
ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে গোটা দেশজুড়ে বিতর্ক চলছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চেয়ে চলছে আন্দোলন। আর ঠিক এই সময়ই ভোটার তালিকা আপডেট করার জন্য বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধন (এসএসআর) ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে হবে এসএসআর। এখন প্রশ্ন হল, এসএসআর কী? এটায় আবার নতুন করে কী করতে হবে আপনাকে? আসুন জেনে নেওয়া যাক।
কোন কোন রাজ্যে হবে এসএসআর?
পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, গোয়া, মণিপুর, পঞ্জাব, বিহার, তামিলনাড়ু, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিসগঢ়, গুজরাত, কেরল, অসম, পুদুচেরি, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ও লাক্ষাদ্বীপে এসএসআর হবে।
কেন করা হচ্ছে?
কমিশনের তরফে জানান হয়েছে, এসএসআর-এর নতুন ভোটারের নাম তোলা, ভোটার তালিকার সংশোধন, মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া যাবে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এটাই এবারের এসএসআর-এর লক্ষ্য।
কী জানিয়েছে কমিশন?
জানা গিয়েছে, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে এই সংশোধনের কাজ শেষ করতে হবে। খসড়া তালিকা প্রকাশ পাবে ১২ নভেম্বর। এরপরে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হবে ২০২৭ সালের ৪ জানুয়ারি। এই তালিকা প্রকাশ পাওয়ার পরই ফেব্রুয়ারি মাসে উত্তরপ্রদেশ ও পঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচন হবে।
নাম বাদ নিয়েও বিরাট দাবি
কমিশন জানিয়েছেন, কোনও ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটারের দুই শতাংশ বা তার বেশি নাম বাদ দেওয়ার প্রস্তাব এলে সেখানে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে সিইও দফতর থেকে বিষয়টা খতিয়ে দেখা হবে। নির্বাচনী আধিকারিককে নিজে সব যাচাই করবেন।
এছাড়া একই পরিবারের সকলকে একই জায়গায় রাখতে বলা হয়েছে নতুন সংশোধনীর ক্ষেত্রে। এটাও একটা বড় উদ্যোগ।
আপনাকে কী করতে হবে?
যদি নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার বা কোনও তথ্য সংশোধন করার না থাকে, তাহলে কিছুই করতে হবে না।
ভোটার তালিকায় নাম তুলতে চাইলে নির্দিষ্ট কিছু ডকুমেন্টস দিয়ে ফর্ম ৬ জমা করতে হবে। আর সংশোধন করতে চাইলে নির্দিষ্ট ফর্ম ভরতে হবে। এছাড়া অন্য কোনও ভোটারের নাম নিয়ে অবজেকশন থাকলে ফর্ম ৭ ভরে জমা দিতে হবে। তবে সাধারণ ভোটারকে কিছু করতে হবে না।
রুটিন প্রক্রিয়া
কমিশন আরও জানিয়েছে, এসএসআর একবারেই এসআইআরের মতো প্রক্রিয়া নয়। এটি রুটিন প্রক্রিয়া। এটি প্রতি বছরই হয়। জানুয়ারি মাসে একটি সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে কমিশন। সেটাই হতে চলেছে। তাই এই নিয়ে বেশি মাথা ঘামানোর কিছু নেই।