
Mahindra Vision S: ল্যান্ড রোভার ডিফেন্ডার কেনার স্বপ্ন অনেকেরই থাকে। কিন্তু সাধ থাকলেও সাধ্যে সবসময় কুলোয় না। সেই মিডল-ক্লাস ম্যানের স্বপ্নই হয় তো ধরতে পেরেছে মাহিন্দ্রা। এমন এক গাড়ি আনছে, যা দেখলে যে কেউ বলবে, 'এ তো ছোট ডিফেন্ডার!'
চারপাশ জুড়ে ধু-ধু পাহাড়। দুর্গম রাস্তা। তার বুক চিরে ধুলো উড়িয়ে সশব্দে ছুটে চলেছে SUV। গাড়িটির শরীর ঢাকা কালো-সাদা 'ক্যামোফ্লেজ' আবরণে। অটোমোবাইল জগতে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে এই ভাইরাল ভিডিয়ো। সূত্রের খবর, নতুন গাড়ি আনতে চলেছে Mahindra। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সংস্থা গত বছর 'ভিশন এস' (Vision S) কনসেপ্ট কার শো-কেস করেছিল। এই নতুন ভিডিওর গাড়িটি তার প্রোডাকশন-রেডি মডেল।
সূত্রের খবর, হিমাচল প্রদেশের স্ফীতি ভ্যালির কাজী (Kaza) এলাকায় এই গাড়ির হাই-অল্টিটিউড বা অতি-উচ্চতায় টেস্টিং (Testing) চালাচ্ছিল সংস্থা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩,৬৫০ মিটার উঁচুতে পাহাড়ি খাড়াই রাস্তা ও কম অক্সিজেনের পরিবেশে গাড়িটির ইঞ্জিন এবং অফ-রোডিং পারফর্ম্যান্স কেমন হয়, তা খতিয়ে দেখতেই এই টেস্ট-রান চালাচ্ছে সংস্থা।
গত বছর অগাস্টে মহিন্দ্রা প্রথম তাদের 'ভিশন এস' কনসেপ্ট গাড়ির শো-কেস করেছিল। সাব-৪ মিটার বা ৪ মিটারের চেয়ে ছোট দৈর্ঘ্যের গাড়ি। মহিন্দ্রা XUV 3XO-র ঠিক ওপরের সেগমেন্টে রাখা হবে। সম্প্রতি এর বেশ কিছু স্পাই শট লিক হয়। ভিডিওটি মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। গাড়ির লুকস বেশ মাসকুলার ও বোল্ড।
গাড়ির সামনের অংশে মহিন্দ্রার সিগনেচার ৬-স্লাট গ্রিল। অ্যাগ্রেসিভ এল-শেপড (L-shaped) LED হেডল্যাম্প। বেশ একটা মডার্ন, মাসকুলার লুক। চওড়া হুইল আর্চ, বডিতে মিশে থাকা ডোর হ্যান্ডেল, ফ্ল্যাট রুফলাইন এবং বডির চারপাশে সাইড ক্ল্যাডিং। পিছনের দিকে স্পেয়ার হুইল মাউন্ট করা টেলগেট। ভার্টিকাল এলইডি টেলল্যাম্প। ঠিক ডিফেন্ডারের মতো বক্সি ও রাফ-অ্যান্ড-টাফ লুক। গাড়িতে প্যানোরামিক সানরুফ এবং অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম (ADAS) থাকতে পারে।
গাড়ির ভেতরের কেবিনে থাকছে মডার্ন টেকনোলজির টাচ পাবেন। বড় ইন্টিগ্রেটেড ইনফোটেইনমেন্ট ডিসপ্লে, কার্ভড এসি ভেন্ট, লেদারে মোড়া থ্রি-স্পোক স্টিয়ারিং হুইল এবং ফিজিক্যাল সুইচগিয়ারের কম্বিনেশন পাবেন।
মহিন্দ্রার সম্পূর্ণ নতুন 'Nu_IQ' প্ল্যাটফর্মের ওপর গাড়িটি তৈরি হচ্ছে। মডার্ন মডিউলার আর্কিটেকচার। সহজ ভাষায় বললে, পেট্রোল, ডিজেল, হাইব্রিড এবং সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক (EV); চার ধরনের পাওয়ারট্রেনই সাপোর্ট করবে। সংস্থার তরফে এখনও অফিশিয়াল লঞ্চের তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৭ সালের শুরুতেই ভারতের বাজারে এই গাড়ি এসে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।