
Stock Market Explained: ব্যাঙ্কে টাকা রাখলেই কি ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত? মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সঞ্চয় বাড়াতে চান অনেকে। তাই শেয়ার বাজার ও মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়ছে। কিন্তু কোথা থেকে শুরু করবেন, কীভাবে টাকা লাগাবেন, ঝুঁকিই বা কতট, এই চিন্তায় পিছিয়ে আসেন। আসলে বিনিয়োগ শেখার জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই। কয়েকটি প্রাথমিক বিষয় বুঝলেই শুরু করতে পারবেন। তবে না বুঝে টাকা ঢাললে লোকসানের আশঙ্কাও রয়েছে।
১. শেয়ার কেনা
কোনও সংস্থার শেয়ার কেনা মানে সেই সংস্থার খুব ছোট অংশের মালিক হওয়া। সংস্থার ব্যবসা ভাল চললে শেয়ারের দাম বাড়তে পারে। তখন বিক্রি করে লাভের সুযোগ থাকে। আবার ব্যবসা খারাপ হলে বা বাজারে দর পড়লে লোকসানও হতে পারে। শেয়ারের দাম প্রতিদিন ওঠানামা করে। তাই অল্প সময়ে নিশ্চিত লাভের আশা করা ঠিক নয়।
২. মিউচুয়াল ফান্ড কীভাবে কাজ করে?
মিউচুয়াল ফান্ডে অনেক বিনিয়োগকারীর টাকা এক জায়গায় জমা হয়। সেই টাকা দিয়ে ফান্ড ম্যানেজার শেয়ার, বন্ড কেনেন। অর্থাৎ, নিজে প্রতিটি সংস্থার শেয়ার বেছে না কিনেও একসঙ্গে একাধিক জায়গায় বিনিয়োগের সুযোগ মেলে। তবে ফান্ডের মূল্যও বাজারের সঙ্গে ওঠানামা করে। এখানে লাভ নিশ্চিত নয়।
৩. এসআইপি কী?
এসআইপি বা সিস্টেম্যাটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যানের মাধ্যমে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করা যায়। যেমন, মাসে ৫০০ টাকা দিয়েও শুরু করা সম্ভব। নিয়মিত বিনিয়োগের ফলে বাজারের ওঠানামার প্রভাব কিছুটা সামলানো যায়। তবে এসআইপি কোনও আলাদা বিনিয়োগ নয়, এটি টাকা জমা দেওয়ার পদ্ধতি।
৪. ঝুঁকি বুঝে টাকা লাগান
ইকুইটি ফান্ডে ঝুঁকি বেশি। ডেট ফান্ডে তুলনায় কম হতে পারে, কিন্তু ঝুঁকি একেবারে নেই এমন নয়। কত দিন টাকা রাখতে পারবেন এবং লোকসান হলে কতটা সামলাতে পারবেন, তা বুঝে সিদ্ধান্ত নিন।
৫. অন্যের কথা শুনে বিনিয়োগ নয়
বন্ধু, আত্মীয় বা সমাজমাধ্যমের পরামর্শে অন্ধ ভাবে টাকা লাগাবেন না। ফান্ডের খরচ, ঝুঁকি, অতীতের রিটার্ন এবং বিনিয়োগের লক্ষ্য পড়ুন। জরুরি সঞ্চয়ের টাকা শেয়ার বাজারে ঢালবেন না।
কিছু না বুঝলে আগে শিখুন। ঝুঁকি বুঝতে না চাইলে বা সময় দিতে না পারলে মিউচুয়াল ফান্ড এড়িয়ে চলাই ভাল। প্রয়োজনে সেবি-রেজিস্টার্ড বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। হঠাৎ করে টাকা বিনিয়োগ শুরু করবেন না।