
বিকল্প জ্বালানিতে জোর দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। তারই মধ্যে বড় পদক্ষেপ Royal Enfield এর। চেন্নাইয়ের রাস্তায় দেখা গেল একটি Classic 350-র টেস্ট মডেল চালিয়ে দেখা হচ্ছে। বাইকের গায়ে ‘E85 fuel’ লেখা। আর তাতেই শুরু হয়েছে জল্পনা। খুব শীঘ্রই কি বাজারে ফ্লেক্স-ফুয়েল Classic 350 আসছে? এমনিতে বাইকটি দেখতে প্রায় একইরকম। স্ট্যান্ডার্ড Classic 350 র সঙ্গে কোনও বড় পার্থক্য নেই। কিন্তু একটু খুঁটিয়ে দেখলেই ধরা পড়ছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিবর্তন। সবচেয়ে বড় ক্লু; ফুয়েল ট্যাঙ্কে ‘E85’ লেখা। অর্থাৎ, এই বাইকটি ইথানল-ব্লেন্ডেড জ্বালানিতে চলছে। নয়তো সেই অনুযায়ী টিউন করা হচ্ছে। এছাড়াও টেস্ট বাইকে অ্যালয় হুইল রয়েছে। বাইকের রঙও নতুন। এখনও বাজারে এই রঙ নেই ক্লাসিক থ্রিফিফটির।
Royal Enfield Classic 350 Flex Fuel E85 Ethanol Blend Spied Testing https://t.co/STAJB3qqBh pic.twitter.com/KnVeqe4ixO
এর থেকেই বিশেষজ্ঞদের অনুমান, সংস্থা আপাতত ইঞ্জিনে বড় কোনও মেকানিক্যাল পরিবর্তন আনছে না। বরং বিদ্যমান প্ল্যাটফর্মকে মানিয়ে নেওয়ার দিকেই জোর দিচ্ছে। উল্লেখ্য, Classic 350 তৈরি হয়েছে J-platform engine-এর উপর ভিত্তি করে। সেই ইঞ্জিনকেই ফ্লেক্স-ফুয়েলের জন্য অভিযোজিত করার কাজ চলছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এই সময়েই কেন্দ্রীয় স্তরে বড় নীতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। Ministry of Road Transport and Highways ইতিমধ্যেই E85 এবং E100 ধরনের উচ্চমাত্রার ইথানল জ্বালানি চালুর খসড়া নিয়ম তৈরি করছে। মূল লক্ষ্য— পেট্রোলের উপর নির্ভরতা কমানো এবং পরিবেশবান্ধব চলাচল বাড়ানো। ফলে বাজারেও প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে অটোমোবাইল সংস্থাগুলি।
যদিও এখনও পর্যন্ত Classic 350-এর ফ্লেক্স-ফুয়েল সংস্করণ নিয়ে সংস্থার তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবে এই টেস্ট মডেল অনেকটাই পরিষ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে। Classic 350 যেহেতু সংস্থার সবচেয়ে জনপ্রিয় মডেলগুলির একটি, তাই ভবিষ্যতের নির্গমন নীতির সঙ্গে তাল মেলাতে এই ধরনের আপডেট আনা যথেষ্ট যৌক্তিক বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমানে Classic 350-এ রয়েছে ৩৪৯ সিসির সিঙ্গল-সিলিন্ডার, এয়ার-কুলড ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিন থেকে প্রায় ২০ বিএইচপি শক্তি এবং ২৭ এনএম টর্ক পাওয়া যায়। ফিচারের তালিকায় রয়েছে LED পাইলট ল্যাম্প, রাউন্ড হেডলাইট, LED ইন্ডিকেটর ও টেললাইট, পাশাপাশি সংস্থার জনপ্রিয় Tripper নেভিগেশন সিস্টেম।
এই প্রকল্প এগোলে শুধু Classic 350-ই নয়, একই প্ল্যাটফর্মে তৈরি অন্যান্য বাইকেও এই প্রযুক্তি আসতে পারে। যেমন Royal Enfield Meteor 350, Royal Enfield Hunter 350 বা Royal Enfield Bullet 350-তেও ভবিষ্যতে ফ্লেক্স-ফুয়েল ভার্সন দেখা যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, আপাতত এটি একটি টেস্ট প্রোটোটাইপ হলেও, ছবিটা স্পষ্ট, ভারতে দুই-চাকার বাজারে বড় পরিবর্তনের মুখে দাঁড়িয়ে অটোমোবাইল সেক্টর।