
দুর্গাপুজোর আর ৫০ দিনও বাকি নেই, সব জায়গায় পুজো নিয়ে শুরু হয়েছে তোড়জোড়। আর পুজোর ভিড় সামলাতে এবার কোমর কষছে শিয়ালদা ডিভিশনও। আসন্ন উৎসবের মরশুমের কথা মাথায় রেখে পুজোর ভিড়ে যাত্রীদের নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও স্বচ্ছন্দ যাতায়াত নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিল রেল। ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার রাজীব সাক্সেনা-র নেতৃত্বে একটি বৈঠকে এই সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর।
ভিড় নিয়ন্ত্রণ: শিয়ালদাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলিতে যাত্রী চলাচল, ব্যস্ত সময় এবং সম্ভাব্য ভিড়ের পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত মূল্যায়ন করা হচ্ছে। দেখা গিয়েছে, গত দুর্গাপুজোর সময় শিয়ালদা স্টেশনে একদিনে প্রায় ২১ লক্ষ যাত্রীর সর্বোচ্চ ফুটফল রেকর্ড করা হয়েছিল। যাত্রীদের চলাচল আরও মসৃণ করা এবং প্রবেশ ও বহির্গমনকারী যাত্রীদের পারস্পরিক ক্রস-মুভমেন্ট কমানোর জন্য ঢোকার গেট ও স্টেশন থেকে বাইরে যাওয়ার গেট পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
প্ল্যাটফর্ম ম্যানেজমেন্ট: অতিরিক্ত ভিড়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে প্ল্যাটফর্মভিত্তিক যাত্রী ধারণক্ষমতা, প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য এবং ট্রেন চলাচলের বিস্তারিত মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
২৪×৭ টিকিটিং পরিষেবা: শিয়ালদা ও কলকাতা স্টেশনের সমস্ত টিকিট কাউন্টার ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে। সকাল ও সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে অতিরিক্ত বুকিং ক্লার্ক মোতায়েন করা হবে, যাতে অতিরিক্ত যাত্রী ভিড় দক্ষতার সঙ্গে সামলানো যায়।
ATVM ও তাৎক্ষণিক টিকিট পরিষেবা: ২৪ ঘণ্টা ATVM পরিষেবা ও ফ্যাসিলিটেটর উপলব্ধ থাকবে। পাশাপাশি Hand-Held Terminals (HHTs)-এ সজ্জিত কর্মীদের যাত্রীদের ভিড়ের মধ্যে মোতায়েন করা হবে, যাতে ঘটনাস্থলেই টিকিট ইস্যু করা যায় এবং বুকিং কাউন্টারে দীর্ঘ লাইনের চাপ কমানো যায়।
পথনির্দেশ: শিয়ালদা স্টেশনে যাত্রীদের সহজে পথনির্দেশ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সাইনেজ এবং Train Information Boards (TIBs) -গুলিকে যথেষ্ট ভাবে কাজে লাগানো হবে।
CCTV নজরদারি: ভিড়ের ঘনত্বের উপর নজরদারি এবং কোনও সম্ভাব্য ভিড়ের পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য CCTV-ভিত্তিক নজরদারি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হবে।
লাইন ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ: RPF কর্মীরা যাত্রীদের লাইন ও চলাচল সক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন। এর পাশাপাশি সময়মতো পাবলিক অ্যানাউন্সমেন্ট এবং কমার্শিয়াল বিভাগের সমন্বয় নিশ্চিত করা হবে।
শিয়ালদায় পৃথক Mail/Express Zone: সদ্য চালু হওয়া Central Gate-কে Mail/Express যাত্রীদের জন্য পৃথক এন্ট্রি ও এক্সটি গেট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে স্টেশনের ভিতরে যাত্রীদের পারস্পরিক ক্রস-মুভমেন্ট কমবে।
দমদম স্টেশনে যাত্রী এলাকা বাড়ানো হবে: দমদম স্টেশনে প্ল্যাটফর্ম ৪ ও ৫-এর দিকে থাকা বুকিং কাউন্টারগুলি সরিয়ে আরও বড় যাত্রী এলাকা তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে পুজোর ভিড়ের সময় যাত্রী চলাচল আরও স্বচ্ছন্দ হবে।
ব্যারাকপুরে অতিরিক্ত টিকিটিং সিস্টেম: ব্যারাকপুর স্টেশনে নতুন তৈরি টিকিট বুকিং কাউন্টার রানাঘাট প্রান্তে FOB র কাছে , যা প্রায় সম্পূর্ণ, দ্রুত চালু করা হবে। এর ফলে সেন্ট্রাল FOB-এর উপর চাপ কমবে।
আধুনিক শৌচাগার পরিষেবা: যাত্রীদের সুবিধা, পরিচ্ছন্নতা ও উন্নত যাত্রী পরিষেবা নিশ্চিত করতে শিয়ালদা, বালিগঞ্জ ও দমদম স্টেশনে আধুনিক শৌচাগার কমপ্লেক্স তৈরির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বিধাননগর সাবওয়ের আপগ্রেড: বিধাননগর সাবওয়েতে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নমূলক কাজ করা হচ্ছে, যাতে যাত্রীদের চলাচল আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দ হয়।