
সোমবার বড় পতন দেখেছে ভারতের শেয়ারবাজার। তারপরও দেশের প্রথম সারির আইটি কোম্পানিগুলির স্টক লাফিয়েছে। এ দিন সেনসেক্স ও নিফটি রেড জোনে রয়েছে। তবে টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস (টিসিএস), ইনফোসিস, এইচসিএলটেক এবং এলটিআইমাইন্ডট্রি-এর স্টক ভাল পারফর্ম করেছে। তাতেই দীর্ঘদিন ধরে চাপের মুখে থাকা আইটি সেক্টরে ফের বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সকাল প্রায় ১১টা ৯ মিনিটে বিএসই সেনসেক্স ১৭৭ পয়েন্ট বা ০.২৩ শতাংশ পড়ে ৭৭,৩৯২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর নিফটি ৬২ পয়েন্ট বা ০.২৬ শতাংশ নেমেছে। এটি ২৪,১৪৫-এ ট্রেড করছিল। তবে সেই সময় টিসিএস ৩ শতাংশের বেশি ও এইচসিএল টেক প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। সেই সঙ্গে ইনফোসিস ও এলটিআইমাইন্ডট্রি-এর শেয়ারও ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
কেন আইটি শেয়ারে ফিরছেন বিনিয়োগকারীরা?
এই বিষয়টা নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছে বিনিয়োগকারীরা। গত কয়েক মাসে আইটি শেয়ারগুলির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। ফলে অনেক বিনিয়োগকারী এখন তুলনামূলক কম দামে ভাল মানের শেয়ার কেনার সুযোগ হিসেবে এই পরিস্থিতিকে দেখছেন।
আসলে আমেরিকায় টেকনোলজি সেক্টরে ব্যয় কমতে পারে, এই আশঙ্কার জেরে ভারতীয় আইটি সংস্থাগুলির উপর চাপ তৈরি হয়েছিল। যেহেতু ভারতীয় সফটওয়্যার রফতানিকারকদের সবচেয়ে বড় বাজার আমেরিকা, তাই সেখানে কর্পোরেট সংস্থাগুলির প্রযুক্তি ক্ষেত্রে খরচ কমার আশঙ্কায় আইটি শেয়ারগুলি হুড়মুড়িয়ে পড়তে থাকে।
ফলে টিসিএস, ইনফোসিস সহ একাধিক নামী আইটি শেয়ার এখনও তাদের ৫২ সপ্তাহের সর্বোচ্চ দামের তুলনায় অনেক নীচে রয়েছে। অনেক বিনিয়োগকারী তাই এই সময় কম দামে স্টকগুলি কিনে ফেলতে চাইছেন।
টাকার দামে দুর্বলতা
ভারতের বড় আইটি সংস্থাগুলির আয়ের বড় অংশই আসে মার্কিন ডলারে। কারণ, তাদের অধিকাংশ গ্রাহক বিদেশে, বিশেষ করে উত্তর আমেরিকায়।
আর টাকার তুলনায় ডলারের দাম বাড়লে একই পরিমাণ ডলার ভারতীয় মুদ্রায় বেশি টাকায় রূপান্তরিত হয়। আর সেটাও আইটি সংস্থাগুলির জন্য খেলা ঘুরিয়েছে।
খারাপ সময় কাটছে
অনেক বিনিয়োগকারীর মতে, আইটি সেক্টর নিয়ে অতিরিক্ত নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল। কমেছিল শেয়ারের দাম।
তবে এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। অনেকেরই বিশ্বাস, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে পারে। যার ফলে স্টক কেনার হিড়িক।মাথায় রাখতে হবে, টিসিএস, ইনফোসিস এবং এইচসিএল টেক-এর মতো সংস্থাগুলিতে লক্ষ লক্ষ মানুষ কাজ করেন। এই কোম্পানিগুলির আয়ের বড় অংশ আসে আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের কাছ থেকে। তাই আইটি শেয়ারের ওঠানামা শুধু শেয়ারবাজার নয়, ভারতের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
এখন কি কেনা উচিত?
সোমবারের ট্রেন্ড অনুযায়ী আপাতত পজিটিভ জায়গায় রয়েছে আইটি স্টক। তবে এই গতি দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করবে আগামী কোয়ার্টারের আর্থিক ফলাফলের উপর। এছাড়া সংস্থাগুলির ম্যানেজমেন্ট কী বলে, তাদের খরচ কেমন হয়, এই সব বিষয়গুলি বিরাট প্রভাব ফেলবে স্টকের দামের উপর। তাই এখন শেয়ার কেনা বা বেচার আগে অবশ্যই রিসার্চ করুন। পরামর্শ নিন বিশেষজ্ঞদের। তারপরই সিদ্ধান্ত নেবেন।
বিদ্র: এই নিবন্ধটি পড়ে বিনিয়োগ করবেন না। তার আগে নিজে রিসার্চ করুন। পারলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। তাহলেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।