Advertisement

PM Surya Ghar Yojana Rules: PM সূর্য ঘরে বিল আসবে শূন্য, ৩০০ ইউনিট Free বিদ্যুৎ, ভাড়াটেরাও পাবেন সুবিধা?

ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ বিলের মাঝে, কেন্দ্রীয় সরকারের 'পিএম সূর্য ঘর অর্থাৎ মোদী সরকারের 'বিনামূল্যে বিদ্যুৎ প্রকল্প' লক্ষ লক্ষ পরিবারের জন্য এক বড় স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে, বিদ্যুতের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যায়। এই প্রকল্পে সরকার শুধু ভর্তুকিই দেয় না, সাশ্রয়ী ঋণেরও ব্যবস্থা করে দেয়। এছাড়াও, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন উপার্জনের সুযোগও তৈরি করে দেয়। সরকার। ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করে উপযুক্ত ব্যক্তি বিনামূল্যে সারা বছর চালিয়ে যেতে পারেন বিদ্যুৎ খরচ। সেইসঙ্গে আছে বাড়তি লাভের সুযোগও।

   বিদ্যুতের বিল বাঁচানোর এই প্রকল্পে কারা আবেদনের যোগ্য? বিদ্যুতের বিল বাঁচানোর এই প্রকল্পে কারা আবেদনের যোগ্য?
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 24 Jun 2026,
  • अपडेटेड 1:19 PM IST

ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ বিলের মাঝে, কেন্দ্রীয় সরকারের 'পিএম সূর্য ঘর অর্থাৎ মোদী সরকারের 'বিনামূল্যে বিদ্যুৎ প্রকল্প' লক্ষ লক্ষ পরিবারের জন্য এক বড় স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে, বিদ্যুতের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যায়। এই প্রকল্পে সরকার শুধু ভর্তুকিই দেয় না, সাশ্রয়ী ঋণেরও ব্যবস্থা করে দেয়। এছাড়াও, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন উপার্জনের সুযোগও তৈরি করে দেয়। সরকার। ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করে উপযুক্ত ব্যক্তি বিনামূল্যে সারা বছর চালিয়ে যেতে পারেন বিদ্যুৎ খরচ। সেইসঙ্গে আছে বাড়তি লাভের সুযোগও। 

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে চালু হওয়া পিএম সূর্য ঘর বিনামূল্যে বিদ্যুৎ প্রকল্প হল কেন্দ্রীয় সরকারের একটি প্রধান সৌরশক্তি প্রকল্প। এর উদ্দেশ্য হল সারা দেশে বাড়িতে বাড়িতে  রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপন করা এবং পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহারকে আরও উৎসাহিত করা। যোগ্য পরিবারগুলি তাদের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন করে মাসিক বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে পারে। সরকার বিশ্বাস করে যে এটি বিদ্যুতের উপর নির্ভরতা কমাবে এবং পরিবারগুলির মাসিক খরচ ম্যাজিকের মতো কমিয়ে দিতে পারে।

অর্থাৎ এই প্রকল্পে আপনার বিদ্যুত বিল শূন্য হয়ে যেতে পারে। কোনও টাকা খরচ না করেই আপনি বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবেন। তার জন্য কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর যোজনা’-তে  আবেদন করতে হবে। পালাবদলের পর বাংলাতেও এই প্রকল্প চালু হয়েছে। দিন কয়েক আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী  রাজ্যবাসীকে এই প্রকল্পে আবেদনের অনুরোধ করেছেন। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে সম্প্রতি যে জনকল্যাণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল, তাতে পিএম সূর্য ঘর যোজনার কাউন্টারে ভিড় জমিয়েছিলেন বহু মানুষ। তা দেখে সরকারি কর্তারা অনুমান করছেন, বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণেই হয়তো মানুষ সৌর বিদ্যুতের দিকে বেশি করে ঝুঁকছেন। 

 এই বিশেষ প্রকল্পে বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল বসাতে হবে। প্রাকৃতিক উপায়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে আর বিল দিতে হবে না। মূলত, যাঁরা সমাজে পিছিয়ে রয়েছেন, প্রান্তিক এলাকার মানুষ, তাঁদের জন্য এই প্রকল্প এনেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সোলার প্যানেল বসালে বিল তো দিতেই হবে না, উল্টে সরকারের থেকে ভর্তুকি পাবেন। ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের শেষ নাগাদ এক কোটি বাড়িতে সোলার রুফটপ প্যানেল স্থাপন করা। ভর্তুকির টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে উপভোক্তার কাছে পৌঁছে যাবে। কত বিদ্যুতের জন্য কত ভর্তুকি মিলবে তাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত, ১ কিলোওয়াটের জন্য পাওয়া যাবে ৩০ হাজার টাকা, দুই কিলোওয়াটের জন্য মিলবে ৬০ হাজার টাকা এবং তিন কিলোওয়াটের জন্য মিলবে সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা। সরকারের দাবি, এই জনমুখী প্রকল্পের অধীনে বিদ্যুতের বিল অনেকটাই কমে যাবে এবং অনেক পরিবার প্রতি মাসে বিনামূল্যে বিদ্যুতের সুবিধাও পেতে পারে।

Advertisement

সরকার দিচ্ছে ভর্তুকি
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, মাসে ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে ১-২ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌর প্যানেল বসালেই হবে। এর জন্য খরচ হবে আনুমানিক ৭০ হাজার টাকা থেকে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। এতে কেন্দ্রীয় ভর্তুকি মিলবে ৩০-৬০ হাজার টাকা, যা সরাসরি গ্রাহকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে। সরকারি কর্তাদের দাবি, এই ব্যবস্থায় মাসে প্রায় ১০০-২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। তাতে মাসিক ৭০০-১,৪০০ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে। যে সব পরিবার মাসে ২০০-৩০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তাঁদের জন্য ২-৩ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌর প্যানেলই যথেষ্ট। এর জন্য খরচ হতে পারে ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা থেকে ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। তাতে কেন্দ্রীয় ভর্তুকি পাওয়া যাবে ৬০-৭৮ হাজার টাকা পর্যন্ত। তা থেকে মাসে ২০০-৩০০ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। বিদ্যুৎ বিলে সাশ্রয় হবে মাসিক ১,৪০০-২,০০০ টাকা। যাঁরা ৩ কিলোওয়াট কিংবা তার বেশি ক্ষমতার সৌর প্যানেল বসাতে চান, তাঁরা সর্বোচ্চ ভর্তুকি পাবেন ৭৮ হাজার টাকা। 

আবেদনের যোগ্যতা

  • আবেদনকারীদের ভারতের বাসিন্দা হতে হবে।
  • মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সদস্য হতে হবে।
  • আবেদনকারীদের নিজস্ব বাসস্থান থাকতে হবে, যার ছাদ সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য উপযুক্ত।
  • আবেদনকারীদের অবশ্যই একটি বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ থাকতে হবে।
  • আবেদনকারীরা সোলার প্যানেলের জন্য অন্য কোনও ভর্তুকি গ্রহণ করতে পারবেন না।

কীভাবে আবেদন করবেন?
প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর বিদ্যুৎ যোজনার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করতে পারবেন। ওয়েবসাইটটি হল, pmsuryaghar.gov.in, ওই ওয়েবসাইটে যাওয়ার পর তারপর কী কী করতে হবে দেখে নিন ধাপে ধাপে-

  • ওয়েবসাইটে যাওয়ার পর কনজ়িউমার অপশনে গিয়ে তারপর অ্যাপ্লাই নাও-তে ক্লিক করুন।
  • আপনার মোবাইল নম্বর ও ক্যাপচা কোড দিন। তারপর ‘ভেরিফাই’ অপশনটিতে ক্লিক করুন।
  • ওটিপিতে দিয়ে লগইন-এ ক্লিক করুন।
  • নাম, ই-মেইল, ঠিকানা, রাজ্য, জেলা এবং পিন কোডের মতো প্রয়োজনীয় বিবরণ দিয়ে সেভ-এ ক্লিক করুন।
  • অনলাইনে ঠিক এইভাবেই সূর্যঘর যোজনার জন্য আবেদন করতে হবে। এছাড়া জনকল্যাণ শিবিরেও সূর্য ঘর যোজনা প্রকল্পে আবেদন করা যাচ্ছে।

তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়েছে, যারা ভাড়া বাড়িতে থাকেন, তারাও কি এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন? এই বিষয়ে সরকারের নিয়ম কী? আসুন জেনে নেওয়া যাক-
পিএম সূর্য ঘর যোজনার সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীর নামে একটি আবাসিক বাড়ি থাকতে হবে। সেই বাড়িতে বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগও থাকতে হবে। কারণ এই প্রকল্পের আওতায় বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল বসানো হয় এবং সেই বিদ্যুৎ সরাসরি বাড়ির বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। সাধারণভাবে কোনও ভাড়াটিয়া নিজের নামে এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারেন না। কারণ তিনি বাড়ির মালিক নন এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ সংযোগও তাঁর নামে থাকে না। তবে সরাসরি সরকারি ভর্তুকি না পেলেও ভাড়াটিয়ারা পরোক্ষভাবে এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন। যদি বাড়ির মালিক পিএম সূর্য ঘর যোজনার আওতায় সোলার প্যানেল বসান, তাহলে সেই বাড়িতে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করা যাবে। ফলে বিদ্যুতের খরচ কমবে এবং ভাড়াটিয়ারাও কম বিলের সুবিধা পেতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনি যদি ভাড়া বাড়িতে থাকেন এবং এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে চান, তাহলে বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। মালিক যদি সোলার প্যানেল বসাতে আগ্রহী হন, তাহলে তিনিই সরকারি ভর্তুকির জন্য আবেদন করতে পারবেন। এর ফলে বাড়ির মালিক যেমন সুবিধা পাবেন, তেমনি ভাড়াটিয়ারাও কম বিদ্যুৎ খরচের সুফল ভোগ করতে পারবেন। একথা পরিষ্কার যে পিএম সূর্য ঘর যোজনার মূল সুবিধাভোগী হলেন বাড়ির মালিকরা। তাই ভাড়াটিয়ারা সরাসরি এই প্রকল্পে আবেদন করতে না পারলেও, বাড়ির মালিকের মাধ্যমে সোলার বিদ্যুতের সুবিধা পেতে পারেন। ফলে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ খরচ কমাতে এবং পরিবেশ রক্ষায় এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

Advertisement

আবেদন করতে কী কী প্রয়োজন? 
এই প্রকল্পে আবেদন করার জন্য সাধারণত কয়েকটি নথি প্রয়োজন হয়। যেমন- আবেদনকারীর নামে বিদ্যুৎ সংযোগ, আধার কার্ড বা অন্য পরিচয়পত্র, ঠিকানার প্রমাণপত্র, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য, সোলার প্যানেল বসানোর জন্য উপযুক্ত ছাদ৷ আবেদন অনুমোদিত হলে সরকার নির্দিষ্ট পরিমাণ ভর্তুকি সরাসরি আবেদনকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠায়।
 

Read more!
Advertisement
Advertisement