
সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য সরকার একাধিক স্কিম চালায়। আর এই স্কিমগুলির মধ্যে সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম অত্যন্ত জনপ্রিয়। এই স্কিমে নিয়মিত ইনকাম পাওয়া যায়। যার ফলে বয়সকালে অনায়াসে জীবনটা সামলে নেওয়া সম্ভব।
পোস্ট অফিসের এই স্কিম স্টক মার্কেটের 'আপ-ডাউনের' উপর নির্ভর করে না। বরং নিয়মিত ইনকাম দেয়। শুধু তাই নয়, এই স্কিমে আপনি ট্যাক্স থেকেও বাঁচতে পারবেন।
কত টাকা ইনভেস্ট করা যায়?
এই স্কিমে মোটামুটি ৩০ লক্ষ টাকা ইনভেস্ট করা যায়। অর্থাৎ স্ত্রী এবং স্বামী মিলে মোট ৬০ লক্ষ টাকা ইনভেস্ট করতে পারবেন। আপনি এবং পার্টনার মিলে যদি ২৫ লক্ষ টাকা এই স্কিমে ইনভেস্ট করেন, তাহলে প্রতিমাসে ভাল পরিমাণ টাকা শুধু ইন্টারেস্টেই পাবেন। তাই আর দেরি না করে জেনে নিন ঠিক কত টাকা রিটার্ন মিলতে পারে।
কত টাকা রিটার্ন?
ক্লিয়ার ট্যাক্সের হিসেব অনুযায়ী, মাত্র ২৫ লক্ষ টাকা ইনভেস্ট করলেই ভাল পরিমাণ টাকা শুধু ইন্টারেস্টে পাবেন। এক্ষেত্রে প্রতি বছর ৮.২ শতাংশ হারে সুদ মিলবে। এই হিসেবে ২৫ লক্ষ টাকার বার্ষিক ইন্টারেস্ট হতে পারে ২.০৫ লক্ষ টাকা। আরও সহজ করে বললে ৫১,২৫০ টাকা ক্রেডিট হবে প্রতি ৩ মাসে। মাসের হিসেবে ১৭,০৮৩ টাকা মিলবে। আর এই টাকাটা কম নয়।
এই অঙ্ক অনুযায়ী, ৫ বছরে শুধু ইন্টারেস্টেই মিলবে ১০.২৫ লক্ষ টাকার। পাশাপাশি ম্যাচুরিটির সময় ২৫ লক্ষ টাকাটাও ফেরত পেয়ে যাবেন। যার সহজ অর্থ দাঁড়াল, ৫ বছরে পেয়ে যাবেন ৩৫.২৫ লক্ষ টাকা। আর বয়সকালে এই টাকাটা খুব একটা কম নয়। এই টাকাটা আবার ইনভেস্ট করে দিলে নতুন করে ইন্টারেস্ট পেতে থাকবেন। তাই অত্যন্ত জনপ্রিয় এই স্কিম।
ট্যাক্সে ছাড়
সিনিয়র সিটিজনদের এই স্কিমে ট্যাক্সেও ছাড় মেলে। পুরনো ট্যাক্স রেজিমে ১.৫ লক্ষ টাকা ট্যাক্সে ছাড় পাবেন ৮০সি-এর অধীনে। তবে এই স্কিম এবং অন্যান্য স্কিমে যদি বছরে ৫০,০০০ টাকার বেশি সুদ মেলে, তাহলে টিডিএস কাটতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে প্যান দিলে ১০ শতাংশ টিডিএস কাটতে পারে। আর সেটা না দিলে ২০ শতাংশ টিডিএস দিতে হবে।
তবে আমাদের এই নিবন্ধ পড়েই বিনিয়োগ করবেন না। তার আগে নিজে খোঁজ খবর নিন। বিচার করুন। তাহলেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।