
দেশের বড় বড় মেট্রো শহরগুলিতে একটি 3BHK ফ্ল্যাটের গড় দাম এখন ১.৫ কোটিরও বেশি। এত বেশি দাম হলেও সেই সব ফ্ল্যাটও বিক্রি হচ্ছে বহুল পরিমাণে। ফলে অনেকের মনেই প্রশ্ন- এত দামী ফ্ল্যাট কিনছেন কারা? সম্প্রতি এই বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম রেডিটে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সেখানে অনেকে মত দেন, এই ধরনের বাড়ি কেনার পিছনে বড় অঙ্কের হোম লোনের পাশাপাশি বাবা-মায়ের আর্থিক সহায়তাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সেই সব আলোচনায় উঠে এসেছে, এই ধরনের বাড়ির বেশিরভাগ ক্রেতাই আইটি এবং টেক সেক্টরে কর্মরত স্বামী-স্ত্রী। এক রেডিট ব্যবহারকারী একটি উদাহরণ দিয়ে লেখেন, বছরে ১২ লক্ষ বেতনের দুই আইটি কর্মী বিয়ের পর বাবা-মায়ের কাছ থেকে ২০-৩০ লক্ষ আর্থিক সাহায্য পান। এরপর বাকি প্রায় ১.২ কোটি টাকার জন্য হোম লোন নেন। এই ধরনের পরিবারে সাধারণত একজনের বেতনে সংসারের খরচ চলে। আর অন্যজনের প্রায় পুরো বেতনই মাসিক EMI-এ যায়।
যদিও মাসে প্রায় ১ লক্ষ EMI অনেক বড় অঙ্ক বলে মনে হয়, তবু অনেকের মতে সময়ের সঙ্গে বেতন ও পদোন্নতি বাড়ায় এই চাপ ক্রমশ কমে যায়। ব্যাঙ্ক ২০ থেকে ৩০ বছরের জন্য ঋণ দিলেও বাস্তবে বেশিরভাগ মানুষ এত দীর্ঘ সময় নেন না। বার্ষিক বোনাস, বেতন বৃদ্ধি এবং চাকরি পরিবর্তনের সময় পাওয়া বেতনবৃদ্ধির অর্থ ব্যবহার করে তাঁরা দ্রুত ঋণ শোধ করেন।
একজন দাবি করেন, 'বেশিরভাগ হোম লোনই ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে শোধ হয়ে যায়। ২০ বছর ধরে EMI দেওয়ার ধারণাটা অনেকটাই মিথ।'
বিশেষ করে বেঙ্গালুরুর মতো প্রযুক্তি-কেন্দ্রিক শহরগুলিতে অনেকেই সময়ে সময়ে অতিরিক্ত টাকা জমা করেন বা EMI-এর পরিমাণ বাড়িয়ে দেন। ফলে ৬ থেকে ১০ বছরের মধ্যেই ঋণ সম্পূর্ণ শোধ করে ফেলেন।
অন্যদিকে, বেঙ্গালুরুসহ বিভিন্ন মহানগরের ভালো এলাকায় একটি 3BHK ফ্ল্যাটের মাসিক ভাড়াই এখন ৫০,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকা। তাই অনেকের মতে, ভাড়া দেওয়ার বদলে কিছুটা বেশি অর্থ দিয়ে EMI পরিশোধ করাই দীর্ঘমেয়াদে বেশি লাভজনক।
একজন ব্যবহারকারী লেখেন, 'সময়ের সঙ্গে বেতন ও মূল্যস্ফীতি বাড়ে, কিন্তু হোম লোনের EMI একই থাকে। আজ যদি EMI-এর চাপ সামলাতে পারেন, তাহলে আগামী কয়েক বছরে সেটাই অনেক সহজ হয়ে যাবে।'
এই পুরো প্রক্রিয়ায় বাবা-মায়ের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে। পরিবারের সদস্যরা পুরো বাড়ির দাম না দিলেও, ডাউন পেমেন্ট, রেজিস্ট্রেশন বা ইন্টিরিয়রের খরচে বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা করে সন্তানদের প্রাথমিক আর্থিক চাপ অনেকটাই কমিয়ে দেন।