
আজকাল স্মার্টফোন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের এক অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। পড়াশোনা, অফিসের কাজ, অনলাইন পেমেন্ট, ছবি-ভিডিও রেকর্ড করা এবং বিনোদনসহ অনেক কাজ শুধুমাত্র একটা ফোনের ক্লিকেই হয়ে যাচ্ছে। ফলে ফোন কেনার সময় আজকাল মানুষ অনেক দেখে শুনে ফোন কিনছেন। ডিভাইসটি কতদিন চলবে, সেদিকে নজর রয়েছে ক্রেতাদের।
আর সেই কারণে ফোনের দাম বাড়লেও ফোন কিনতে পিছপা হচ্ছেন না গ্রাহকেরা। বরং তাঁরা ঠিক ফোনটি খুঁজে পেতে বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করছেন। কেউ নিজেদের বাজেট অ্য়াডজাস্ট করছেন, আবার অনেকে দামি ফোন কেনার জন্য নানা অপশন বেছে নিচ্ছেন। কিন্তু দেশের যুবসমাজ কি সত্যিই পছন্দের ফোনের জন্য বেশি দাম দিতে ইচ্ছুক? সমীক্ষায় যা জানা যাচ্ছে-
৪৬ শতাংশ যুবক বেশি দাম দিতে তৈরি
কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ ২,০০০-এরও বেশি গ্রাহকের উপর করা একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে। মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও ৪৬ শতাংশ মিলেনিয়াল তাদের পছন্দের স্মার্টফোন কেনার জন্য বেশি টাকা ব্যয় করতে ইচ্ছুক। এর প্রধান কারণ হল, ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী গ্রাহকরা।
নিজেদের পছন্দের ফোন কেনার জন্য এই তরুণ-তরুণীরা নির্দিষ্ট বাজেট বাড়ানো, EMI-তে ফোন কেনা, ব্র্যান্ড বদলানো বা অন্য অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করতেও পিছপা হচ্ছে না।
স্মার্টফোনের দাম কেন বাড়ছে?
সম্প্রতি প্রায় সব বাজেট ক্যাটাগরির স্মার্টফোনের দাম বেড়েছে। রিপোর্ট বলছে, এর প্রধান কারণ হল নানা পার্টসের ব্যাপক দাম বৃদ্ধি এবং AI সংক্রান্ত প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে ব়্যাম ও রমের ঘাটতি। এতে কোম্পানিগুলোর ওপর ফোনের দাম বাড়ানোর চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
২৯% গ্রাহক বাজেটের ব্যাপারে আপোস করেন না
সমীক্ষায় ২৯ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন তাঁদের বাজেট ফিক্সড। স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে তাঁরা বাজেট অতিক্রম করবেন না এবং এই গ্রাহকদের মধ্যে ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের সংখ্যাই বেশি।
এই ধরনের গ্রাহকরা নিজেদের বাজেটের মধ্যে ফোন কেনার জন্য কিছু ফিচার ছাড় দিতে রাজি রয়েছেন। তাঁরা এমন একটি মডেল বেছে নিতে চাইছেন যা তাদের প্রয়োজন মেটাবে। কিন্তু দাম হবে সাধ্যের মধ্যে।
রিফার্বিশড ফোনের দিকে আগ্রহ বাড়ছে
অত্যাধিক বেশি দাম দিয়ে ফোন কেনার ঝুঁকি এড়াতে ২৯ শতাংশ গ্রাহক নিজেদের বাজেটের মধ্যে একটি রিফারবিশড স্মার্টফোন কেনার কথা ভাবছেন। আরও ২৫ শতাংশ নতুন ফোন কেনার পরিবর্তে তাদের পুরোনো ফোনটি মেরামত করে সেটির আয়ু বাড়ানোর বিষয়ে পক্ষপাতী।