
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমশ তীব্র হয়ে ওঠা যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব খুব শিগগিরই ভারতের সাধারণ মানুষের রান্নাঘরেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজের চলাচল ব্যাহত হলে রান্নার গ্যাস বা এলপিজি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। কারণ ভারতের জ্বালানি আমদানির একটি বড় অংশই এই পথ দিয়ে আসে।
ভারতে ঘরে ঘরে ব্যবহৃত এলপিজি সরবরাহ ব্যবস্থাই বর্তমানে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে বলে মনে করা হচ্ছে। অপরিশোধিত তেল বা এলএনজির তুলনায় এলপিজির বিকল্প উৎস সীমিত এবং এর মজুতও তুলনামূলকভাবে কম। জ্বালানি বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের প্রধান গবেষণা বিশ্লেষক সুমিত রিটোলিয়া জানিয়েছেন, ভারত তার মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ আমদানি করে। এর অধিকাংশই উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে আসে এবং প্রায় সব জাহাজই হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতে পৌঁছায়।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে প্রায় ৩০ দিনের এলপিজি মজুত রয়েছে। তবে নির্ধারিত জাহাজ দেরিতে পৌঁছালে এবং আতঙ্কে মানুষ আগেভাগে সিলিন্ডার বুকিং শুরু করলে এই মজুত দ্রুত কমে যেতে পারে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন শহরের ডিস্ট্রিবিউটররা জানিয়েছেন, অনেক গ্রাহক অতিরিক্ত সিলিন্ডার সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। তাই অযথা মজুত না করার জন্য সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিকল্প হিসেবে আমেরিকা, রাশিয়া বা আর্জেন্টিনা থেকে কিছু অতিরিক্ত এলপিজি আনা সম্ভব হলেও সেই পরিমাণ সীমিত। ফলে সরবরাহে বড় বিঘ্ন ঘটলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারেও অস্থিরতা বাড়ছে। ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ইতিমধ্যেই ব্যারেল প্রতি ৮৫ ডলারের ওপরে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তা আরও বাড়তে পারে। এতে ভারতের আমদানি বিল বাড়বে এবং সরকার যদি ভর্তুকি না বাড়ায়, তবে পেট্রোল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এলএনজি সংকট শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এলপিজি সরাসরি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িত। তাই এর সরবরাহে সমস্যা তৈরি হলে তার প্রভাব পড়বে দেশের কোটি কোটি পরিবারের রান্নাঘরে।