
সারা দেশে আচমকা বাড়তে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। এমনিতেই গোটা দেশে চিনির দাম বৃদ্ধি নিয়ে অস্বস্তিতে কেন্দ্র। এরমধ্যেই অগাস্টের শেষ সপ্তাহে দর বাড়ছে পেঁয়াজের। দিল্লি থেকে নাসিক, চেন্নাই সর্বত্রই চিত্রটা এক। কলকাতায় পেঁয়াজের দামে কী অবস্থা, দেখে নেওয়া যাক।
নাসিক থেকে বাংলায় বিপুল পরিমাণে পেঁয়াজ রফতানি করা হয়। ফলে নাসিকে পেঁয়াজের দাম বাড়লে, তার এফেক্ট দেখা যায় কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যে। নাসিকে গত জুলাইয়ের শেষের দিকে পেঁয়াজের কুইন্টাল প্রতি দর ছিল ২০০০-২১০০ টাকা। কিন্তু, গত একসপ্তাহের রেট দেখলে দেখা যাচ্ছে ৩৬০০ টাকা পার করে গিয়েছে রেট। অর্থাৎ নাসিকেই চড়া দামে বিকোচ্ছে পেঁয়াজ।
শিয়ালদা কোলে মার্কেট থেকে কলকাতা ও শহরতলিতে পাইকারি পেঁয়াজ বিক্রি হয়। সোমবার রাত ও মঙ্গলবার সকালের রেট অনুযায়ী, আজ শিয়ালদা পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দর রয়েছে ৪০-৪৫ টাকা। যা কিনা মাসখানেক আগেও ছিল মাত্র ১৫-২০ টাকার মধ্যে।
সোমবার রাতে কলকাতার গড়িয়া বাজারে প্রতি কেজি সুখসাগর পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫২ টাকা দরে। অন্যদিকে, সাদা পেঁয়াজের দর রয়েছে ৫৬ টাকা। টালিগঞ্জ মার্কেট এলাকায় ৫০-৫৫ টাকা রয়েছে পেঁয়াজের দর। অন্যদিকে, এয়ারপোর্ট সংলগ্ন এলাকায় দিন ১০ আগেও পেঁয়াজের কেজি ছিল মাত্র ৩৫-৪০ টাকা। সেই দাম এখন বেড়ে হয়েছে ৫০-৫৪ টাকা।
দেশজুড়ে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে কেন্দ্র বাফার স্টকে থাকা পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যে শহরগুলিতে খুচরো দাম জাতীয় গড়ের তুলনায় বেশি, সেখানে বেশি পরিমাণে পেঁয়াজ পাঠানোর উপর জোর দেওয়া হতে পারে। দেশে এখন পেঁয়াজের জাতীয় গড় রয়েছে ৪১.৬৪ টাকা প্রতি কেজি। অর্থাৎ কলকাতায় দাম অনেক বেশি।
প্রাথমিকভাবে পাঁচটি বড় ভোক্তা কেন্দ্রকে চিহ্নিত করেছে সরকার। এগুলি হল, চেন্নাই, মাদুরাই, দিল্লি, কোচি এবং গুয়াহাটি। নাসিক থেকে এই শহরগুলিতে পেঁয়াজ পাঠানো হবে। বাজারের চাহিদা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তীতে আরও শহরকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হতে পারে।