ম নিলে পরবর্তী সময়ে বার্ষিক ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত সারভাইভাল বেনেফিট পাওয়া যেতে পারে।
৩০ বছর পর ৮০ হাজার টাকার ভ্যালু থাকবে আদৌ?
মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে হিসেব করলে দেখা যাচ্ছে, ৩০ বছর পর ৮০ হাজার টাকার পার্চেস ভ্যালু, আজকের দিনের ১৪-২৩ হাজার টাকার আশেপাশে থাকবে। প্রাইভেট চাকরিজীবী, যাঁদের পেনশন নেই, তাঁদের জন্য এই অঙ্কটুকুও নেহাৎ কম হবে না। অন্তত বাজারঘাটের খরচ উঠে যাবে।
LIC Jeevan Umang কী?
LIC Jeevan Umang একটি লং টার্ম লাইফ ইনসিওরেন্স পলিসি। এতে জীবন বিমার কভারের পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের পরে সারভাইভাল বেনেফিটও পাবেন। পলিসির নিয়ম অনুযায়ী, পলিসি চালু থাকা অবস্থায় নির্দিষ্ট সময়ের পর থেকে প্রতি বছর বেসিক সাম অ্যাশিওর্ডের ৮ শতাংশ হারে সারভাইভাল বেনেফিট দেওয়া হয়।
পলিসির মেয়াদ অনেকটাই লম্বা। কিন্তু ভাবুন, আজকাল এদিক ওদিক আমাদের অনেক টাকাই নষ্ট হয়ে যায়। সেই টাকাই যদি একটানা কোনও স্কিমে বিনিয়োগ করা যায়, তাহলেই অবসরের পর নিয়মিত আয়ের সুবিধা পাবেন। তবে শুরুতেই বলে রাখা ভাল, কোনও বিমা পলিসিকে শুধুমাত্র রিটার্নের ভিত্তিতে বেছে নেবেন না। তার আগে সমস্ত শর্তাবলী ভালভাবে দেখে নেওয়া জরুরি।
১৫, ২০, ২৫ বা ৩০ বছর প্রিমিয়াম দেওয়ার অপশন
LIC Jeevan Umang-এ প্রিমিয়াম দেওয়ার ক্ষেত্রে একাধিক অপশন রয়েছে। ১৫ বছর, ২০ বছর, ২৫ বছর অথবা ৩০ বছরের প্রিমিয়াম পেমেন্ট টার্ম বেছে নিতে পারেন।
মিনিমাম বেসিক সাম অ্যাশিওর্ড ২ লক্ষ টাকা। সর্বোচ্চ বেসিক সাম অ্যাশিওর্ডের কোনও নির্দিষ্ট সীমা নেই, যদিও তা LIC-এর অনুমোদন ও প্রযোজ্য নিয়মের উপর নির্ভর করবে।
রোজ প্রায় ৯০ টাকাই যথেষ্ট
এধরা যাক, কোনও ব্যক্তি ৩০ বছর বয়সে ১০ লক্ষ টাকার LIC Jeevan Umang কভার নিলেন এবং ৩০ বছরের প্রিমিয়াম পেমেন্ট টার্ম নিলেন।
মোট প্রিমিয়াম প্রায় ৯,৪৮,৯৯০ টাকা। বার্ষিক প্রিমিয়াম প্রায় ৩১,৬৩৩ টাকা। অর্থাৎ মাসে প্রায় ২,৬৯৬ টাকা দিতে হবে। সেই হিসাব করলে দৈনিক খরচ দাঁড়ায় আনুমানিক ৯০ টাকা।
অর্থাৎ, হিসাব অনুযায়ী প্রতিদিন প্রায় ৯০ টাকা আলাদা করে রাখলে এই ধরনের পলিসির প্রিমিয়াম মেটানো সম্ভব। অনেকেই নানা বদ অভ্যাসে, জাঙ্ক ফুড, ধূমপানে এই অ্যামাউন্ট খরচ করে ফেলেন। তার চেয়ে কোনও ভাল পলিসিতে বিনিয়োগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
৬০ বছর বয়সের পর বছরে ৮০ হাজার টাকা
৩০ বছর বয়সে পলিসি শুরু করে ৩০ বছর প্রিমিয়াম দেওয়ার উদাহরণ ধরলে ৬০ বছর বয়সের পর সারভাইভাল বেনেফিট পাওয়ার পর্যায় শুরু হয়। ১০ লক্ষ টাকা বেসিক সাম অ্যাশিওর্ডের ক্ষেত্রে ৮ শতাংশ হিসাবে বার্ষিক সারভাইভাল বেনেফিট দাঁড়ায় ৮০,০০০ টাকা।
অর্থাৎ, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে ৬০ বছর বয়সের পর প্রতি বছর ৮০ হাজার টাকা করে পাবেন। ১০০ বছর বয়স পর্যন্ত এই টাকা পেতে থাকবেন।
তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি; এটি কোনও সাধারণ সেভিংস অ্যাকাউন্টের মতো সুদ নয়। এটি LIC Jeevan Umang পলিসির সারভাইভাল বেনেফিট। পলিসির অন্যান্য শর্ত, প্রিমিয়াম, বয়স এবং বেসিক সাম অ্যাশিওর্ড অনুযায়ী ফাইনাল হিসেব বদলাতে পারে।
পলিসিধারীর মৃত্যু হলে কী হবে?
পলিসির মেয়াদ চলাকালীন পলিসিধারীর মৃত্যু হলে নমিনি এককালীন টাকা পাবেন। কিস্তিতেও টাকা নেওয়ার অপশন রয়েছে।
কর ছাড়ও পাবেন
LIC Jeevan Umang-এ দেওয়া প্রিমিয়ামের উপর আয়কর আইনের নিয়ম অনুযায়ী Section 80C-এর অধীনে করছাড়ের সুযোগ পাবেন। পলিসি থেকে পাওয়া টাকা করমুক্ত হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট আয়কর আইনের শর্ত ও পলিসির উপর নির্ভর করছে।
দ্রষ্টব্য: শেয়ার, বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলি বাজার পর্যবেক্ষণ মাত্র। এগুলি বিনিয়োগের পরামর্শ নয়। বাজারে বিনিয়োগের আগে অবশ্যই পড়াশোনা করুন এবং বিশেষজ্ঞের সাহায্য গ্রহণ করুন।