
নতুন এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড স্কিম ২০২৬ চালু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। যার প্রভাব পড়ছে মোটামুটি ৮ কোটি সক্রিয় ইপিএফও সাবস্ক্রাইবারের উপর। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হল, কর্মচারীর বাধ্যতামূলক প্রভিডেন্ট ফান্ড জমার পরিমাণ মাসে সর্বোচ্চ ১,৮০০ টাকাই থাকবে। এটি নির্ধারিত ১৫,০০০ টাকার বেতনসীমার ১২ শতাংশ।
একটু সহজ করে বললে, এখন কোনও কর্মীর বেসিক পে মাসে ১ লক্ষ টাকা হলেও বাধ্যতামূলক পিএফ ১,৮০০ টাকার বেশি হবে না। এর বেশি অবদান রাখলে সেটা ভলেন্টারি প্রভিডেন্ট ফান্ড হিসেবে গণ্য হবে।
কী পরিবর্তন হয়েছে?
ইপিএফ স্কিম, ২০২৬-এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে কর্মচারীর বাধ্যতামূলক পিএফ ১৫,০০০ টাকার নির্ধারিত বেতনসীমার উপরই ধরা হবে। যার ফলে সংস্থাকে প্রতি মাসে ১৫,০০০ টাকার ১২ শতাংশ অর্থাৎ ১,৮০০ টাকা পিএফ হিসেবে জমা করতে হবে।
যাঁরা অবসরের জন্য আরও বেশি সঞ্চয় করতে চান, তাঁরা ভলেন্টারি পিএফ-এর মাধ্যমে টাকা জমা দিতে পারেন। তবে আপনি যত টাকাই অতিরিক্ত জমা করুন, সেই পরিমাণ টাকা জমা করার কোনও আইনি বাধ্যবাধকতা থাকবে না কোম্পানির।
ইনহ্যান্ড স্যালারি কি বাড়বে?
পিএফ-এর ক্যাপিং রয়েছে ১৮০০ টাকা। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেরই প্রশ্ন, তাহলে কি ইনহ্যান্ড স্যালারি এবার বেড়ে যাবে? মাসের শেষে হাতে আসবে বেশি টাকা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর উত্তর রয়েছে আপনি যেই সংস্থায় কাজ করছেন, তাদের বেতন কাঠামো এবং পিএফ নীতির উপর।
আইন বিশেষজ্ঞ জার্মেইন পেরেইরার মতে, এই নয়া বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে কর্মচারী এবং নিয়োগকর্তা দুজনেরই অবদান ১২ শতাংশই থাকবে। তার অতিরিক্ত টাকা ভলেন্টারি হিসেবে গণ্য করা হয়।
তাঁর দাবি, কর্মচারী চাইলে নিজের বেতনের ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ভলেন্টারি পিএফ-এ জমা রাখতে পারেন।
বেতন কাঠামোতে কী পরিবর্তন হতে পারে?
ভিভাভাঙ্গাল অনুকুলকারা প্রাইভেট লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর সিদ্ধার্থ মৌর্যের মতে, এই স্কিম পিএফ-এ জমা টাকার পরিমাণ নিজের থেকে কমাচ্ছে না। বরং পিএফ সংক্রান্ত কাঠামোর নতুন সংজ্ঞা সামনে আনছে।
তিনি জানান, যাঁদের বেতন এই লিমিটের অনেক বেশি, তাঁদের ক্ষেত্রে কর্মচারী ও নিয়োগকর্তা উভয়েরই ১,৮০০ টাকা করে পিএফ জমা করলেই চলবে।
এর ফলে অনেক সংস্থা কস্ট টু কোম্পানি আবার নতুন করে তৈরি করতে পারে। সেক্ষেত্রে কোনও কর্মচারী কম পিএফ কেটে হাতে বেশি বেতন পেতে পারেন। আবার ভলেন্টারি পিএফ-এর মাধ্যমে বেশি সঞ্চয় করে রিটায়ারমেন্টের জন্য নিজেকে সিকিওর করে ফেলতে পারেন।
মৌর্যের মতে, ভলেন্টারি পিএফ এখনও ট্য়াক্স বাঁচানোর এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের একটি আকর্ষণীয় মাধ্যম।
কাদের উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা?
যাঁদের বেসিক বেতন ১৫,০০০ টাকা বা তার কম, তাঁদের ক্ষেত্রে কোনও পরিবর্তন হবে না। কারণ তাঁদের পিএফ ইতিমধ্যেই নির্ধারিত বেতনের ভিত্তিতেই হিসেব করা হয়।
তবে যাঁদের বেসিক বেতন ১৫,০০০ টাকার বেশি, তাঁদের ক্ষেত্রে সংস্থার বর্তমান পিএফ নীতির উপরই সবটা নির্ভর করবে। অনেক সংস্থা এই সীমার বদলে কর্মচারীর প্রকৃত বেসিক বেতনের উপর পিএফ জমা করে থাকে। এই ধরনের সংস্থাগুলি চাইলে আগের ব্যবস্থাই চালিয়ে যেতে পারে। তাই এখনই এটা বলা যাচ্ছে না যেই ইনহ্যান্ড স্যালারি বেড়ে যাবে। তবে তেমনটা হলেও হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।