
বর্তমানে অনেকেই চাকরির পাশাপাশি পার্ট-টাইম বা অতিরিক্ত উপার্জনের পথ খুঁজছেন। এই পরিস্থিতিতে র্যাপিডো (Rapido) এবং উবার (Uber)-র মতো অ্যাপ-ভিত্তিক সংস্থাগুলির সঙ্গে যুক্ত হয়ে বাইক চালিয়ে রোজগারের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। অনেকেই দিনে কয়েক ঘণ্টা বাইক চালিয়ে বেশ ভাল টাকা উপার্জন করছেন। কিন্তু এই কাজে যুক্ত হতে আগ্রহী অনেকের মনেই নানা প্রশ্ন উঁকি দেয়- র্যাপিডো বা উবারে ঠিক কী ভাবে বাইক চালাতে হয়? এর জন্য কি শুরুতে টাকা জমা দিতে হয়? কী কী নথির প্রয়োজন হয় এবং আদতে রোজগার কত? ধাপে ধাপে, জেনে নিন।
প্রথমেই বলে রাখা ভাল, র্যাপিডো বা উবার কিন্তু, আপনাকে বাইক দেবে না। এখানে আপনার নিজস্ব বাইক ব্যবহার করতে হবে। আপনার যদি একটি বাইক এবং প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি থাকে, তবে খুব সহজেই আপনি এই সংস্থাগুলির সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। এর জন্য প্রথমে সংস্থার ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়।
কী কী নথির প্রয়োজন?
র্যাপিডোর ওয়েবসাইটের নিয়মাবলি অনুযায়ী, রেজিস্ট্রেশনের সময় বেশ কিছু জরুরি নথি জমা দিতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে:
আধার কার্ড
প্যান কার্ড
বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স
বাইকের রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (RC)
বাইকের বৈধ বিমা (Insurance)
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য
অনেক শহরে আবার পুলিশ ভেরিফিকেশনও করানো হয়। সমস্ত নথি সঠিক প্রমাণিত হলে আপনার অ্যাকাউন্ট চালু (Active) করে দেওয়া হয় এবং আপনি রাইড নেওয়া শুরু করতে পারেন।
কাজে যোগ দিতে কি টাকা লাগে?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, র্যাপিডো বা উবারে বাইক চালানোর জন্য কি শুরুতে কোনও টাকা জমা দিতে হয়? সাধারণত, এই সংস্থাগুলিতে যোগ দেওয়ার জন্য বড় কোনও ফি দিতে হয় না। তবে কিছু ক্ষেত্রে সংস্থার ব্যাগ, টি-শার্ট বা জ্যাকেটের জন্য সামান্য একটি 'সিকিউরিটি মানি' বা চার্জ নেওয়া হতে পারে। অনেক সময় কাজ ছাড়ার পর এই টাকা ফেরতও দিয়ে দেওয়া হয়। যদিও শহর ও সময়ের ভিত্তিতে এই নিয়মের রদবদল হতে পারে।
কাজটা ঠিক কী রকম?
র্যাপিডোতে মূলত বাইক-ট্যাক্সির কাজই বেশি হয়, অর্থাৎ, যাত্রীদের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পৌঁছে দেওয়া। অন্যদিকে, উবারে কিছু কিছু শহরে বাইক-ট্যাক্সির পাশাপাশি ডেলিভারির বিকল্পও থাকে। আপনার অ্যাকাউন্ট চালু হওয়ার পর মোবাইলে রাইডের রিকোয়েস্ট আসতে শুরু করে। আপনি সেই রিকোয়েস্ট গ্রহণ (Accept) করলে, যাত্রীকে তার গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব আপনার।
রোজগার কেমন হয়?
এই পেশার সঙ্গে যুক্ত সুনীল নামের এক চালক জানান, রোজগার পুরোপুরি নির্ভর করে আপনি দিনে কত ঘণ্টা কাজ করছেন এবং কোন শহরে বাইক চালাচ্ছেন তার ওপর।
বড় শহরগুলিতে চাহিদা বেশি থাকায় রোজগারও ভাল হয়। অনেকেই দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বাইক চালিয়ে ১০০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত উপার্জন করেন। যারা পার্ট-টাইম কাজ করেন, তারাও দিনে ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা সহজেই আয় করতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে, এর মধ্যে বাইকের তেলের খরচ এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচও অন্তর্ভুক্ত। সংস্থাগুলি অনেক সময় ইনসেনটিভ এবং বোনাসও দিয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, দিনে নির্দিষ্ট সংখ্যক রাইড সম্পূর্ণ করলে অতিরিক্ত টাকা মেলে। আবার বৃষ্টি, পিক-আওয়ার বা বেশি চাহিদার সময়ে আয়ের পরিমাণ বেশ খানিকটা বেড়ে যায়।
কাজের সুবিধা ও চ্যালেঞ্জ
বাইরে থেকে এই কাজটা যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে ততটা নয়। যানজট, প্রবল গরম, বৃষ্টি এবং ধুলো-ধোঁয়ার মতো প্রতিকূলতার মধ্যেই দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় বাইক চালাতে হয়। পাশাপাশি, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং সব সময় হেলমেট পরার মতো বিষয়গুলিতে কড়া নজর রাখা বাধ্যতামূলক।
তবে র্যাপিডো এবং উবারের মতো সংস্থার সঙ্গে কাজ করার সবচেয়ে বড় সুবিধা হল- সময়ের স্বাধীনতা। আপনি যখন খুশি লগ-ইন করে কাজ করতে পারেন এবং প্রয়োজন মতো ছুটিও নিতে পারেন। ঠিক এই কারণেই কলেজ পড়ুয়া, চাকরিজীবী এবং অবসর সময়ে রোজগার করতে চাওয়া মানুষজন এই পেশার দিকে ঝুঁকছেন।
আপনার কাছে যদি বাইক এবং প্রয়োজনীয় নথি থাকে, তবে এটি রোজগারের একটি চমৎকার বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। তবে কাজ শুরু করার আগে সংস্থার সমস্ত নিয়ম ও শর্তাবলি ভালভাবে পড়ে নেওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কোনও আইনি বা প্রযুক্তিগত সমস্যার মুখে পড়তে না হয়।