
বিশ্বজুড়ে অস্থির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। সোনার দামে লাগাতার বৃদ্ধি। এহেন আবহে দেশবাসীকে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অতিরিক্ত সোনা কেনার বদলে বিকল্প বিনিয়োগ কী? তাই নিয়েই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। প্রশ্ন উঠছে, যদি সোনা না কেনেন, তা হলে সাধারণ মানুষ কোথায় টাকা বিনিয়োগ করতে পারেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনা দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে পরিচিত হলেও সব সময়ে একমাত্র বিনিয়োগের মাধ্যম নয়। বাজার পরিস্থিতি, সুদের হার এবং বিশ্ব অর্থনীতির ওঠানামার উপর নির্ভর করে অন্য ক্ষেত্রেও ভাল রিটার্ন পাওয়া যেতে পারে।
ফিক্সড ডিপোজিট এখনও নিরাপদ ভরসা
ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিট বা এফডি এখনও বহু মানুষের প্রথম পছন্দ। বর্তমানে একাধিক ব্যাঙ্কে তুলনামূলক বেশি সুদ পাওয়া যাচ্ছে। ঝুঁকি কম হওয়ায় অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা নিরাপদ বিনিয়োগ খোঁজেন যাঁরা, তাঁদের জন্য এটি ভাল বিকল্প হতে পারে।
SIP এবং মিউচুয়াল ফান্ডে আগ্রহ বাড়ছে
বর্তমানে অনেক তরুণ বিনিয়োগকারী SIP বা সিস্টেম্যাটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যানের দিকে ঝুঁকছেন। নিয়মিত ছোট অঙ্কের বিনিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে বড় ফান্ড তৈরি করা সম্ভব বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
Mutual Fund-এ বিনিয়োগ বাজারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় ঝুঁকি থাকলেও দীর্ঘ মেয়াদে ভাল রিটার্নের সম্ভাবনা থাকে।
সরকারি প্রকল্পেও ভাল রিটার্ন মিলতে পারে
পোস্ট অফিসের বিভিন্ন সঞ্চয় প্রকল্প, পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড বা PPF এবং সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিমের মতো সরকারি প্রকল্পেও এখন অনেকের আগ্রহ বাড়ছে। নিরাপত্তা এবং নির্দিষ্ট সুদের কারণে মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে এগুলি এখনও জনপ্রিয়।
রুপো এবং ডিজিটাল গোল্ডও বিকল্প হতে পারে
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সোনার পরিবর্তে অনেকেই এখন রুপো বা ডিজিটাল গোল্ডের দিকেও নজর দিচ্ছেন। তুলনামূলক কম দামে বিনিয়োগ শুরু করা যায় বলেই এই ক্ষেত্রগুলির জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
তবে আর্থিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শুধুমাত্র আবেগে বা বাজারে আতঙ্ক ছড়ালে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। সোনা পুরোপুরি বাদ দেওয়ারও পরামর্শ দিচ্ছেন না তাঁরা। বরং বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভাগ করে বিনিয়োগ করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
ভারতের মতো দেশে সোনা শুধু বিনিয়োগ নয়, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক আবেগেরও অংশ। বিয়ে থেকে উৎসব; সব ক্ষেত্রেই সোনার চাহিদা রয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রী সোনা কেনা কমানোর কথা বলায় তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম এবং জ্বালানির খরচ বাড়লে দেশের আমদানি বিলও বেড়ে যায়। তাই বিকল্প বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়ার পিছনে অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার ভাবনাও থাকতে পারে।