
পশ্চিমবঙ্গে প্রচুর ভুয়ো রেশন কার্ড রয়েছে বলে দাবি করছে বিজেপি সরকার। সেই মতো কার্ড বাতিল করার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। অনেক জায়গায় এই কাজটা করার জন্য এসআইআর-এর লিস্টকেই হাতিয়ার করেছে সরকার বলে জানা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে যাঁদের নাম এসআইএর-এর লিস্ট থেকে বাদ গিয়েছে, তাঁদের কার্ডও বাতিল করা চলছে বলে অভিযোগ। যদিও সরকারে এহেন সিদ্ধান্তই এবার প্রশ্নের মুখে পড়ে গেল। এবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে যে এসআইআর বা ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন থেকে নাম বাদ পড়লেও রেশনের মতো সরকারি জনকল্যাণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
আর দেশের শীর্ষ আদালতের এহেন মৌখিক পর্যবেক্ষণে কিছুটা হলেও ব্যাকফুটে চলে গেল পশ্চিমবঙ্গ সরকার বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এখন দেখার সরকার এই বিষয়ে ঠিক কী সিদ্ধান্ত নেয়।
সুপ্রিম কোর্টে একাধিক আবেদন
পশ্চিমবঙ্গে পালাবদল হয়েছে। ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি সরকার। তারপর রাজ্যে একাধিক কড়া নিয়ম চালু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এমনকী রেশন নিয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছে রাজ্যের খাদ্য দফতর।
৪ জুন রাজ্য সরকারের একটি নির্দেশিকায় জানান হয়, এসআইআর-এ বাদ যাওয়া ব্যক্তিরা রেশনের সুবিধা পাবে না। কিন্তু এই নির্দেশিকার বিরুদ্ধে একাধিক আবেদন জমা পড়ে সুপ্রিম কোর্টে।
এমনই একটি আবেদন জমা দেন মহিবুল্লা মণ্ডল। তিনি এসআইআর-এ নাম বাদ যাওয়ার বিরুদ্ধে ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন। এই আবেদনের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত যাতে রেশন কার্ড বাতিল না হয়, এই দাবি করেন।
আর সেই বিষয়টা নিয়েই নিজেদের পর্যবেক্ষণ জানায় সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতিরা জানান, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলেও প্রাপ্য জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে। যদিও মহিবুর মণ্ডলের মামলাটির ক্ষেত্রে আলাদা করে কোনও নির্দেশ দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট। বরং একটি সার্বিক পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
নাগরিকত্ব হারানো নয়
এসআইআর-এ নাম বাদ যাওয়ার পরই অনেকে মনে করছেন, তাঁদের ভারতের নাগরিকত্ব চলে গিয়েছে। যদিও সেই ভ্রম দূর করল সুপ্রিম কোর্ট। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিল, ভোটার লিস্টে নাম না থাকা মানেই নাগরিকত্ব চলে যাওয়া নয়।
সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলার শুনানিতে জানায়, নির্বাচন কমিশন কাউকে নাগরিকত্ব দিতে বা কেড়ে নিতে পারে না। কমিশনের অধিকার শুধুমাত্র ভোটার লিস্ট নিয়ন্ত্রণ করা এবং সেটা পর্যবেক্ষণ করা।