
দেশে সয়াবিন সরবরাহ ঘাটতি পূরণ করতে বড় ব্যবস্থা নিয়েছে কেন্দ্র। বাজারে সয়াবিনের যাতে অভাব না হয়, সেই কারণে বিপুল পরিমাণ সয়াবিন আমদানিতে জোর দেওয়া হয়েছে। সয়াবিন প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (SOPA)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি তেল বর্ষ ২০২৫-২৬ (অক্টোবর ২০২৫ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬)-এর মধ্যে জুন মাস পর্যন্ত দেশে ৭.৭৭ লক্ষ টন সয়াবিন আমদানি করা হয়েছে। যেখানে গত বছর এই জুন মাস পর্যন্ত মাত্র ২ হাজার টন সয়াবিন আমদানি করা হয়েছিল। এর অর্থ হল চলতি বছরে আমদানি কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
SOPA-র তরফে জানানো হয়েছে, দেশে সয়াবিনের সীমিত সরবরাহের কারণে আমদানি বেড়ে গিয়েছে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, পুরো ২০২৫-২৬ তেল বর্ষে মোট সয়াবিন আমদানির পরিমাণ প্রায় ৯০০,০০০ টনে পৌঁছাতে পারে। এমনকি অভ্যন্তরীণ বাজারে সয়াবিনের দাম এবং সরবরাহের ওপর নির্ভর করে এই পরিমাণ আরও বাড়তেও পারে।
SOPA-র সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, এই মরশুমে মোট সয়াবিন উৎপাদনের পরিমাণ আনুমানিক ১১.০২৬ মিলিয়ন টন। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭.৭৫ মিলিয়ন টন বাজারে পৌঁছেছে। গত বছর এই সময়ে প্রায় ৮.৯ মিলিয়ন টন সয়াবিন বাজারে এসে গিয়েছিল। তবে এবছর সরবরাহ কম হওয়ায় বাজারে সরবরাহের চাপ রয়ে যাচ্ছে।
সরবরাহ কম থাকার জেরে সয়াবিন থেকে তৈরি সয়াবিন মিলের উৎপাদনও হ্রাস পেয়েছে। এই বছর অক্টোবর থেকে জুন পর্যন্ত সয়াবিন মিলের উৎপাদন ছিল ৬.৪৩১ মিলিয়ন টন, যেখানে গত বছর এর পরিমাণ ছিল ৬.৮৬৫ মিলিয়ন টন। এই সয়াবিন মিল পশুখাদ্য এবং বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে ব্যবহৃত হয়। রিপোর্ট বলছে, এ বছর সয়াবিন মিল রফতানিও কমেছে। গত বছরের ১৫৬ মিলিয়ন টনের তুলনায় এ বছর জুন মাস পর্যন্ত প্রায় ৯০.২ মিলিয়ন টন সয়াবিন মিল রফতানি করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে ব্যাপক চাহিদা এবং চড়া দামের কারণে রফতানি কমার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, দেশে সয়াবিন খৈলের ব্যবহার বেড়েছে। পশুখাদ্য শিল্পে এর চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। এই বছরের অক্টোবর থেকে জুন মাসের মধ্যে পশুখাদ্য খাতে প্রায় ৪৮ লক্ষ টন সয়াবিন খৈল ব্যবহৃত হয়েছে, যা গত বছর ছিল ৪৭ লক্ষ টন। খাদ্য খাতে এর ব্যবহার ছিল ৬৭ লক্ষ টন।
সয়াবিন আমদানি বৃদ্ধি এবং সয়াবিন মিলের রফতানি হ্রাস দেশের সয়াবিন বাজারকে প্রভাবিত করতে পারে। আগামী মাসগুলোতে কৃষক, ব্যবসায়ী এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প সয়াবিনের আমদানি, দাম এবং সরকারি নীতির ওপর কড়া নজর রাখবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কৃষক ও শিল্প উভয়ের লাভের জন্য অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা অপরিহার্য হবে।