
অনেকেই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আজও ফিক্সড ডিপোজিট বা FD-তেই ভরসা রাখেন। কিন্তু অল্প সুদের কারণে এদের মধ্যে বহু লোক ব্যাঙ্কে বিনিয়োগ করতে না চান। তবে সেই সমস্যা মেটাতে পারে পোস্ট অফিস টাইম ডিপোজিটে বিনিয়োগ। এটি আদতে পোস্ট অফিস FD নামেও পরিচিত। ১ থেকে শুরু করে ৫ বছরের জন্য মেয়াদে এই স্কিমে বিনিয়োগ করা যেতে পারে।
কোন মেয়াদে কত সুদ?
পোস্ট অফিসের এই স্কিমটি বিভিন্ন মেয়াদের জন্য আলাদা আলাদা সুদ দেয়। এক বছরের পোস্ট অফিস টাইম ডিপোজিটে ৬.৯ শতাংশ সুদ, ২ বছরের টাইম ডিপোজিটে ৭.০ শতাংশ সুদ, ৩ বছরের টাইম ডিপোজিটে ৭.১ শতাংশ সুদ এবং ৫ বছরের টাইম ডিপোজিটে ৭.৫% সুদ দেওয়া হয়। সাধারণ ভাবে এই সুদ ব্যাঙ্কের সুদের চেয়েও বেশি।
ব্য়াঙ্ক নাকি পোস্ট অফিস- কোথায় টাকা জমালে বেশি লাভ?
পোস্ট অফিস টাইম ডিপোজিট স্কিমের বিশেষত্ব হল, এর সুদ ত্রৈমাসিক এবং বার্ষিকভাবে দেওয়া হয়। ব্যাঙ্ক এফডি-র ক্ষেত্রে এমনটা হয় না। ব্যাঙ্কগুলো আরবিআই-এর রেপো রেটের ওপর ভিত্তি করে সুদ বাড়ায় বা কমায়। পোস্ট অফিস এফডি-তে সুদ বাড়ার সম্ভাবনা বেশি এবং কমার সম্ভাবনা কম। অন্যদিকে, ব্যাঙ্কের সুদের হার যে কোনও সময় ওঠানামা করতে পারে, যদিও একবার বিনিয়োগ করলে FD-র মেয়াদ পর্যন্ত একই সুদ পাওয়া যায়।
পোস্ট অফিস টাইম ডিপোজিট স্কিমে একটি বড় সুবিধা হল, এই স্কিমে সর্বনিম্ন মাত্র ১০০০ টাকা থেকে বিনিয়োগ করা যায়। পুরনো কর ব্যবস্থা অনুযায়ী, যারা এই প্রকল্পে ৫ বছরের জন্য বিনিয়োগ করেছেন, তাঁরা ৮০সি অনুযায়ী আয়কর ছাড়ের জন্য যোগ্য হিসেবে গণ্য।
সর্বোচ্চ ৫ বছরের জন্য এই প্রকল্প খোলা হলেও, এর মেয়াদ কিন্তু বৃদ্ধি করা যায়। এক বছরের মেয়াদ ৬ মাস, দুই বছরের মেয়াদ ১২ মাস এবং তিন বা পাঁচ বছরের প্রকল্পের মেয়াদ ১৮ মাস পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। যে কেউ এই প্ল্যানে নিজেদের বিনিয়োগ বাড়াতে পারেন।
৫০ হাজার টাকা জমালে কত পাবেন?
এই স্কিমে কোনও ব্যক্তি যদি ৫০ হাজার টাকা ৫ বছরের জন্য ফিক্সড করে দেন, সেক্ষেত্রে তিনি ৭.৫ শতাংশ সুদের হারে মোট ৭২ হাজার ৪৯৭ টাকা পাবেন। অর্থাৎ সুদ বাবদ তিনি আয় করবেন ২২ হাজার ৪৯৭ টাকা।