
গতকাল হু হু করে বেড়েছিল শেয়ারবাজার। ইরান যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হতেই খুশির হাওয়া ছিল মার্কেটে। যদিও সেই আপট্রেন্ড একদিনও স্থায়ী হল না। বৃহস্পতিবারই ধপাস করে পড়ল ভারতের বাজার। সেনসেক্স এবং নিফটি, দুইয়ের অবস্থাই খারাপ।
আজ ৩০ শেয়ারের সেনসেক্স খোলার পরই মোটামুটি ৫৫০ পয়েন্ট পড়েছে। ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ বা নিফটিরও অবস্থা আজ খারাপ। আদানি পোর্টস, ইনফোসিস থেকে শুরু করে একাধিক বড় বড় সংস্থার শেয়ারের দাম পড়ছে।
সেনসেক্স, নিফটির কী হল?
বুধবারে প্রায় ৩০০০ পয়েন্ট লাফিয়েছিল সেনসেক্স। বৃহস্পতিবার মার্কেট খোলার সময়ই ২০০ পয়েন্ট পড়ে যায় সেনসেক্স। তারপর কিছুক্ষণের মধ্যেই আরও নেমে যায় শেয়ারবাজার। এটি ৫৫০ পয়েন্ট নেমে ৭৭,০০০-এর কাছাকাছি পৌঁছে যায়।
একই হাল নিফটিরও। ওপেনিংয়ের সময় এটা ৯০ পয়েন্ট পড়ে ২৩,৯০৯ পয়েন্টে পৌঁছে যায়। তারপর এটি আরও নেমে যায় ২৩,৮১৫ পয়েন্টে। যার ফলে বিনিয়োগকারীদের অনেক টাকা লস হয়।
আজ ১২৮৮ শেয়ারের অবস্থা খারাপ
এ দিন ১২৫৫ সংস্থার শেয়ার আজ গ্রিন জোনে রয়েছে। ও দিকে ১২৮৮ শেয়ার রয়েছে খারাপ জায়গায়। তারা আজ রেড জোনে। এছাড়া ১৭৪টি শেয়ারে আজ কোনও পরিবর্তন হয়নি। তারা ফ্ল্যাট থেকেছে।
এই সব স্টকের হাল খারাপ
আজ বড় বড় সব স্টকের হাল খারাপ। ইনফোসিস এবং আদানির মতো শেয়ার আজ অনেকটাই পড়েছে। এগুলি পড়েছে প্রায় ২ শতাংশ। এছাড়া ইন্ডিগো, এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক আগের দিনের লাভ মুছে ফেলেছে। এই দুই শেয়ারই আজ রেড জোনে শুরু করেছে।
এই সব স্টক বাদেও হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম, কোফোর্জ, ভারত ফোর্জের মতো শেয়ার মিড ক্যাপ সেকশনে নীচের দিকে নামছে। স্মলক্যাপ সেকশনে চোলা হোল্ডিং শেয়ার ৪ শতাংশ ও পিজিইএল শেয়ার ২.৫০ শতাংশ পড়েছে আজ।
কেন নামছে শেয়ারবাজার?
হঠাৎই শেয়ারবাজারের অবস্থা খারাপ। আর এমন পরিস্থিতির পিছনে আবার মধ্যপ্রাচ্যের অশান্তি রয়েছে বলেই খবর। আসলে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে ২ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। যদিও তারপরই আবার নতুন করে উত্তেজনা বাড়ে। ইরান হরমুজ বন্ধ করে দেয়। ওদিকে লেবাননে হামলা চালাতে থাকে ইজরায়েল। আর এমন অবস্থাতে আবার উত্তপ্ত হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য। সেই কারণেই ভারতের শেয়ারবাজার নিম্মমুখী।
তবে শুধু ভারত নয়, এর পাশাপাশি এশিয়ার একাধিক মার্কেট আজ রেড জোনে। এখন দেখার এই ক্র্যাশ কবে বন্ধ হয়।
বিদ্র: এই নিবন্ধটি পড়ে আবার স্টক কিনবেন না বা বিনিয়োগ করবেন না। এটি খবর দেওয়ার এবং শিক্ষার উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। এছাড়া নিজেও করুন রিসার্চ। তারপরই স্টকে করুন ইনভেস্ট।