
Post Office SCSS Scheme:অবসর গ্রহণের পর আর্থিক দুশ্চিন্তা কমাতে আগে থেকেই বিনিয়োগ করা জরুরি বলে মনে করা হয়। অবসর গ্রহণের পরেও যদি আপনি নিয়মিত আয় চান, তবে পোস্ট অফিসের সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম (SCSS) ভাল বিকল্প হতে পারে। এই সরকারি স্কিমে এককালীন বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ১৭,০০০ টাকা আয় করা সম্ভব।
পোস্ট অফিস SCSS Scheme স্কিমটি বিশেষভাবে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো অবসর গ্রহণের পর নিয়মিত আয়ের উৎস প্রদান করা। এটি সরকার-পরিচালিত পোস্ট অফিস স্কিম হওয়ায়, আপনার বিনিয়োগের নিরাপত্তা সরকার কর্তৃক নিশ্চিত করা হয়। তাই, এটিকে কম ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগের বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই স্কিমের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর সুদের হার। পোস্ট অফিস SCSS বর্তমানে বার্ষিক ৮.২% হারে সুদ দিচ্ছে, যা অনেক ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিটের সুদের হারের চেয়ে বেশি । বিনিয়োগকারীরা অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য তাদের নিকটতম পোস্ট অফিসে যেতে পারেন।
SCSS-এ বিনিয়োগ শুরু করতে বড় অঙ্কের টাকার প্রয়োজন নেই। মাত্র ১,০০০ টাকা দিয়েই অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। একক অ্যাকাউন্টের জন্য সর্বোচ্চ বিনিয়োগের সীমা হল ১৫ লক্ষ টাকা এবং যৌথ অ্যাকাউন্টের জন্য ৩০ লক্ষ টাকা। সাধারণত ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিরা এই স্কিমের অধীনে একক বা যৌথ অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। স্বেচ্ছাবসর গ্রহণকারী ব্যক্তিদের জন্য অ্যাকাউন্ট খোলার বয়স ৫৫ বছরের বেশি এবং ৬০ বছরের কম হতে পারে। প্রতিরক্ষা পরিষেবা থেকে অবসরপ্রাপ্ত ৫০ বছরের বেশি এবং ৬০ বছরের কম বয়সী ব্যক্তিরাও বিনিয়োগ করতে পারেন।
পোস্ট অফিস SCSS স্কিমের মেয়াদ ৫ বছর । এই স্কিমের অধীনে করা বিনিয়োগ আয়কর আইনের ৮০সি ধারা অনুযায়ী ১.৫ লক্ষ পর্যন্ত কর ছাড়ের জন্য যোগ্য । তবে, বিনিয়োগকারী যদি নির্ধারিত সময়ের আগে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেন, তাহলে নিয়ম অনুযায়ী জরিমানা আরোপ করা হতে পারে।
সম্পূর্ণ হিসাব
এবার সম্পূর্ণ হিসাবটা বোঝা যাক। যদি ২৫ লক্ষ টাকা এককালীন ৮.২% সুদের হারে যৌথ অ্যাকাউন্টে বিনিয়োগ করা হয় , তাহলে সুদ বাবদ বছরে প্রায় ২,০৫,০০০ টাকা পাওয়া যাবে ।SCSS -এ সুদ ত্রৈমাসিকভাবে প্রদান করা হয়। সুতরাং, প্রতি তিন মাসে প্রায় ৫১,২৫০ টাকা আয় হবে। এর মানে দাঁড়ায় প্রতি মাসে প্রায় ১৭,০৮৩ টকা ।