
Retirement Planning Investment Tips: চাকরিজীবন থেকে অবসর নেওয়ার পর প্রতি মাসে একটা নির্দিষ্ট অঙ্কের নিয়মিত রোজগার থাকুক তা কে না চায়। সুখের কথা হলো এর জন্য যে প্রতি মাসে বিশাল অঙ্কের মাইনে পেতে হবে তার কিন্তু কোনও মানে নেই। যদি কম বয়স থেকেই একটা ছোট অঙ্কের এসআইপি শুরু করা যায় এবং প্রতি বছর তা একটু একটু করে বাড়িয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বিনিয়োগ বজায় রাখা যায় তবে অবসরের বয়সে পৌঁছে একটা মস্ত বড় ফাণ্ড তৈরি করে ফেলা কোনও অসম্ভব ব্যাপার নয়। পরবর্তীতে এই জমে থাকা ফান্ড থেকেই সিস্টেমেটিক উইথড্রয়াল প্ল্যান বা এসডব্লিউপির মাধ্যমে প্রতি মাসে একটা নিশ্চিত আয়ের ব্যবস্থা করে ফেলা সম্ভব।
ধরা যাক আপনি মাত্র ২৮ বছর বয়সে প্রতি মাসে ১০০০ টাকার একটি এসআইপি শুরু করলেন এবং প্রতি বছর সেই বিনিয়োগের পরিমাণ ১০ শতাংশ হারে বাড়িয়ে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত তা একটানা চালিয়ে গেলেন। এই দীর্ঘ সময়ে যদি গড়ে বার্ষিক ১২ শতাংশ হারেও রিটার্ন পাওয়া যায় তবে অবসরের সময় আপনার হাতে এক বিশাল ফাণ্ড তৈরি হয়ে যাবে। এই পুরো ৩২ বছরের বিনিয়োগের সময়সীমায় আপনার পকেট থেকে মোট ২৪ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা জমা পড়বে কিন্তু চক্রবৃদ্ধি বা কম্পাউণ্ডিংয়ের জাদুতে আপনার মোট মুনাফাই হবে প্রায় ৮০ লক্ষ ৯৮ হাজার টাকা যার ফলে অবসরের দিনে আপনার মোট ফাণ্ডের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা। এই কৌশলের আসল শক্তি হলো এসআইপি স্টেপ আপ কারণ প্রতি বছর চাকরির পাশাপাশি মানুষের বেতনও বাড়ে আর সেই অনুপাতে বিনিয়োগ বাড়ালে পকেটে বাড়তি চাপও পড়ে না অথচ ফাণ্ড বাড়ে ঝড়ের গতিতে। যদি পুরো ৩২ বছর ধরে বিনিয়োগের পরিমাণ মাত্র ১০০০ টাকাতেই আটকে থাকে তবে ১ কোটির ফাণ্ড গড়া বেশ কঠিন হবে তাই প্রতি বছর বিনিয়োগের অঙ্ক কিছুটা বাড়ানোই দীর্ঘ মেয়াদে আসল তফাত গড়ে দেয়।
অবসরের পর পুরো টাকা একসঙ্গে তুলে নেওয়ার কোনও প্রয়োজন থাকে না এবং এখানেই কাজে আসে এসডব্লিউপির ম্যাজিক। এই পদ্ধতিতে মিউচুয়াল ফাণ্ডে জমানো টাকা থেকে প্রতি মাসে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা আপনি তুলতে পারবেন এবং বাকি টাকা ফাণ্ডেই বিনিয়োগ করা থাকবে যার ওপর নিয়মে রিটার্নও মিলতে থাকবে। মনে করা যাক অবসরের পর আপনার কাছে ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার একটি ফাণ্ড রয়েছে এবং তা কোনও ডেট বা কনজারভেটিভ হাইব্রিড ফাণ্ডে বিনিয়োগ করা হলো। এবার এই ফাণ্ড থেকে যদি বার্ষিক ৬ শতাংশ হারেও রিটার্ন পাওয়া যায় এবং আপনি প্রতি মাসে ১ লক্ষ টাকা করে তুলতে থাকেন তবে টানা ১২ বছর পর্যন্ত আপনি এই নিয়মিত আয় পেয়ে যাবেন। এই ১২ বছরে আপনার পকেটে মোট ১ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকা চলে আসবে এবং টাকা তোলার পরেও ওই ফাণ্ড থেকে আনুমানিক আয় হবে ৪৩ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা অর্থাৎ নিয়মিত টাকাও মিলবে আর ফাণ্ডের মূল পুঁজিও এক লপ্তে শেষ হয়ে যাবে না। তবে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে ১২ শতাংশ বা ৬ শতাংশ রিটার্ন কিন্তু একেবারেই নিশ্চিত নয় কারণ বাজারের ওঠানামার ওপর এই রিটার্ন কম বা বেশি হতে পারে। অবসরের বয়স যত এগিয়ে আসবে নিজের বিনিয়োগের ওপর তত বেশি নজর দেওয়া জরুরি এবং সেই সঙ্গে ভবিষ্যতের মুদ্রাস্ফীতি বা মহার্ঘতার কথা মাথায় রাখা অত্যন্ত আবশ্যক কারণ আজকের দিনে ১ লক্ষ টাকার যে মূল্য তা আগামী দিনে স্বাভাবিকভাবেই এক থাকবে না।