
পোস্ট অফিস অ্যাকাউন্ট থাকলে বা পোস্ট অফিসের কোনও স্কিমে বিনিয়োগ করলে এখন থেকে প্যান কার্ড ছাড়া আর টাকা জমা বা তুলতে পারবেন না। আয়কর আইন, ২০২৬-এর অধীনে পোস্ট অফিসে একটি বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে যেকোনও আর্থিক লেনদেনের জন্য প্যান বাধ্যতামূলক হবে। এছাড়াও, একটি ফর্মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
পোস্ট অফিসের নতুন নির্দেশিকা অনুসারে, অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের এখন যেকোনও লেনদেনের জন্য তাদের প্যান কার্ড দিতে হবে, তারা পোস্ট অফিসের কোনও প্রকল্পে বা ইন্ডিয়ান পোস্ট পেমেন্টস ব্যাঙ্কে নথিভুক্ত থাকুন না কেন। টাকা জমা বা তোলার জন্য প্যান কার্ড বাধ্যতামূলক হবে।
এই পরিবর্তন কেন করা হল?
পরিবর্তিত নিয়ম অনুসারে, পোস্ট অফিস অ্যাকাউন্ট খোলা, টাকা জমা দেওয়া, উত্তোলন এবং ফিক্সড ডিপোজিটে বিনিয়োগ সহ বেশ কিছু লেনদেনের জন্য এখন প্যান নম্বর প্রদান করা বাধ্যতামূলক। এই আবশ্যকতাটি আয়কর বিধিমালা, ২০২৬-এর ১৫৯, ১৬০, ১৬১, ২১১ এবং ২৩৭ নং বিধির অধীনে পড়ে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা, উচ্চ-মূল্যের লেনদেন পর্যবেক্ষণ করা এবং পোস্ট অফিস সঞ্চয় নেটওয়ার্কের মধ্যে কর ফাঁকির সম্ভাবনা হ্রাস করা।
প্যান (PAN) না থাকলে কী হবে?
যাঁদের প্যান কার্ড নেই, তাঁদের জন্য নিয়মে একটি পৃথক পরিবর্তন আনা হয়েছে। আমানতকারীদের এখন থেকে ফর্ম ৬০-এর পরিবর্তে ফর্ম ৯৭ জমা দিতে হবে। এই ফর্মে আমানতকারীর নাম ও ঠিকানা, লেনদেনের ধরন এবং লেনদেন যাচাইকারী সহায়ক নথি অবশ্যই থাকতে হবে। প্যান নম্বর ছাড়া লেনদেনগুলো যেন কর ব্যবস্থায় সঠিকভাবে নথিভুক্ত হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য পোস্টঅফিসগুলোকে এই তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
পোস্ট অফিসের অধীনেও এই নিয়মগুলি পরিবর্তিত হয়েছে
আরেকটি পরিবর্তন হল ফর্ম 15G এবং 15H-কে একত্রিত করে সিঙ্গেল ফর্ম 121 করা। আগে সুদের উপর টিডিএসের টাকা কাটবে ৬০ বছরের কম বয়সীদের জন্য ফর্ম 15G এবং প্রবীণ নাগরিকদের জন্য ফর্ম 15H দাখিল করা হত। এখন থেকে শুধুমাত্র ফর্ম 121 দাখিল করতে হবে। এটি প্রতিটি আর্থিক বছরে অবশ্যই জমা দিতে হবে। এটি শুধুমাত্র তখনই প্রযোজ্য হবে যখন করদাতার আনুমানিক মোট করযোগ্য আয় শূন্য হবে। এই পরিবর্তনটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।