
গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষায় RBI সদা তৎপর থাকে। গ্রাহকদের টাকা যেন বেহাত না হয়, সেদিকে নজর রেখে সর্বদা কড়া নজরদারি চালায় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। বিশেষ করে RBI-এর স্ক্যানারে থাকে সেই সব ব্যাঙ্ক, যেগুলির আর্থিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বা যা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। ঠিক এমনই কারণে এবার পুদুচেরি কো-অপারেটিভ আরবান ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল RBI।
পুদুচেরি কো-অপারেটিভ আরবান ব্যাঙ্কের উপর বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। গ্রাহকদের উপরেও এরফলে চাপ পড়বে। কারণ, RBI-এর বিধিনিষেধের আওতায় জানানো হয়েছে, এই ব্যাঙ্কের গ্রাহকরা এখন থেকে তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা তুলতে পারবেন।
বুধবার একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরবিআই জানিয়েছিল, পুদুচেরি কো-অপারেটিভ আরবান ব্যাঙ্কের ওপর চাপানো বিধিনিষেধ ২১ অক্টোবর দিনের লেনদেন শেষ হওয়ার পর থেকে কার্যকর হবে। আগামী ৬ মাস এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। এই সময়ে ব্যাঙ্কটির আর্থিক অবস্থাও পর্যালোচনা করবে RBI।
ব্যাঙ্কের উপর কী কী বিধিনিষেধ রয়েছে?
RBI ব্যাঙ্কগুলির উপর যে যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, তার মধ্যে রয়েছে এই ৬ মাসে কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কটি কোনও ঋণের অনুমোদন বা রিন্যিউ করতে পারবে না। এমনকি এই ব্যাঙ্কটি এই সময়ের মধ্যে কোনও বিনিয়োগও করতে পারবে না। এছাড়াও, ব্যাঙ্কটি বিধিনিষেধ চলাকালীন ঋণ গ্রহণ বা নতুন আমানত গ্রহণও করতে পারবে না
৫০০০ টাকা তোলার লিমিট
এই বিধিনিষেধগুলির পাশাপাশি RBI জানিয়েছে, কোনও গ্রাহকের সেভিংস, কারেন্ট বা অন্য কোনও অ্যাকাউন্ট থেকে ৫ হাজার টাকার বেশি টাকা তোলা যাবে না। তবে, ব্যাঙ্কটি কর্মচারীদের বেতন, বাড়ি ভাড়া এবং বিদ্যুৎ বিলের মতো কিছু অত্যাবশ্যকীয় খরচ বহন করতে পারবে। উল্লেখ্য, RBI ব্যাঙ্কটির উপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। তবে লাইসেন্স বাতিল করেনি। ব্যাঙ্কটির আর্থিক অবস্থার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এটি এই বিধিনিষেধের আওতায় থেকেই কাজ করবে।
কেন RBI কঠোর অবস্থান নিল?
RBI জানিয়েছে, পুদুচেরি কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের অপারেশন উন্নত করার জন্য তারা ইতিমধ্যেই ব্যাঙ্কটির পরিচালনা কমিটি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছে। তা সত্ত্বেও, ব্যাঙ্কটি আমানতকারীদের উদ্বেগ দূর করতে বা তাঁদের স্বার্থ রক্ষায় কোনও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ব্যাঙ্কিং রেগুলেশন অ্যাক্ট, ১৯৪৯-এর প্রাসঙ্গিক ধারা অনুযায়ী এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।