
Govt On LPG Price Hike: ভারতে LPG সিলিন্ডারের দাম আরও একবার বেড়েছে এবং এবার তেল কোম্পানিগুলো গার্হস্থ্য LPG সিলিন্ডারের দাম হঠাৎ করে ২৯ টাকা বাড়িয়েছে। এর আগে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ক্রমাগত বাড়ছিল। এই সর্বশেষ মূল্যবৃদ্ধির ফলে দিল্লিতে একটি ১৪-কিলোগ্রামের গ্যাস সিলিন্ডারের দাম এখন ৯১৩ টাকার পরিবর্তে ৯৪২ টাকা হয়েছে। আজ থেকে কলকাতায় গৃহস্থালী গ্যাসের দাম সিলিন্ডার পিছু বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৯৬৮ টাকা। এই দামটাই আগে ছিল, ৯৩৯ টাকা। এই মূল্যবৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করে সরকার একটি বিবৃতি জারি করেছে।
তিন মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার দাম বৃদ্ধি
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে তেল ও গ্যাসের ঘাটতির মধ্যে গত কয়েক মাস ধরে ১৯-কিলোগ্রামের বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ক্রমাগত বাড়লেও, গত তিন মাসে রান্নার গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডারের দামে এটি দ্বিতীয় বৃদ্ধি। এর আগের বৃদ্ধিটি হয়েছিল ৭ মার্চ, যখন পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী করে তোলে, তখন প্রতি সিলিন্ডারে ৬০ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছিল।
সরকারের দাবি– বিশ্বের সর্বনিম্ন
এলপিজি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে সরকার এখন একটি বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে যে, ভারতীয় বাড়িতে ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের দাম বিশ্বের অন্যতম সর্বনিম্ন। সরকার জানিয়েছে যে, ভারতে একটি সিলিন্ডারের দাম শুধু প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় কমই নয়, বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডার মতো উন্নত দেশগুলোর তুলনায়ও দেশে এলপিজি সিলিন্ডার উল্লেখযোগ্যভাবে কম দামে পাওয়া যায়। বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে প্রায় সমস্ত ভারতীয় গ্রাহক আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে এলপিজি পেয়ে আসছেন এবং ভারতীয় পরিবারগুলি এখনও পাকিস্তান, নেপাল, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার পরিবারগুলির তুলনায় কম মূল্য দেয়।
প্রতিটি সিলিন্ডারে কতটা ক্ষতি হয়?
সরকার জানিয়েছে, একটি সিলিন্ডার সাপ্লাইয়ের খরচ বেড়ে ১৬০০ টাকার বেশি হয়েছে, যার ফলে প্রতিটি গার্হস্থ্য সিলিন্ডারে প্রায় ৭০০ টাকার লোকসান (আন্ডার-রিকভারি) হচ্ছে। ফেব্রুয়ারি থেকে জুন ২০২৬-এর মধ্যে এলপিজির জন্য সৌদি CP (কন্ট্রাক্ট প্রাইস) বেঞ্চমার্ক প্রায় ৪৬% বৃদ্ধি পেয়েছে, কারণ হরমুজ প্রণালীর অবরোধের ফলে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় একটি ১৪.২ কেজি সিলিন্ডার সরবরাহের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে, যার ফলে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য রিটেল মূল্য প্রতি সিলিন্ডারে ৯৪২ টাকায় পরিবর্তিত হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, আন্ডার রিকভারি ভর্তুকি থেকে আলাদা, এটি হলো আন্তর্জাতিক ক্রয়মূল্য এবং নির্ধারিত রিটেল মূল্যের মধ্যকার পার্থক্য। গার্হস্থ্য এলপিজি খাতে এই আনুমানিক পরিমাণ গত বছর প্রায় ৬০,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছিল, যেখানে তার আগের বছর এই পরিমাণ ছিল ৪১,৩৩৮ কোটি টাকা।
হরমুজ নিয়ে উত্তেজনা এখনো রয়েছে
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরেও যে কয়েকটি দেশ এই অপরিহার্য সমুদ্রপথ দিয়ে তাদের জ্বালানি পণ্য পরিবহন অব্যাহত রেখেছিল, ভারত তাদের মধ্যে অন্যতম এবং দেশে কোনও পেট্রোলিয়াম পণ্যের ঘাটতি ছিল না।