
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের জমানায় ছিল স্বাস্থ্য সাথী বিমা। নিখরচায় চিকিৎসা পাওয়া যেত। পরিবর্তনের পর চালু হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা (MMSBY)। কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত যোজনার সুবিধা পাবেন না বহু নাগরিক। তাঁদের জন্য ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিখরচায় চিকিৎসার স্কিম রাজ্য সরকারের। কীভাবে এই স্কিমের সুবিধে পাবেন? কী কী ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে? চলুন জেনে নেওয়া যাক।
কারা সুবিধা পাবেন না?
আর্থিক অনুদান যাতে প্রকৃত প্রাপকদের কাছেই পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করতে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত ঠিক করেছে সরকার। জেনে নিন সেই সব শর্ত।
আয়ের ঊর্ধ্বসীমা: যে সব পরিবারের বার্ষিক আয় ৮ লক্ষ টাকার বেশি।
রাজ্য সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্প: ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিম ২০০৮-এর আওতায় থাকা কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা।
কেন্দ্রীয় সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্প (CGHS): ১৯৫৪ সালের সিজিএইচএস-এর আওতাভুক্ত কর্মরত ও প্রাক্তন কর্মীরা।
ইএসআই পরিষেবা: ১৯৪৮ সালের এমপ্লয়িজ স্টেট ইন্স্যুরেন্স আইনের অধীনস্থ কর্মীরা।
রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা: কেন্দ্র বা রাজ্যের অধীনস্থ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, পুরসভা বা পঞ্চায়েত, সংবিধিবদ্ধ নিগম, ট্রাস্ট বা বোর্ডের নিজস্ব কোনও গোষ্ঠী স্বাস্থ্য বিমার অন্তর্ভুক্ত কর্মী বা পেনশনভোগীরা।
চিকিৎসা ভাতা প্রাপক: কেন্দ্র, রাজ্য বা আধাসরকারি সংস্থার যে সব কর্মী বা পেনশনভোগী নিয়মিত চিকিৎসা ভাতা পান।
প্রবীণ নাগরিক: ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সি ব্যক্তিরা। কারণ তাঁরা আয়ুষ্মান যোজনার আওতায় পড়েন।
ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নাম: এসআইআরে নাম পড়া লোকেরা আবেদন করতে পারবেন না। এছাড়া মৃত, স্থানান্তরিত বা ভুয়ো ভোটারারা। এসআইআর ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীনরা আবেদন করতে পারবেন।
MMSBY না স্বাস্থ্য সাথী, কোনটার সুবিধে বেশি
স্বাস্থ্য সাথী স্কিমের ভিতের ওপর ভর করে গড়ে উঠলেও নতুন এই যোজনায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।
দেশজুড়ে চিকিৎসার সুযোগ : স্বাস্থ্য সাথী স্কিমে মূলত রাজ্যের তালিকাভুক্ত হাসপাতালগুলিতেই ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা মিলত। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনায় দেশজুড়ে এই পরিষেবা পাওয়া যাবে। সারা ভারতের যে কোনও আয়ুষ্মান ভারত তালিকাভুক্ত হাসপাতালে গিয়ে ক্যাশলেস চিকিৎসা করাতে পারবেন। ফলে পরিযায়ী শ্রমিমদের জন্য বড় স্বস্তি।
নির্দিষ্ট আয়: স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পে আয়ের কোনও বাধ্যবাধকতা ছিল না বললেই চলে। কিন্তু নতুন এই প্রকল্পে বার্ষিক ৮ লক্ষ টাকার আয়ের সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রকৃত গরিব পরিবারগুলির কাছেই সহায়তা পৌঁছয়।
যে সব ক্ষেত্রে বদল নেই
প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তন হলেও মূল যে বিষয়গুলি পরিবারকে চিকিৎসার খরচ থেকে সুরক্ষা দেয়, সেগুলি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে:
বিমার অর্থ: প্রতি পরিবার পিছু বছরে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার সুবিধা মিলবে।
পুরোনো রোগ: প্রথম দিন থেকেই যে কোনও পুরোনো রোগের চিকিৎসা মিলবে, কোনও ওয়েটিং পিরিয়ড নেই।
পরিবারের সদস্য সংখ্যা: একটি পরিবারের কত জন সদস্য এই স্কিমের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন, তার কোনও ঊর্ধ্বসীমা রাখা হয়নি।
কীভাবে আবেদন করবেন?
আয়ুষ্মানের অফিশিয়াল পোর্টাল https://beneficiary.nha.gov.in/ এ যান। সেখানেই Mukhyamantri Swasthya Bima Yojana তে আবেদন করুন। অফলাইনেও চলছে ফর্মপূরণ।
দরকারি নথিপত্র
পরিবারের সব সদস্যের আধার নম্বর।
খাদ্য সাথী ডিজিটাল রেশন কার্ড।
পরিবারের বার্ষিক আয় ৮ লক্ষ টাকার কম, এই মর্মে একটি স্বঘোষিত আয়ের শংসাপত্র। (Self Declared Income Certificate)।