
এবার পিএফ-এর টাকা তুলতে আর দীর্ঘ ফর্ম পূরণ বা অফিসে ঘুরতে হবে না। আগামী জুন মাস থেকেই এটিএম এবং ইউপিআইয়ের মাধ্যমে প্রভিডেন্ট ফান্ড তোলার নতুন সুবিধা চালু করতে চলেছে কেন্দ্র। এমনই বড় ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্য।
সরকারের লক্ষ্য, এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন বা ইপিএফও-কে পুরোপুরি ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা। এর ফলে পিএফ তোলার প্রক্রিয়া আগের তুলনায় অনেক সহজ ও দ্রুত হবে।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, নতুন ব্যবস্থায় অ্যাকাউন্টধারীরা তাঁদের মোট পিএফ জমার ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত এটিএম বা ইউপিআইয়ের মাধ্যমে তুলতে পারবেন। বাকি ২৫ শতাংশ টাকা অ্যাকাউন্টে বাধ্যতামূলকভাবে রেখে দেওয়া হবে, যাতে অবসরের জন্য কিছু সঞ্চয় বজায় থাকে।
সরকারের দাবি, এই পরিষেবা চালু হলে পিএফ তুলতে আর কাগজপত্র বা জটিল আবেদনপত্রের প্রয়োজন হবে না। আধার-ভিত্তিক ডিজিটাল যাচাইয়ের মাধ্যমে দ্রুত টাকা স্থানান্তর করা সম্ভব হবে।
শ্রমমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, ইপিএফও ২.০ এবং অটোমেটিক ক্লেইম সিস্টেমের কাজও দ্রুত এগোচ্ছে। আগে যেখানে পিএফ তোলার জন্য ১০-১২ কলামের দীর্ঘ ফর্ম পূরণ করতে হত, সেখানে এখন পুরো প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় করা হচ্ছে।
এছাড়াও, পিএফ পরিষেবাকে এবার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটবটের সঙ্গেও যুক্ত করা হচ্ছে। ফলে শুধুমাত্র একটি মেসেজ পাঠিয়েই গ্রাহকরা তাঁদের অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স, সুদের পরিমাণ, আগের উত্তোলনের তথ্য কিংবা অসুস্থতা বা বিয়ের কারণে টাকা তোলার যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে পারবেন।
তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ এই নতুন ব্যবস্থাকে ঘিরে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, এটিএম থেকে সহজে টাকা তোলার সুযোগ মিললে অনেকেই ঘন ঘন পিএফ ভাঙতে পারেন। এতে দীর্ঘমেয়াদে অবসরকালীন সঞ্চয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, পিএফ-এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল চক্রবৃদ্ধি সুদ। দীর্ঘদিন টাকা জমে থাকলে সেই সুদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। তাই প্রয়োজন ছাড়া বারবার পিএফ তোলা ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।