
বার্ধক্য, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়ানোর কথা বাজেটেই ঘোষণা করেছিল বিজেপি সরকার। এবার এই নিয়ে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হয়ে গেল। যাতে জানান হয়েছে, আগামী ১ অগাস্ট ২০২৬ থেকেই এই বর্ধিত ১,৫০০ টাকা ভাতা মিলবে। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের জারি করা নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, আগের মতোই ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT) ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই অর্থ পাঠানো হবে।
প্রসঙ্গত, তৃণমূল আমলে বার্ধক্য, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা হিসেবে ১০০০ টাকা দেওয়া হত প্রতি মাসে। তবে সামাজিক পেনশন বাড়ানোর ঘোষণা রাজ্য বাজেটেই করেছিল নতুন বিজেপি সরকার। সামাজিক কল্যাণ পেনশন প্রকল্পে মাসিক ভাতা ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করার কথা তখনি জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কবে থেকে এই বর্ধিত টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকবে? তা নিয়ে শুরু হয়েছিল জল্পনা। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢুকলেও, বার্ধক্য ভাতা প্রতিবন্ধী ভাতার বর্ধিত অর্থ মিলছিল না। অবেশেষ সোমবার এই নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে দিল রাজ্য সরকার।
১ অগাস্ট থেকে মিলবে বর্ধিত ভাতা
১ অগাস্ট ২০২৬ থেকে নতুন হারে ভাতা কার্যকর হবে। বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতা- এই তিনটি প্রকল্পের উপভোক্তারা বাড়তি সুবিধা পাবেন অগাস্ট থেকেই। বাড়তি অর্থ ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT)-এর মাধ্যমে সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। রাজ্যে NSAP-এর আওতায় মাসিক আর্থিক সহায়তা ১,০০০ থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ করার নির্দেশ জারি করেছে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর।
বিজ্ঞপ্তিতে যা বলা হয়ছে
রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের তরফে জ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সেই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ওল্ড এজ পেনশন স্কিমের অধীনে বার্ধক্য ভাতা ১০০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা করা হচ্ছে। ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল উইডো পেনশন স্কিমের অধীনে বিধবা ভাতা ১০০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা এবং ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ডিজ়অ্যাবিলিটিস স্কিমের অধীনে পেনশন স্কিমে ১০০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা করা হচ্ছে। আগামী ১ অগাস্ট থেকে এই নির্দেশিকা কার্যকর করা হবে। রাজ্যে পালাবদলের পরে ২২ জুন পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করে নতুন সরকার। সেই বাজেটেই জানানো হয়, বয়স্ক, বিধবা এবং বিশেষ ভাবে সক্ষম নাগরিকরা সমাজে সবচেয়ে বেশি অসুরক্ষিত। সেই কথা মাথায় রেখে সামাজিক সুরক্ষা বৃদ্ধির জন্য এই শ্রেণির মানুষের পেনশন মাসিক ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করার কথা ঘোষণা করা হচ্ছে। এবার ই ঘোষণার সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হলো। ‘ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার’ (DBT) ব্যবস্থার মাধ্যমেই সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই টাকা জমা করা হবে।
ইতিমধ্যেই জেলা স্তরে এই নির্দেশ দ্রুত বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। জেলাশাসক, জেলা পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন আধিকারিক, প্রজেক্ট রূপায়ণকারী সংস্থা এবং স্টেট আরবান ডেভেলপমেন্ট এজেন্সিকে (SUDA) নির্দিষ্ট নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। অগাস্টের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যাতে প্রতিটি যোগ্য মানুষের কাছে সংশোধিত পেনশনের টাকা পৌঁছে যায়, তা নিশ্চিত করতেই এই তৎপরতা। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে রাজ্যের লক্ষাধিক দুঃস্থ মানুষ আর্থিক দিক থেকে কিছুটা স্বস্তি পাবেন বলেই আশা করা হচ্ছে।
নতুন করে আবেদন করা যাচ্ছে?
বিধবা ভাতা ও বার্ধক্য ভাতার আবেদন প্রথম 'জনকল্যাণ শিবির'-এ করতে পারেননি অনেকেই। তবে আগামীতে যে শিবির হবে সেখানে আবেদনপত্র পাবেন উপভোক্তারা। অর্থাৎ নতুন করে যারা আবেদন করতে চান, তারা নতুন যে 'জনকল্যাণ শিবির' হবে, সেখান থেকে আবেদনের জন্য ফর্ম পাবেন, সেই ফর্ম ফিলআপ করে জমা দিতে পারবেন। এমনকি আবেদনপত্র পূরণ করতেও সাহায্য করবেন সরকারি কর্মীরাই। তবে এই মুহূর্তে নতুন করে আবেদন করার সুযোগ নেই সরকারি এই প্রকল্পে। বর্তমানে এই প্রকল্পে অফলাইন এবং অনলাইনে আবেদন জানানোর প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে খুব শীঘ্রই সরকারের তরফে আবেদন নিয়ে নতুন করে নির্দেশিকা জারি করা হবে বলে জানা যাচ্ছে।
কারা সুবিধা পাবেন?
এই প্রকল্পে সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত মানতে হবে আবেদনকারীকে। সাধারণ আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নূন্যতম বয়স হতে হবে ষাট বছর। বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিরা বয়স পঞ্চান্ন বছর হলেই আবেদনযোগ্য। এছাড়া আবেদনকারীকে অবশ্যই রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। অন্তত টানা দশ বছর তাঁকে রাজ্যে বসবাস করতে হবে। এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে গেলে আবেদনকারীকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র হিসেবে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড এবং ব্যাঙ্কের পাসবইয়ের কপি বা অ্যাটেস্টেড জেরক্স জমা দিতে হবে।