
মোবাইলে সিম ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হতে হবে। কারণ, এটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে ইউপিআই, ওটিপি এবং আরও নানা ধরনের পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত থাকে। আর এই জন্যই বিষয়টা নিয়ে জনসাধারণকে সতর্ক করছে ভারতের টেলিকম বিভাগ বা ডিওটি। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। তারা জানিয়েছে, অন্যের নামে সিম কার্ড অ্যাক্টিভেট করা এবং টেলিকম আইডেন্টিফায়ারের ভুল ব্যবহারের জন্য ফৌজদারি মামলা হতে পারে। তাই ঝটপট আইনটা জেনে নিন।
কী নিয়ম রয়েছে আইনে?
এই বিষয়ে কড়া আইন রয়েছে। টেলিকমিউনিকেশন অ্যাক্ট, ২০২৩-এর সেকশন ৪২(৩)(ই)-তে কোনও ব্যক্তি জালি উপায়ে বা অন্যের পরিচয়ে যদি সিম কার্ড নেন, তাহলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এই অপরাধের জন্য তিন বছরের জেল হতে পারে। সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানা হতে পারে। এছাড়া এই দুটোই হতে পারে। মাথায় রাখতে হবে, ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানা হল সর্বোচ্চ শাস্তি। তবে এই শাস্তি সবার উপর আরোপ করা হয় না।
বিষয়টা আরও সহজে বুঝে নেওয়া যাক। ধরুন কোনও ব্যক্তি অন্য একজনের নথি জাল করে কোনও সিম ব্যবহার করছেন, তাহলে বিপদ। এমন পরিস্থিতিতে সিম কার্ডটি প্রতারণা করে তোলা হয়েছে বলে মনে করবে আইন। এমন পরিস্থিতিত এই আইন লাগু হতে পারে।
কীভাবে দেখবেন আপনার নামে কতগুলি সিম রয়েছে?
আপনার আধার কার্ডে কতগুলি সিম তোলা রয়েছে, এটা চেক করা খুবই জরুরি। আর এই বিষয়টা নিয়েও সাধারণ মানুষকে সচেতন করছে ভারত সরকার। তারা জানিয়েছে, সঞ্চার সাথী পোর্টাল বা অ্যাপ ব্যবহার করে আপনার নামে কতগুলি সিম কার্ড রয়েছে, সেটা জানা যেতে পারে। এক্ষেত্রে যাচাই করার সময় যদি দেখতে পারেন, অজান্তেই কোনও সিম আপনার নামে চালু রয়েছে, সেক্ষেত্রে অবিলম্বে রিপোর্ট করুন। এছাড়া আপনার ব্যবহার নম্বরটি নিজের নামে রয়েছে কি না, সেটাও দেখুন। অন্যের নামে চালু থাকলে সেটাও রিপোর্ট করে দিন। তাহলেই এই সমস্যার সহজ সমাধান করতে পারবেন।
মাথায় রাখতে হবে, বর্তমানে ডিজিটাল প্রতারণা অনেকটাই বেড়েছে। ডিজিটাল অ্যারেস্ট থেকে শুরু করে ব্যাঙ্ক থেকে টাকা উধাও সহ হাজারও প্রতারণা সামনে আসছে। আর এই সব ক্ষেত্রে ব্যবহার হচ্ছে মোবাইলের সিম। তাই সাবধান হতে হবে।