
চাকরি বা কাজের জন্য নিজের শহর বা রাজ্য থেকে দূরে থাকেন? রেশন কার্ডের e-KYC করাতে এবার বাড়ি ফিরতে নাও হতে পারে। দেশের যে কোনও জায়গা থেকে রেশন কার্ডের e-KYC করার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে খাদ্য দফতর।
ন্যাশনাল ফুড সিকিউরিটি অ্যাক্ট বা NFSA-এর আওতায় থাকা উপভোক্তারা দেশের যে কোনও জায়গায় তাঁদের পছন্দের রেশন দোকানে গিয়ে আধার কার্ডের মাধ্যমে e-KYC করতে পারবেন। মূলত পরিযায়ী শ্রমিক বা কাজের জন্য নিজের রাজ্যের বাইরে থাকা উপভোক্তাদের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগে e-KYC-এর জন্য অনেককেই নিজের রাজ্যে ফিরে যেতে হত।
খাদ্য দফতর ১১ অগাস্ট সংসদে দেওয়া এক জবাবে এই তথ্য জানিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, e-KYC দেশের যে কোনও রেশন দোকান থেকে করা যেতে পারে। ফলে কেউ যদি নিজের বাড়ির রাজ্য থেকে দূরে থাকেন, তাঁকে শুধুমাত্র e-KYC করানোর জন্য সেখানে ফিরে আসতে হবে না।
মোবাইল থেকেও e-KYC-এর সুযোগ
রেশন দোকানে যাওয়ার পাশাপাশি আরও একটি পথ রয়েছে। খাদ্য দফতরের জবাবে NIC-এর Mera eKYC মোবাইল অ্যাপের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এই অ্যাপে Aadhaar-based face authentication বা মুখের ছবি দিয়ে পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।
অর্থাৎ উপযুক্ত ক্ষেত্রে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও e-KYC করা সম্ভব। তবে একই রকম নামে থাকা অন্য কোনও অ্যাপকে সরকারি অ্যাপ ধরে নেওয়া ঠিক নয়। e-KYC করার আগে সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী সঠিক অ্যাপ এবং পদ্ধতি ব্যবহার করা জরুরি।
রেশন কার্ডের তথ্য কোথায় দেখবেন?
NFSA পোর্টালে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের রেশন কার্ড সংক্রান্ত রিপোর্টের লিঙ্ক দেওয়া রয়েছে। এর মধ্যে দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, বিহার-সহ বিভিন্ন রাজ্যের তথ্য পাওয়া যায়।
যে রাজ্য থেকে রেশন কার্ড ইস্যু করা হয়েছে, সেই রাজ্যের লিঙ্কে গিয়ে সংশ্লিষ্ট রেকর্ড এবং উপলব্ধ তথ্য দেখা যেতে পারে। তবে সব রাজ্যের পোর্টালের নকশা এবং সেখানে দেখানো তথ্য এক রকম নয়।
সমস্যা হলে কোথায় অভিযোগ করবেন?
রেশন কার্ড বা e-KYC নিয়ে কোনও সমস্যা হলে NFSA পোর্টালে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল অনুযায়ী PDS হেল্পলাইন নম্বরের তালিকাও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট রাজ্যের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করে সমস্যার কথা জানানো যেতে পারে।
তবে শুধু e-KYC সম্পূর্ণ করলেই কোনও বিতর্কিত রেশন-সুবিধা বা অধিকার নিশ্চিতভাবে আবার চালু হবে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কোনও কার্ড বা সুবিধা নিয়ে সমস্যা থাকলে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের PDS কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সমস্যার প্রকৃত কারণ জেনে নেওয়া জরুরি।