
সারা দেশে কেন্দ্রীয় সরকারের একটি প্রকল্প চালু আছে, যার নাম - 'প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জন ঔষধি কেন্দ্র', সরকারি সহায়তায় এই ব্যবসা শুরু করে প্রথম দিন থেকেই প্রচুর মুনাফা অর্জন করতে পারেন। পশ্চিমবঙ্গে আপাতত ১১৭টি জন ঔষধি কেন্দ্র রয়েছে। এবার ৪৬৯ টা জন ঔষধি কেন্দ্র তৈরি করা হবে বলে ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
যারা শিক্ষিত, কিন্তু ভালো চাকরি খুঁজে পান না, আর যে চাকরি পান, সেগুলোতেও ভালো বেতন নেই। তারা কী করতে পারেন? এরা ছোট ব্যবসা শুরু করে সহজেই মাসে এক থেকে দু'লক্ষ টাকা আয় করতে পারেন। এই ব্যবসা শুরু করা খুবই সহজ। শুধু মানতে হবে বিশেষ কিছু শর্ত। কীভাবে অ্যাপ্লাই করবেন? জানুন।
দেশে জন ঔষধি কেন্দ্রের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে মোট ১৬,৯১২টি জন ঔষধি কেন্দ্র ছিল, যা এখন বেড়ে ১৮,৬৪৬টি হয়েছে। সরকার ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে এই সংখ্যা ২৫,০০০-এ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে।
জানুন এই ব্যবসা কীভাবে শুরু করা যায়?
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, PM জন ঔষধি কেন্দ্র খোলার জন্য আবেদন ফি হল ৫,০০০ টাকা। তফসিলি জাতি/উপজাতি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলির বাসিন্দাদের জন্য এটি বিনামূল্যে। এটি খোলার জন্য আবেদনকারীদের অবশ্যই ডি-ফার্মা বা বি-ফার্মা সার্টিফিকেট থাকতে হবে।
কতটা জায়গা থাকতে হবে?
অন্যান্য প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে, একটি জন ঔষধি কেন্দ্র খুলতে এবং তা পরিচালনা করতে প্রায় ১২০ বর্গফুট জায়গার প্রয়োজন হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল জন ঔষধি কেন্দ্রটির অবস্থান বিশেষত কোনও হাসপাতাল বা জনবহুল এলাকার কাছাকাছি হলে ভালো হয়।
রেফ্রিজারেটর, কম্পিউটারের জন্ ঋণ দেবে কেন্দ্র
র্যাক, কাউন্টার এবং রেফ্রিজারেটরের দাম ১,০০,০০০ থেকে ১,৫০,০০০ টাকার মধ্যে। বিলিং এবং ইনভেন্টরি ব্যবস্থাপনার জন্য একটি কম্পিউটার এবং প্রিন্টার প্রয়োজন হবে, যার দাম প্রায় ৪০,০০০ টাকা হতে পারে। প্রাথমিকভাবে আনুমানিক ১,০০,০০০ থেকে ২,০০,০০০ টাকা প্রয়োজন হবে। আসবাবপত্র এবং কম্পিউটারের জন্য ২,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত সহায়তা প্রদান করে। এর মানে হল, আসবাবপত্র এবং অন্যান্য সামগ্রীর জন্য ২,০০,০০০ টাকার ঋণ পাবেন।
PM জন ঔষধি কেন্দ্র খোলার জন্য সরকারের সহায়তার কথা বিবেচনা করে, আর্থিক সহায়তাটি প্রণোদনা আকারে প্রদান করা হয়। কেন্দ্র ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মাসিক ঔষধ ক্রয়ের উপর ১৫% প্রণোদনা, অর্থাৎ প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত দেবে।
PM জন ঔষধি কেন্দ্র খোলার জন্য কী কী নথি লাগবে?
PM জন ঔষধি কেন্দ্র খোলার আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নথিগুলির মধ্যে রয়েছে আধার কার্ড, ফার্মাসিস্ট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (ডিফার্মা), প্যান কার্ড, একটি বৈধ মোবাইল নম্বর এবং বসবাসের প্রমাণপত্র। পিএম জন ঔষধি কেন্দ্রের জন্য আবেদন প্রক্রিয়াটি খুবই সহজ এবং ঘরে বসেই অনলাইনে এটি করতে পারেন।
PM জন ঔষধি কেন্দ্র খোলার জন্য কীভাবে অ্যাপ্লাই?
আয়ের বিষয়টি মূলত ওষুধ বিক্রির উপর নির্ভর করে। যত বেশি ওষুধ বিক্রি করবেন, কমিশনও তত বেশি হবে। বিক্রি হওয়া প্রতিটি ওষুধের উপর নির্দিষ্ট ২০% মার্জিন পাবেন। এছাড়াও, ইনসেনটিভও পান। যদি প্রতিদিন ১০,০০০ টাকার ওষুধ বিক্রি করেন, তাহলে কমিশন হবে প্রতিদিন ২,০০০ টাকা, যার ফলে মাসিক আয় দাঁড়াবে ৬০,০০০ টাকা। এই টাকা দিয়ে দোকানের ভাড়া এবং বিদ্যুতের বিল মেটানো যায়। তবে, বিক্রির এই পরিমাণ খুবই কম।
কাছাকাছি জন ঔষধি কেন্দ্রগুলিতে ভিড় দেখতে পাবেন। অনেক দোকানে দৈনিক ৫০,০০০ থেকে ১ লক্ষ টাকার বিক্রি হয়। যদি প্রতিদিন ৫০,০০০ টাকার ওষুধ বিক্রি হয়, তাহলে কমিশন হবে ১০,০০০ টাকা। এর মানে হলো, মাসে ৩ লক্ষ টাকা আয় করা সম্ভব। বিক্রি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মী সংখ্যাও বাড়াতে পারেন। এর মানে হল, সরকারি সহায়তায় জন ঔষধি কেন্দ্র খুলে সহজেই প্রতি মাসে ২ লক্ষ টাকা আয় করতে পারেন।