
স্মার্টফোন শুধু শখের জিনিস নয়। কাজ, ব্যাঙ্কিং, পড়াশোনা থেকে বিনোদন; সব কিছুতেই প্রয়োজন। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, মাসে ২০-৩০ হাজার টাকা আয় করেও কেউ ৮০ হাজার বা ১ লক্ষ টাকার ফোন কিনছেন। তাও আবার EMI-তে। পরে সেই EMI-এর চাপেই সেভিংসের দফারফা হচ্ছে। আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ফোন কেনার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট বাজেট মেনে চলা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের একাংশ ‘2-6-10 Rule’-এর কথা বলছেন। এই নিয়ম অনুযায়ী, ফোনের দাম ideally মাসিক বেতনের ৫০ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত নয়। EMI হলে তা ৬ মাসের বেশি টানা উচিত নয় এবং মাসিক EMI মোট আয়ের ১০ শতাংশের মধ্যে রাখা ভাল। আবার অনেক বিশেষজ্ঞ 50-30-20 budgeting rule-ও মানার পরামর্শ দেন। অর্থাৎ বেতনের ৫০% প্রয়োজনীয় খরচ, ৩০% ব্যক্তিগত খরচ এবং ২০% সঞ্চয় ও বিনিয়োগে রাখা উচিত।
তা হলে মাসিক বেতন অনুযায়ী কত টাকার ফোন কেনা উচিত? আসুন দেখে নেওয়া যাক।
মাসে ১৫ হাজার টাকা বেতন
এই আয় হলে বিশেষজ্ঞদের মতে ৭ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে ফোন কেনাই নিরাপদ। খুব বেশি হলে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত যাওয়া যেতে পারে।
মাসে ২০ হাজার টাকা বেতন
এই ক্ষেত্রে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকার বাজেটকে সবচেয়ে ব্যালান্সড বলা যেতে পারে। এই দামে ভাল ক্যামেরা, 5G এবং রোজকার ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট পাওয়ারফুল ফোনও পেয়ে যাবেন।
মাসে ৩০ হাজার টাকা বেতন
১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার ফোন এই স্যালারি রেঞ্জে সবচেয়ে ঠিকঠাক বলে মনে করছেন আর্থিক উপদেষ্টারা। যাঁদের কাজের জন্য ফোন বেশি ব্যবহার করতে হয়, তাঁরা ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত যেতে পারেন।
মাসে ৪০ হাজার টাকা বেতন
এই আয় হলে ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকার ফোন কেনা যেতে পারে। তবে ফোন নিয়ে আলাদা ফ্যাসিনেশন বা গেমিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশনের মতো কাজ না থাকলে এর বেশি দামী না কেনাই শ্রেয়। তবে যাঁরা নিয়মিত এই ধরনের কাজ করেন, তাঁরা ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করতে পারেন।
মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন
এই স্যালারিতে ২৫ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকার ফোনই সবচেয়ে স্মার্ট চয়েস মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রয়োজন হলে ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত যাওয়া সম্ভব। তবে ফোনের চক্করে যেন সেভিংস অ্যাকাউন্ট ফাঁকা না হয়, সে বিষয়টি মাথায় রাখবেন।