
Post Office Scheme: মাত্র ৫ লাখ টাকার বিনিয়োগ। তাতেই প্রায় ১০ লাখ টাকা রিটার্ন। এমনই একটি স্কিম পোস্ট অফিসের 'কিষান বিকাশ পত্র' (KVP)। যাঁরা সিকিওর বিনিয়োগের অপশন খুঁজছেন, তাঁদের জন্য এই স্কিম বেশ ভাল। বর্তমানে এই স্কিমে বার্ষিক ৭.৫ শতাংশ হারে সুদ পাবেন। সেই সুদের মাধ্যমেই ১১৫ মাসে অর্থাৎ প্রায় ৯ বছর ৭ মাসে বিনিয়োগের টাকা দ্বিগুণ করতে পারবেন। সময়টা অনেক মনে হলেও, রিটার্ন কিন্তু একেবারেই মন্দ নয়। বিনা পরিশ্রমেই যদি সেভিংস ডাবল করে নেওয়া যায়, তাহলে ক্ষতি কী?
বিশেষত যাঁরা শেয়ার বাজার বা ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ করতে চান না, তাঁদের জন্য কিষান বিকাশ পত্র সেরা। কেন্দ্রীয় সরকারের গ্যারান্টি থাকায় টাকা ডোবার ভয়ও নেই।
এই স্কিমে ন্যূনতম ১ হাজার টাকা দিয়েই অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। সর্বোচ্চ বিনিয়োগের কোনও সীমা নেই। অর্থাৎ, ইচ্ছেমতো টাকা লগ্নি করা সম্ভব। সিঙ্গেল বা জয়েন্ট; দু'ভাবেই অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। এমনকি একজন ব্যক্তি একাধিক KVP অ্যাকাউন্টও রাখতে পারেন। ১০ বছরের বেশি বয়সি নাবালকের নামেও এই স্কিমে অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব।
কীভাবে টাকা দ্বিগুণ?
পোস্ট অফিসের এই স্কিমে সুদের হিসাব হয় চক্রবৃদ্ধি হারে। ধরুন, কেউ ১ লাখ টাকা লগ্নি করলেন। প্রথম বছরে ৭.৫ শতাংশ হারে সুদ মিলবে ৭,৫০০ টাকা। সেই সুদ আবার মূল টাকার সঙ্গে যোগ হয়ে যাবে। পরের বছরে নতুন অঙ্কের উপর সুদ গণনা হবে। এ ভাবেই বছর বছর টাকা বাড়তে থাকে।
৫ লাখ টাকা রাখলে?
হিসাব বলছে, ৫ লক্ষ টাকা রাখলে, প্রথম বছরের শেষে সেই অঙ্ক দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৫.৩৭ লাখ টাকা। দ্বিতীয় বছরে তা বেড়ে হচ্ছে প্রায় ৫.৭৭ লাখ। পাঁচ বছরে সেই টাকা ৭ লাখেরও বেশি হয়ে যাচ্ছে। আর ৯ বছর ৭ মাস শেষে প্রায় ১০ লাখ টাকা ফেরত পাবেন।
তবে এই স্কিমে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম রয়েছে। বিনিয়োগের ৩০ মাসের আগে সাধারণত টাকা তোলা যায় না। অর্থাৎ, দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের লক্ষ্য থাকলে তবেই এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করুন। জীবনের সমস্ত সঞ্চয় এখানে রাখবেন না। কিছুটা এমার্জেন্সি ফান্ড অবশ্য়ই তৈরি রাখবেন।
অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, গৃহবধূ কিংবা মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য পোস্ট অফিসের কিষান বিকাশ পত্র বেশ ভাল অপশন। ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিটের তুলনায় এখানে সুদের হারও তুলনামূলক বেশি।