
বর্তমানে বাজার পরিস্থিতি যা, তাতে আপনি ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় না করলে পরে আফসোস করতে হবে। বেসরকারি কর্মচারী হন বা সরকারি কিংবা ব্যবসায়ী, সকলেই নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী বিনিয়োগ করার দিকে ঝুঁকছেন। ভবিষ্যতের কথা ভেবে বিভিন্ন টাকা ইনভেস্ট করছেন। কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রেই সকলের লক্ষ্য একটাই থাকে, কম বিনিয়োগে বড় রিটার্ন এবং নিশ্চিত রিটার্ন। পোস্ট অফিসের এমন একাধিক স্কিম রয়েছে, যেখানে আপনি বিনিয়োগ করলে দারুণ রিটার্ন।
পোস্ট অফিসের টাইম ডিপোজিট স্কিম
পোস্ট অফিসের তরফ একাধিক এমন স্কিম আনা হয়েছে যেখানে আপনি বিনিয়োগ করলে ব্যাপক রিটার্ন পাবেন এবং সেগুলো অবশ্যই নিশ্চিত এবং নিরাপদ। যাঁরা লং টার্ম বিনিয়োগ করতে চান তাঁরা পোস্ট অফিসের এই স্কিমে টাকা রাখতে পারেন, যেখানে পাবেন ডাবল রিটার্ন। সেই স্কিমটা কী কথা হচ্ছে পোস্ট অফিস টাইম ডিপোজিটের। বর্তমানে এই স্কিমে ৭.৫ শতাংশ রিটার্ন পাওয়া যাচ্ছে প্রতি বছর। এই স্কিমে গ্রাহকরা চাইলে ম্যাচিওরিটির পর বিনিয়োগ করা টাকার অঙ্কের পরিমাণ বাড়াতে পারে। এই সুবিধা সঠিক ভাবে ব্যবহার করলে বিনিয়োগ করা টাকার ডাবল রিটার্ন পেতে পারেন গ্রাহকরা।
স্কিমটি আসলে কী?
ধরা যাক আপনি ৫ লাখ টাকা রেখেছেন পোস্ট অফিস টাইম ডিপোজিটে। বার্ষিক রিটার্ন ৭.৫ শতাংশের হিসেবে হবে, অর্থাৎ ৫ বছর পর ২.২৫ লাখ ইন্টারেস্ট হিসেবে পাবেন। ফলে ম্যাচিওরিটির সময় টাকার হিসেব দাঁড়াবে ৭.২৫ লাখ টাকা।
মেয়াদ বাড়াতে পারেন
এবার আপনি যদি এই টাকা সেই সময় না তুলে আরও পাঁচ বছরের জন্য রেখে দেন, অর্থাৎ বিনিয়োগ করার মোট ১০ বছর পর টাকা তোলেন তাহলে সেই সময় ১০.৫১ লাখ টাকা রিটার্ন পাবেন। আর যদি টাকার অঙ্ককে ট্রিপল করতে চান আরও ৫ বছর রেখে দিন। মোট পনেরো বছর পর ৫ লাখ বিনিয়োগ করে পাবেন ১৫.২৪ লাখ টাকা।
৫ লক্ষ টাকা পাবেন কীভাবে?
আপনি ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ইন্টারেস্ট পাবেন এই স্কিমে টাকা রাখলে। এখন প্রশ্ন হল কীভাবে? এক্ষেত্রে ৫ বছরের জন্য একটা লাম্পসাম অ্যামাউন্ট ইনভেস্ট করতে হবে। তাহলেই পাবেন ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সুদ। ১২ লক্ষ টাকা আপনাকে ৫ বছরের জন্য ইনভেস্ট করতে হবে। তাতে ৭.৫ শতাংশ হারে সুদ পাবেন। টেনিয়র শেষে মিলবে মোট ১৭,৩৯,৯৩৮ টাকা। এক্ষেত্রে ইন্টারেস্টেই পাবেন ৫,৩৯,৯৩৮ টাকা। তবে একটু কম টাকা, ধরুন ৪.৫ লক্ষ টাকা ৫ বছরের জন্য ইনভেস্ট করলেন, তাহলে ৬,৫২,৪৭৭ টাকা পাবেন। শুধু ইন্টারেস্টেই মিলবে ২০২,৪৭৭ টাকা।