
ট্রেনে ভ্রমণের সময় অনেককেই বলতে শোনা যায়, 'সিট না পেলেও সমস্যা নেই, ট্রেনে উঠে টিটিই-এর সঙ্গে কথা বলে একটা ব্যবস্থা করে নেব।' অনেক ক্ষেত্রেই এই পদ্ধতিতে যাত্রীরা বৈধভাবে আসন পেয়ে যান। কিন্তু সব ধরনের ‘ব্যবস্থা’ যে বৈধ নয়, তা অনেকেই জানেন না। ভুল পথে সিট জোগাড় করতে গিয়ে জরিমানা তো বটেই, গুরুতর ক্ষেত্রে জেলও হতে পারে।
আসলে ট্রেনে আসন পাওয়ার দুটি আলাদা পরিস্থিতি রয়েছে। যদি আপনার কাছে বৈধ টিকিট থাকে এবং খালি আসন উপলব্ধ থাকে, তাহলে টিটিই নির্ধারিত নিয়ম মেনে অতিরিক্ত ভাড়া ও প্রয়োজনীয় চার্জ নিয়ে আসন বরাদ্দ করতে পারেন। এই ক্ষেত্রে তিনি একটি সরকারি রসিদ বা টিকিট ইস্যু করেন। এটি সম্পূর্ণ বৈধ প্রক্রিয়া।
সমস্যা শুরু হয় তখন, যখন কেউ রসিদ ছাড়াই টিটিই-কে টাকা দিয়ে আসন জোগাড় করার চেষ্টা করেন। অনেক যাত্রী মনে করেন, টিটিই যখন আসন দিয়েছেন, তখন আর কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি এত সহজ নয়।
ট্রেনে শুধু টিটিই-ই টিকিট পরীক্ষা করেন না। যাত্রাপথে রেলওয়ের ফ্লাইং স্কোয়াড বা বিশেষ টিকিট পরীক্ষক দল যে কোনও স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠে যাত্রীদের টিকিট ও আসনের বৈধতা যাচাই করতে পারে। এছাড়া গন্তব্য স্টেশনে নেমেও টিকিট পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হতে পারে।
এই সময় যদি দেখা যায় যে আপনার কাছে বৈধ সংরক্ষিত টিকিট বা টিটিই-র দেওয়া সরকারি রসিদ নেই, তাহলে আপনাকে টিকিটবিহীন বা অননুমোদিত যাত্রী হিসেবে গণ্য করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে রেল আইন অনুযায়ী জরিমানা করা হতে পারে। জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে কারাদণ্ডের মুখেও পড়তে হতে পারে।
বিশেষ করে ওয়েটিং লিস্টে থাকা ই-টিকিট কনফার্ম না হলে সেই টিকিট নিয়ে সংরক্ষিত কামরায় ভ্রমণ করা বৈধ নয়। এমন পরিস্থিতিতে ধরা পড়লে যাত্রীকে টিকিটবিহীন হিসেবে গণ্য করা হতে পারে।
তাহলে কী করবেন?
যদি আপনার কাছে সংরক্ষিত টিকিট না থাকে, তাহলে প্রথমে একটি সাধারণ (Unreserved) টিকিট কিনুন। এরপর ট্রেনে উঠে টিটিই-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে খালি আসন থাকলে নিয়ম মেনে ভাড়া ও চার্জ পরিশোধ করুন। অবশ্যই টিটিই-এর কাছ থেকে সরকারি রসিদ সংগ্রহ করুন। এই রসিদই আপনার বৈধ ভ্রমণের প্রমাণ।
তাই মনে রাখবেন, টিটিই-র মাধ্যমে আসন পাওয়া বেআইনি নয়, কিন্তু রসিদ ছাড়া কোনও অর্থ লেনদেন বা ‘গোপন ব্যবস্থা’ আপনাকে বড় আইনি সমস্যায় ফেলতে পারে। নিরাপদ ও বৈধ ভ্রমণের জন্য সব সময় সরকারি নিয়ম মেনে চলাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।